৬ িনিট আগের আপডেট বিকাল ১:২৩ ; শুক্রবার ; ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৪
EN Download App
Youtube google+ twitter facebook
×

প্লিজ, হু মিংদের দেখে শিক্ষা নিন মরিয়মরা?

বরিশালটাইমস রিপোর্ট
৮:০৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৭

ভালোবাসা, মায়া-মমতা, পরিবার-পরিজন, সম্মান এবং দায়িত্ববোধ- এদের কখনো কোনো রং হয় না, ধর্ম হয় না, দেশ হয় না। সব দেশের, সব ধর্মের ভালোবাসা, মায়া-মততা, পরিবার-পরিজন এক। ঠিক একই ধরণের।

আপনি বাংলাদেশে বাস করলে যেমন আপনার ভেতর ভালোবাসা, মায়া-মমতা থাকবে আবার আমেরিকা বসবাস করলেও এই ভালোবাসা, মায়া-মমতা থাকবে। আপনি বাংলাদেশে জন্মালে যেমন পরিবার থাকবে, মা-বাবা থাকবে, দায়িত্ববোধ থাকবে তেমনি আমেরিকায় জন্মালেও থাকবে।

একজন মানুষের বিবেক থাকবে। মন থাকলে সুন্দর চিন্তা-ধারা থাকবে। সে আপনি যে দেশেরই হন না কেন! আপনার ভেতরে বিবেক, মানবতাবোধ কেমন হবে সেটা আপনি নিজেই বুঝতে পারেন, করতে পারেন- সেটা কিন্ত আপনার দেশ বা ধর্ম দিয়ে হবে না।

কথাগুলো বলছিলাম একটা অন্য কারণে। প্রথম আলোর একটা নিউজ ‘মাকে নিয়ে পড়াতে এলেন অধ্যাপক’ (২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭) চোখে পড়লো। সত্যিকারের পড়ার মতো একটা নিউজ ছিলো। নিউজটা পড়লাম আর ভাবলাম মানুষ এমন হয়? সত্যি মানুষ এমন হয়? সন্তান কি এদেরই বলে?

আমাদের ইসলাম ধর্মে একটা হাদিস আছে। একটা লোক মহানবীর (সা.) কাছে এলেন। সেই লোকটা জানতে চাইলেন, তার মা-বাবা দুইজনই আছে কিন্তু তিনি শুধু একজনের সেবা করতে চান। এখন তিনি কার সেবা করবেন? মহানবী (সা.) বললেন, ‘তোমার মায়ের’. লোকটা আবার জিজ্ঞেস করলো, ‘কার?’ মহানবী (সা.) বললেন, ‘তোমার মায়ের’ এমন ভাবে লোকটা চার বার মহানবীকে (সা.) একই প্রশ্ন করলেন। মহানবী (সা.) তিনবার মায়ের কথা বলে শেষবার বাবার কথা বলেছেন। তিনবার মায়ের কথা বলেছেন আর একবার বাবার। এ থেকেই মায়ের সেবার গুরুত্ব বোঝা যাচ্ছে।

চীনের এই শিক্ষকের মায়ের প্রতি দায়িত্ব আর ভালোবাসা দেখে আমার এই হাদিসটির কথা মনে পড়ে গেলো। আমার বার বার মনে হচ্ছে মহানবীর (সা.) হাদিসটি সম্পূর্ণ সার্থক করেছেন এই শিক্ষক। মহান এই শিক্ষকের গল্প পড়তে পড়তে আমার অন্য এক শিক্ষকের কথাও মনে পড়ে গেলো।

কয়েকদিন আগে মিডিয়া কাঁপানো ঘটনা ছিল ভিক্ষুক মা মনোয়ারা বেগমকে নিয়ে। সেই মায়ের একমাত্র কন্যা মরিয়ম সুলতানাও একজন শিক্ষক। একটি প্রায়মারি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। মা কেন ভিক্ষুক হলেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষিকা কন্যার যুক্তি ছিল, নিজের সংসার সামলিয়ে মায়ের খোঁজ নেয়ার সময় পান না। হায় রে মেয়ে!

আলোচিত সেই মা দরদী মহান শিক্ষক হু মিং চীনেরই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক। তিনি মায়ের সেবার জন্য নিজেকে ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প দেখতে পান না। এই লাইনটি চোখে যতবার পড়ে ততোবারই পানি চলে আসে। বারবার নিজের মনে প্রশ্ন জাগে, মানুষ এতো ভালো হয় কীভাবে? এতোটা দায়িত্ববান হন কীভাবে?’ পৃথিবীতে সন্তান তো এমনই হওয়া উচিত।

আর বাংলাদেশের অসহায় সেই মা মনোয়ারা বেগমের কিন্তু পাঁচ সন্তান। একমাত্র মেয়ে এতো ব্যস্ত যে মাকে দেখার সময়ই পান না। তিন পুলিশ কর্মকর্তা ছেলে তো দেশসেবায় এতো ব্যস্ত থাকেন যে মাকে একনজর দেখারও সময়ই নেই। সারাদিন মানুষকে নিরাপত্তা দিতে, অপরাধীদের পেছনে ঘুরতে ঘুরতেই পার হয় সময়। আরেক ছেলে ব্যবসায়ী। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেই বেশি সময় দেন। আর সবচেয়ে ছোট ছেলে মার কাছ থেকে জমি লিখে নিয়েছেন অভাবের দোহাই দিয়ে। তিনি তো নিজের সংসার চালাতেই হাবুডুবু খান। মাকে মাঝে মধ্যে দেখেন বটে, তবে চিকিৎসার ব্যয় মেটাবার সাধ্য নেই যে!

মাকে অবহেলার খোঁড়া যুক্তির ধারেকাছেও নেই হু মিং। তিনি মায়ের একমাত্র ছেলে। তবে প্রমাণ করেছেন দায়িত্ববোধ থাকলে অজুহাত সেখানে শূন্য। আমি বলছি না মনোয়ারা বেগমেকে তার ছেলে-মেয়েরা সঙ্গে করে নিয়ে ঘুরে বেড়াক। আমি বলছি, তারা তো তিনবেলা তিনমুঠো ভাত আর একটু আশ্রয় দিতে পারতো গর্ভধারিণী মাকে। আর দেখুন, হু মিং মায়ের যত্ন করা নিয়ে ছোট বোনদের ওপর নির্ভর করতে পারেন না।

এখানেই প্রশ্ন এসে যায়, মনোয়ারা বেগমের পাঁচ সন্তান মিলে কেন তাদের মায়ের দায়িত্ব নিতে পারলেন না? আসলেই কি সাধ্য নাই তাই? নাকি দায়িত্ববোধহীনতা?

সত্যি, দিন দিন আমাদের মধ্য থেকে সৌজন্যতাবোধ, কৃতজ্ঞতাবোধ, দায়িত্ববোধ সব উঠে যাচ্ছে। অনেকের চলেও গেছে। মনোয়ারা বেগমের পাঁচ সন্তান তারই উধাহরণ। আর হু মিংরা আমাদের পৃথিবীর অসহায় মায়েদের আশীর্বাদ, দৃষ্টান্ত। তারা আছে বলেই এখনো দুনিয়াতে মায়া-মমতা টিকে আছে। এরা বেঁচে থাকুক সব অপশক্তিকে পরাজিত করে। অনেক অনেক ভালোবাসা আর শুভকামনা হু মিংদের জন্য।

কলাম

আপনার ত লিখুন :

 
ভারপ্রাপ্ত-সম্পাদকঃ শাকিব বিপ্লব
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮ | বরিশালটাইমস.কম
বরিশালটাইমস মিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।
ইসরাফিল ভিলা (তৃতীয় তলা), ফলপট্টি রোড, বরিশাল ৮২০০।
ফোন: +৮৮০২৪৭৮৮৩০৫৪৫, মোবাইল: ০১৮৭৬৮৩৪৭৫৪
ই-মেইল: barishaltimes@gmail.com, bslhasib@gmail.com
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮
টপ
  টাকা ভাগাভাগির দ্বন্দ্বে ৩ দিন পর দাফন হলো মরদেহ  বরিশালে স্বাচিপের পকেট কমিটি বাতিলের দাবিতে সড়ক অবরোধ  এসএসসি পরীক্ষার্থীর অভিভাবকের কাছ থেকে ঘুস গ্রহণকালে ধরা কর্মকর্তা  শীর্ষস্থান দখলে নিতে দুপুরে মাঠে নামছে বরিশালের বিপক্ষে মাঠে নামছে কুমিল্লা  যুবককে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর ঘটনায় এসআই প্রত্যাহার  দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে হবে: ডা. দীপু মনি  জার্মানি সফরকালে নির্বাচন নিয়ে কেউ কথা বলেনি: শেখ হাসিনা  লিবিয়ায় আটক ১৪৪ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন  শবে বরাতের আগেই চড়ল মাংসের বাজার  বাড়ছে না চিনির দাম, সিদ্ধান্ত বাতিল