১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

বধ্যভূমি রক্ষার দাবিতে বাবুগঞ্জে মহাসড়কের পাশে অবস্থান কর্মসূচি

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০১:১০ অপরাহ্ণ, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

বাবুগঞ্জে স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরেও উদ্ধার হয়নি পাকবাহিনীর হাতে নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবীসহ কয়েক হাজার শহীদের স্মৃতিবিজড়িত প্রতাবপুর বধ্যভূমি। এখনো সেখানে গড়ে ওঠেনি কোন স্মৃতিস্তম্ভ। এমনকি পাকিস্তানী হানাদারদের বর্বর নৃশংসতার স্বাক্ষী হয়ে থাকা কয়েক হাজার শহীদের গণকবরটি এখনো পায়নি সরকারি কোনো স্বীকৃতি।

এমন নিদারুণ বাস্তবতায় এবার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে সোচ্চার হয়েছেন এলাকাবাসী। গঠন করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটি। উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের বরিশাল ক্যাডেট কলেজ সংলগ্ন প্রতাবপুর বধ্যভূমি উদ্ধার ও এর স্মৃতি সংরক্ষণের দাবিতে গতকাল ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকার সর্বস্তরের জনতা। বৃহস্পতিবার মহাসড়কের সাতমাইল বাসস্ট্যান্ডে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির যৌথ উদ্যোগে দিনভর ওই অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কমিটির উপদেষ্টা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী ইমদাদুল হক দুলাল। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির আহবায়ক মাধবপাশা ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন হাওলাদারের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের বরিশাল জেলা সভাপতি আবুল কালাম মোল্লা, স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির সম্পাদক আব্বাস উদ্দিন মোল্লা, জসিম উদ্দিন তালুকদার জুয়েল, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সম্পাদক আবু সুফিয়ান, প্রেসক্লাব সভাপতি আরিফ আহমেদ মুন্না, বীর মুক্তিযোদ্ধা আফসার উদ্দিন জমাদ্দার, আলী হোসেন, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক ফকির, সাবেক ইউপি সদস্য মোশারেফ হোসেন খান, মাহাবুব সিকদার, আওয়ামী লীগ নেতা কালাম জমাদ্দার, খোরশেদ আলম নান্টু, ছাত্রলীগ নেতা আলামিন হোসেন তন্ময়, যুবলীগ নেতা নয়ন হাওলাদার, জাহিদুল ইসলাম পলাশ, মোঃ তুহিন প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে বরিশাল ক্যাডেট কলেজে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীরা তাদের ঘাঁটি স্থাপন করে। ক্যাডেট কলেজের আর্মিক্যাম্পের পেছন দিকে প্রতাবপুরে ছিল তাদের বিভীষিকাময় টর্চার সেল। সেখানে ৯ মাসের যুদ্ধকালীন সময়ে বাবুগঞ্জ ও আশেপাশের উপজেলা থেকে ধরে আনা মুক্তিযোদ্ধা, তাদের সহায়তাকারী ও বুদ্ধিজীবীদের নির্মম নির্যাতনের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হতো।

সেদিনের ঘটনার শিকার হওয়া প্রত্যক্ষদর্শী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক ফকির জানান, প্রতাবপুর বধ্যভূমিতে মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবীসহ কয়েক হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়। অক্টোবর মাসের একদিনেই ধরে আনা শতাধিক মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাসফায়ারে এবং বেয়নেট দিয়ে পেট কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। গুলির পরে বেয়নেট দিয়ে কুপিয়ে সকলের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও শরীরে দগদগে ক্ষত নিয়ে সৌভাগ্যক্রমে সেদিন বেঁচে যান তিনি। মৃত ভেবে পাকসেনারা সেদিন তাকে প্রতাবপুরের ওই বধ্যভূমির ডোবার মধ্যের গণকবরে ফেলে দেয় বলে জানান শামসুল হক ফকির।

13 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন