২৫শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

ফেঁসে যেতে পারেন মেয়র কামাল!

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০১:৩৫ পূর্বাহ্ণ, ০১ অক্টোবর ২০১৬


বিসিসির নানা কাজে দুর্নীতির ফিরিস্তি
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে, তালিকায় রয়েছে ছেলে রুপমের নামও, আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা


বরিশাল: নানান দুর্নীতির অনুঘটক বরিশাল সিটি কর্পোরেশন মেয়র আহসান হাবিব কামাল তাহলে কী মসনদ ছাড়া হতে যাচ্ছেন এমন একটি গুঞ্জন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। বিগত সময়ে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ফিরিস্তি এখন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অপেক্ষমান। খুব শীঘ্রই বিসিসি মেয়র কামালের দুর্নীতির সার্বিক বিষয়াদি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনা হবে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।’ কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছেÑ দুর্নীতির অভিযোগ শুধু কামালের বিরুদ্ধেই নয়, রয়েছে পুত্র কামরুল আহসান রুপমের বিরুদ্ধেও। একই সাথে সেই ফিরিস্তিতে তৎকালীন নির্বাহী কর্মকর্তা রনজিৎ কুমারের নামও বিদ্যমান।

সূত্রমতে বৃহস্পতিবার রাতে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাবেক বিএনপি নেতা আহসান হাবিব কামালের দুর্নীতি বিষয়টি আলোচনায় আসে। এমনকি কামালের দুর্নীতির ফিরিস্তির পাশাপাশি তার একমাত্র পুত্র কামরুল আহসান রুপমের বিষয়টিও সামনে চলে আসে।  কারণ সম্প্রতি বরিশাল নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যান সংলগ্ন শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জন্য একটি ‘গ্রীন সিটি’ পার্ক নির্মাণ করে সিটি কর্পোরেশন।

প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেই পার্কটি মেয়র পুত্র কামরুল আহসান রুপম ও এক ঠিকাদার সন্ধিচুক্তিতে করেণ। কিন্তু পার্কটি নির্মাণের ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি ও নিুমানের কাজ হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। মূলত এই পার্ক নির্মাণসহ বাবা ছেলের বহু দুর্নীতির অভিযোগ জমা পরে সংশি¬ষ্ট মন্ত্রণালয়ে। তাছাড়া বিগত সময়ে মেয়র কামালের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে চলতি বছরের জুন মাসে তা তদন্তে আসে স্থানীয় সরকার পল¬ী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি। ওই কমিটির নেতৃত্বে থাকা অতিরিক্তি সচিব (প্রশাসন) সৌরেন্দ্র নাথ দুর্নীতির তদন্তের পাশাপাশি তৎকালীন সময়ের বিসিসির নির্বাহী কর্মকর্তা রনজিৎ কুমার ও মেয়র কামালকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে।

এমনকি সেই সময় বিসিসির সকল কাগজপত্রাদি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখেন। সেই কমিটির ঢাকায় ফিরে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার সপ্তাহখানেকের মাথায় নির্বাহী কর্মকর্তা রনজিৎ কুমারকে বদলি করা হয়। যদিও এই কর্মকর্তাকে বদলির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে কোন কিছু অবহিত করেনি। তবে ধারণা করা হয়েছিলÑ মেয়রের সাথে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার কারণেই তাকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। অবশ্য সেই সময় আরও ধারণা করা হয়েছিল মেয়র কামালও ফেঁসে যেতে পারেন। কিন্তু কামাল ক্ষমতাসীন আ’লীগের একটি মহলের সাথে আঁতাত করে এতোদিন মসনদটি দখলে রেখেছেন।

এমনকি চেয়ার ঠিক রাখতে গিয়ে বিএনপি  দায়িত্বশীল কামাল পর্যায়ক্রমে রাজনীতিবিমুখ হয়ে পড়েন। যে কারণে তিনি দলীয় ঘরনার কাউন্সিলরদেরকে বিসিসিতে কোণঠাসা করে গড়েছেন আ’লীগ পন্থীদের সাথে সখ্যতা। ফলে এখানকার বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মী কামালের ওপর ছিলেন ক্ষুব্ধ। মেয়রের বিষয়ে সংসদীয় কমিটি বসবে এমন গুঞ্জন বরিশালে ছড়িয়ে পড়ায় খোদ দলীয় নেতাকর্মীদেরও স্বস্তি দিয়েছে। তাছাড়া এই দুর্নীতির ফিরিস্তিতে একমাত্র পুত্র রুপমের নাম আসায় কামাল মানুসিকভাবে অস্বস্তিতে রয়েছে বলে তার ঘনিষ্ট একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। কিন্তু নীরবে চালিয়ে যাচ্ছেন একের পর এক কৌশল কীভাবে এ দফা রক্ষা পাওয়া যায়। এই মিশন বাস্তবায়ন করতে তিনি আ’লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ধরছেন বলেও জানা গেছে।’

এমতাবস্থায় কামালের মসনদ দখল রাখতে কতটা সফলভাবে তা এখন আলোচ্চ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার রাতের বৈঠকে স্থানীয় সরকার পল¬ী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি দখিনা আ’লীগের কর্ণধর সাংসদ আবুল হাসানাত আব্দুল¬াহ বিষয়টি খুব শীঘ্রই দেখার কথা জানান। ফলে অনুমেয় যে এবার যেহেতু বিষয়টি সংসদ পর্যন্ত গড়িয়েছে তাতে কামাল ফেঁসে যাওয়ার সম্ভবনাই বেশি।

বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সার্বিক বিষয়াদি নিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব এ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ারের সাথে আলোচনায় মিলিত হয়েছেন। কিন্তু কামাল প্রশ্নে সরোয়ার আগে থেকেই ছিলেন ক্ষুব্ধ। কারণ মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরপরই রাজনীতিতে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ার পাশাপাশি সরোয়ারপন্থীদের সাইড করে রাখেন। অথচ কামালকে নির্বাচনে জয়ী করার ক্ষেত্রে সরোয়ার এবং তার অনুসারিরাই দিনরাত মাঠে কাজ করেছেন। এমনকি নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর অনুসারিদের হামলার শিকার হয়েছিলেন সরোয়ার। কিন্তু কামাল মসনদে বসার পর বোল পাল্টে ফেলে সরোয়ার অনুসারিদের রাখে সাইডে। ফলে সরোয়ার অনুসারিদের মধ্যে ক্রমশই ক্ষোভের সঞ্চার হয়। যে কারণে এখন কামাল সরোয়ারের কাছে পাত্তা পাচ্ছে না বলে একাধিক নেতাকর্মী জানিয়েছে।’

8 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন