১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

ফের বিতর্কে এমপি আউয়াল

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৪:৩৬ অপরাহ্ণ, ২৯ নভেম্বর ২০১৬

বরিশাল: এবার মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের পরীক্ষা নেয়ার জন্য নিয়োগ বোর্ডে চিহ্নিত রাজাকারপুত্রকে বসিয়ে নয়া বিতর্ক সৃষ্টি করলেন পিরোজপুর জেলা আ’লীগের সভাপতি একেএম আউয়াল এমপি। ক্ষমতাসীন দলীয় নেতার এমন ভূমিকা গোটা জেলায় স্বাধীনতা স্বপেক্ষ মানুষের মধ্যে বিরুপ ধারণা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে এই ঘটনার প্রতিবাদে জেলা সদরে মানববন্ধন করে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড। তাছাড়া স্থানীয় সুশিল সমাজেও একজন সাংসদের এমন ভূমিকায় তোলপাড় চলছে। যদিও এমপি আউয়াল এই ঘটনা ছাড়াও একাধিক বিতর্কিত কর্মকান্ড করে বিগতদিনে বেশ সমালোচিত হয়েছিলেন।

অভিযোগ উঠেছে-  ক্ষমতাধর আ’লীগ নেতা পিরোজপুর-১ আসনের এমপি আউয়াল প্রভাব খাটিয়ে রাজাকারপুত্রকে তার প্রতিনিধি হিসেবে মননীত করেছেন। মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান মুক্ত ফকির পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের থানা কুনিয়ারি গ্রামের রাজাকার আব্দুস সোবাহানা ফকিরের ছেলে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে এই রাজাকার পাকিস্তানি আলবদরদের সঙ্গ নিয়ে স্থানীয় স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর ব্যাপক বর্বরতা চালায়। এমনকি তার সহযোগিতায় নারীদের ইজ্জত লুন্ঠন করা হয়। কিন্তু তিনি মারা গিয়ে বেঁচে গেছেন। না হলে এখন কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতো।

আর সেই কুখ্যাত রাজাকারপুত্রকে একজন এমপি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কোঠায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষকপদে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডে মনোনীত করেছেন। এটা আ’লীগের জন্য লজ্জাজনক বিষয়। কিন্তু এসব বিষয়াদি সংশি¬ষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানলেও এমপির লোক বলে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস দেখাচ্ছে না। যেকারণে বিষয়টি লুকোচাপা ছিল। তবে সোমবার জেলা সদরে আয়োজিত মানববন্ধনের মাধ্যমে বিষয়টি চাউর হয়ে যায়। চরম সমালোচনার মুখে পড়েছেন এমপি আউয়াল। এখন এ অঞ্চলে এই বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়েছে। এমতাবস্থায় অনুষ্ঠিত সেই মানববন্ধনে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহবায়ক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মন্টুসহ ক্ষমতাসীন দলীয় অনেক নেতা অংশ নেয়ায় এখন আউয়াল বিষয়টি নিয়ে বেকায়দায় রয়েছেন।

সূত্রমতে, চলতি বছরের ২৪ মে মুক্তিযোদ্ধা কোঠায় প্রাথমিক শিক্ষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিরোজপুর জেলা শিক্ষা অফিস। সেই বিজ্ঞপ্তির পর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা আবেদন করার পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়। উত্তীর্ণ ২৬৩ জনের মৌখিক পরীক্ষা গত ২৬ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। মূলত সেই পরীক্ষা বোর্ডে রাজাকারপুত্র কামরুজ্জামান মুক্তা ফকিরকে দেখেই সংক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে স্বাধীনতার স্বপেক্ষ শক্তি অর্থাৎ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। কুখ্যাত রাজাকারপুত্র কিভাবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের পরীক্ষা নেয় এমন একটি প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে। তাছাড়া এমপি আউয়ালও বা আ’লীগ দলীয় নেতা হয়ে কোন বিবেচনায় রাজাকারপুত্রকে প্রতিনিধি করলেন এমন প্রশ্নবানে তিনিও জর্জরিত। এমতাবস্থায় অভিযোগ রয়েছে এই রাজাকারপুত্র এমপির কাছের লোক হিসেবে গোটা জেলায় পরিচিত।

এমনকি তাকে আ’লীগের একটি পদেও বসিয়েছেন আউয়াল। স্থানীয় বেশ কয়েকজন আ’লীগ নেতা জানান, এমপি আউয়াল এই ঘটনার মধ্যদিয়ে ফের বিতর্কের সৃষ্টি করলেন। যদিও এমপি আউয়াল তার প্রতিনিধি কামরুজ্জামান মুক্তা ফকিরকে আ’লীগ দলীয় নেতা দাবি করে সকল অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মানববন্ধন করে যারা অভিযোগ তুলেছে তারা একটি স্বার্থ হাসিল করতে চেয়েছিল। কিন্তু ব্যর্থ হওয়ায় রাজনৈতিকভাবে ছোট করতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছে। তাছাড়া যারা মানববন্ধনে মাঠে নেমে অভিযোগ তুলেছে তাদের মধ্যে অনেককেই জোর করে দাড় করানো হয়েছে বলে দাবি এমপি আউয়ালের। এই বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় যে চলছে তা খোদ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ মজুমদারও স্বীকার করলেন। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলীয় এমপির প্রতিনিধি বলে তিনি বিষয়টির বিরোধীতা করতে সাহস পাননি বলে শোনা গেছে।

16 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন