২৮শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

বগুড়ার সেই কলেজছাত্রীর বস্তাবন্দি লাশ বরিশালে উদ্ধার

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৬:৫৭ অপরাহ্ণ, ০২ জুন ২০২১

বগুড়ার সেই কলেজছাত্রীর বস্তাবন্দি লাশ বরিশালে উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, গৌরনদী >> বগুড়া সদরের সাব গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফের কন্যা ও বগুড়া সৈয়দ আহম্মেদ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী নাজনিন আক্তারকে (২৪) গৌরনদীতে প্রথম বেড়াতে এনে হত্যা করেছে স্বামী সেনা সদস্য সাকিব হোসেন। হত্যার পর সাকিব লাশ সেপটিক ট্যাংকর মধ্যে গুম করে বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেয়। মঙ্গলবার দিন ভর পুলিশ লাশ উদ্ধারের চেষ্টা করে ট্যাংক সেচ করে লাশের আংশিক আলামত ও ওড়না উদ্ধার করতে পারলেও লাশটি উদ্ধার করতে পারছিল না। অবশেষে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ বুধবার দুপুর ২টায় বাটাজোর কাটাগাছতলা নামক স্থানের খালের ওপারে ধানক্ষেত থেকে নিহত কলেজছাত্রী নাজনিন আক্তারের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে। হত্যার ১০দিন পর লাশ উদ্ধার করা হল।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ বরিশালটাইমসকে জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুকে) বগুড়া জাহাঙ্গীরবাদ ক্যান্টনমেন্টর সেনা সদস্য সাকিব হোসেনের (২৪) সঙ্গে বগুড়া সদরের সাব গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফের কন্যা ও বগুড়া সৈয়দ আহম্মেদ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী নাজনিন আক্তারের (২৪) পরিচয় হয়। পরে প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ে হয়। বিয়ের ৬ মাস পরে স্ত্রী নাজনিন আক্তারকে প্রথম গৌরনদীতে বেড়াতে এনে হত্যা করে লাশ সেফটিক ট্যাংক ফেলে গুম করে সেনা সদস্য স্বামী সাকিব হোসেন। মঙ্গলবার দিনভর বগুড়া সদর থানা পুলিশ গৌরনদী পুলিশের সহায়তায় ঘাতক স্বামীর দেওয়া তথ্যমতে ভাড়াটিয়া বাড়ির সেপটিক ট্রাংকে লাশ উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে নিহতের লাশের অংশ বিশেষ, ব্যবহৃত ওড়না ও মুঠোফোন আলামত হিসেবে উদ্ধার করলে লাশ উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন। বগুড়া সদর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার না করেই খুনি সাকিব হোসেনকে নিয়ে মঙ্গলবার রাতে বগুড়া ফিরে যান।

গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি/তদন্ত) মোঃ তৌহীদুজ্জামান জানান, বগুড়া পুলিশ কর্তৃক মঙ্গলবারের অভিযান ব্যর্থ হওয়ার পরে ওই দিন রাতে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ ঘাতক সাকিব হোসেনরে বাবা ভ্যানচালক করিম হাওলাদারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত গৌরনদীর বাটাজোর বন্দরের মুদি দোকানদার মোঃ সরোয়ার ফকিরকে (৩৫) আটক করে থানায় এনে জ্ঞিাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তাকে (সরোয়ারকে) ২৪ ঘণ্টার মধ্যে করিম হাওলাদার সম্পর্কে তথ্য উদঘাটনের জন্য সোর্স হিসেবে দায়িত্ব দেন। সোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার দুপুর ২টায় বাটাজোর কাটাগাছতলা নামক স্থানের খালের ওপারে ধানক্ষেত থেকে নিহত কলেজছাত্রী নাজনিন আক্তারের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

উদ্ধার লাশটি নিহত বগুড়া কলেজছাত্রীর লাশ নিশ্চিত করে তিনি আরও বলেন (ওসি তদন্ত) কলেজছাত্রীকে হত্যা করে সেফটিক ট্যাংকে রেখেছে খুনি সেনা সদস্য সাকিব হোসেনের দেওয়া তথ্য সঠিক ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে সাকিবের বাবা ভ্যানচালক করিম হাওলাদার, তার স্ত্রী বিথি বেগম, কন্যা ও সহযোগীদের নিয়ে সেফটিক ট্যাংক থেকে লাশ তুলে পলিথিনের চিনির বস্তা ও পরে ছালার বস্তায় ভরে দ্বিতীয় দফায় লাশ সরিয়ে ফেলে। সাকিবের বাবা, মা বোন এখনো পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ আবুল কালাম আজাদ বরিশালটাইমসকে জানান, বগুড়া জাহাঙ্গীরবাদ ক্যান্টনমেন্টর সেনা সদস্য ও বাবুগঞ্জ উপজেলার নতুনচর জাহাপুর গ্রামের ভ্যানচালক করিম হাওলাদারের পুত্র সাকিব হোসেনের (২৪) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় হয় বগুড়া সদর উপজেলার সাব গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফের কন্যা ও বগুড়া সৈয়দ আহম্মেদ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী নাজনিন আক্তারের (২৪) সঙ্গে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তারা গোপনে শরীয়ত মোতাবেক এবং ওই বছর ১ অক্টোবর নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তারা গোপনে বিয়ে করে। বিয়ের কাবিননামায় প্রতারক সেনা সদস্য সাকিব হোসেন প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে নিজের গ্রাম জালোকাঠি, পোঃ আগৈলঝাড়া, থানা গৌরনদী, জেলা বরিশাল উল্লেখ করে।

গত ৩ মে সাকিব এক মাসের ছুটি নেন এবং বগুড়া স্ত্রীর বাড়িতেই অবস্থান করেন। ২৪ মে সকালে সাকিব স্ত্রীকে জানান বাবা গুরুতরভাবে অসুস্থ বাবা মা তাকে দেখতে চান বলে নাজনিনের বাড়ির কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হন। ওই দিন (২৪ মে) বিকেলে পরিবারের লোকজন তাদের দেখতে না পেয়ে মুঠোফোনে ফোন করলে সাকিব একেক সময় একেক কথা জানান। রাত ১১টার দিকে নাজনিনের পরিবার ফোন দিলে স্বামী -স্ত্রীর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ২৬ মে সকালে বিষয়টি কলেজছাত্রীর বড় ভাই আহাদ বগুড়া সদর থানায় লিখিতভাবে অবহিত করলে পুলিশ বগুড়া জাহাঙ্গীরবাদ ক্যান্টনমেন্টকে জানান এবং সে ২৭ মে ন্জনিনের বড় ভাই আহাদ বগুড়া জাহাঙ্গীরবাদ ক্যন্টনমেন্ট লিখিতভাবে অভিযোগ করেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে ক্যান্টনমেন্ট কর্তৃপক্ষ সেনা সদস্য সাকিবের ছুটি বাতিল করে ২৮ মে কর্মস্থলে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। ওই দিন হাজির হলে তাকে আর্মি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে স্ত্রী নাজনিনকে হত্যার কথা স্বীকার করে।

নিহতের বড় ভাই ও বগুরা স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা আবুল আহাদ (৩০) বলেন, সাকিব বিয়ের কাবিননামায় মিথ্যা ঠিকানা ব্যবহার করেছে। তার বাবা এলাকার একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি এবং গ্রামে তাদের ৫ তলা বাড়ি আছে বলে ছোট বোন নাজনিকে জানিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে শ্বশুর বাড়ি এসে জানতে পারেন ওর বাবা হতদরিদ্রভ্যান চালক এ নিয়ে ঝগড়া হলে ২৪ মে রাতে ১২টায় বোনকে হত্যা করে।’

10 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন