২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

বরগুনায় শ্রেণিকক্ষে ইভটিজিংয়ের শিকার ছাত্রী!

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৯:০৬ অপরাহ্ণ, ০১ অক্টোবর ২০১৬

বরিশাল: বরগুনার হালতায় স্কুল মাঠে সপ্তাহে দু’দিন বসছে গরু ছাগলের হাট। বাদ পড়ছে না শহীদ স্মৃতিস্তম্ভটিও। পশুর হাটের কারণে বিদ্যালয়ের বারান্দায় বসছে পান সিগারেট ও ঝাল মুড়ির দোকান। শুধু এখানেই শেষ নয়, শ্রেণিকক্ষে যখন শিক্ষকরা পাঠদানে ব্যস্ত তখন জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছাত্রীদের উত্যক্ত করছে বখাটেরা। এমন অবস্থার পরেও উপজেলার প্রশাসন বলছে, শিক্ষার্থীদের চেয়ে গরুর বাজারের গুরুত্বও কম নয়। তবে জেলা প্রশাসন বলছে, তদন্তের পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
যে গেইট দিয়ে শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে প্রবশ করছে সে গেইট দিয়েই বিদ্যালয়ের মাঠে ঢুকছে গরু ও ছাগল। পাশাপাশি ঢুকছে দালাল, ক্রেতা ও বিক্রেতারাসহ নানা ধরনের মানুষ। বিদ্যালয়ের মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ গরু ও ছাগলে। বিদ্যালয়ের মাঠের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের উপরেও চলছে পশু বেচা কেনা। গরুর হাটকে কেন্দ্র করে ঝাল মুড়ি চা ও পান বিক্রেতারা বসছে বিদ্যালয়ের ভবনের বারান্দায়। বাজারের হৈচৈয়ের কারণে ক্লাসে শিক্ষকদের কথা শুনছে না শিক্ষর্থীরা। আর বারান্দা ও জানালার পাশে বখাটেদের আড্ডা থাকায় ক্লাস রুমেই ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছে ছাত্রীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্লাসের পাশে থাকে বখাটে ছেলেরা। তারা এসে মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকে। এই বিদ্যালয়ে গরু ও আমরা একই সাথে প্রবেশ করি। আমরা এসেমলি করতে পারছি না শুধু মাত্র এই হাটের কারণে। মাঠে যদি গরুর মল মূত্র থাকে তাহলে আমাদের খেলাধুলা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
বরগুনা হালতা ডৌয়াতলা সমবায় বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুল হক খান বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দাবি, ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের মাঠে গরু ছাগলের হাট বন্ধের কাজ শুরু করলেও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপে তা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, উপজেলার নির্বাহী অফিসার ইজারাদারদের পক্ষ নিয়ে এক প্রকার শক্তি প্রয়োগ করেই এখানে গরুর হাট বসিয়েছে।
বরগুনা হালতা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, সরকার এই হাট থেকে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা আয় করেন এখানে এটা মুখ্য বিষয় নয়। মুখ্য বিষয় হচ্ছে এই অঞ্চলের মানুষের গরু বিক্রি করার জায়গা তৈরি করা ও গরু ক্রয়ের জায়গা তৈরি করা।
বরগুনা জেলা প্রশাসক ড. মুহাম্মদ বশিরুল আলম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই গুরুত্ব দেয়া হবে।
গরুর বাজার যে মাঠটিতে বসছে তার দক্ষিণে ডৌয়াতলা খান ওয়াজেদ আলী ডিগ্রী কলেজ, পশ্চিমে কর্মজীবী নারী ও ছাত্রী হোস্টেল, উত্তরে হালতা ডৌয়াতলা সমবায় সমিতির বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও পূর্ব পাশে চির উন্নত শির নামের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ অবস্থিত।’

12 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন