১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

বরগুনার সেই ইমামের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৫:৩৮ অপরাহ্ণ, ০৩ নভেম্বর ২০১৬

বরগুনার কেন্দ্রীয় (সদরঘাট) জামে মসজিদের বিতর্কিত সেই ইমাম মো. জাহিদুল ইসলামের (৪৫) বিরুদ্ধে পবিত্র হজের নামে প্রতারণার অভিযোগ দিয়ে মামলা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। বরগুনা শহরের কেজি স্কুল সড়কের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী ভুক্তভোগী রিফাত আরা মুকুল আজ বৃহস্পতিবার সকালে বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলাটি আমলে নিয়ে বরগুনা সদর থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাইনুল হক।

ভুক্তভোগী রিফাত আরা মুকুল মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করেন, স্বামী-স্ত্রী একত্রে পবিত্র হজে যাবেন বলে তারা লামরাস অ্যাভিয়েশন নামের একটি ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। ওই ট্রাভেল এজেন্সির চাহিদানুযায়ী সব কাগজপত্র এবং টাকা-পয়সা সময়মতো পরিশোধ করেন তাঁরা। কিন্তু ট্রাভেল এজেন্সি লামারাস অ্যাভিয়েশন ও এর  কমিশনপ্রাপ্ত দালাল বরগুনার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের বিতর্কিত পেশ ইমাম মো.  জাহিদুল ইসলাম তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে প্রতারণার মাধ্যমে চলতি বছর তার বৃদ্ধ স্বামী মো. আনোয়ার হোসেন মাস্টারকে গাইড ভিসায় পৃথক দলে হজে পাঠান। অন্যদিকে, স্ত্রী রিফাত আরা মুকুলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার মাহরাম (বৈধ অভিভাবক) সেজে হজে যান ঈমাম জাহিদুল।

মামলার বিবরণীতে বাদী রিফাত আরা মুকুল আরো উলেস্নখ করেন, ইমাম জাহিদুলের এ প্রতারণার কারণে তাঁকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। তার বাম হাত অনেকটাই অচল। নিজের কাপড় নিজে পরতে কষ্ট হয় তাঁর। এমন পরিস্থিতিতে আকস্মিকভাবে স্বামী ছাড়া অজানা অচেনা পথে একাকী ফ্লাইটে হজে যাওয়া এবং সহস্র মানুষের ভিড়ে ওমরা হজ পালন করা ছিল চরম ভোগান্তির  বিষয়। এ ছাড়া ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী ইমাম জাহিদুল যেহেতু তার বৈধ মাহরাম নন সেহেতু জাহিদুলের এ প্রতারণার কারণে তার হজের বৈধতা নিয়েও তিনি শঙ্কিত।

এর আগে গত রবিবার ঈমাম মো. জাহিদুল ইসলামের (৪৫) বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বরগুনা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন বরগুনা শহরের নজরুল ইসলাম সড়কের বাসিন্দা মো. মনিরুল ইসলাম (৪৮)। সাধারণ ডায়েরিতে মনিরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ইমাম জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি ট্রাভেল এজেন্সির পক্ষে  বাণিজ্যিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে হজ পালনের নামে স্থানীয় এক দম্পতির সঙ্গে  প্রতারণার অভিযোগ থাকায় তাকে মসজিদের ইমামের পদ থেকে অপসারণের জন্য কেন্দ্রীয় (সদরঘাট) মসজিদের সভাপতি ও বরগুনার জেলা প্রাশাসকের আবেদন করেন। এতে ইমাম জাহিদুল ইসলাম তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে রবিবার রাতে বরগুনা সোনাখালী এলাকার মারকাস মসজিদে উপস্থিত হয়ে তার (জাহেদুলের) সহযোগী আলহাজ্ব আবুল হোসেন জমাদ্দার (৭০), আমজাদ হোসেন (৫০), সাবু (৪৬), জসিম উদ্দীনকে (৪৫) সঙ্গে নিয়ে তাকে হত্যা ও বিভিন্নভাবে ক্ষতি সাধনের জন্য ভয়ভীতি দেখান।

প্রসঙ্গত, বরগুনার কেন্দ্রীয় (সদরঘাট) জামে মসজিদের ঈমাম জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে হ্জ পালনের নামে লাখ টাকা বাণিজ্যের পাশাপাশি মসজিদের অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা এবং জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

28 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন