১৩ িনিট আগের আপডেট বিকাল ১২:১৪ ; শুক্রবার ; ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৪
EN Download App
Youtube google+ twitter facebook
×

বরফ সংকটের কারণে মাছ শিকারে সমুদ্রে যেতে পারছে না জেলেরা

বরিশালটাইমস রিপোর্ট
৪:৫৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৫, ২০১৭

গত সপ্তাহে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে যেতে পারেনি জেলেরা। বর্তমানে আবহাওয়া মাছ শিকারের উপযোগী। ইলিশের ভরা মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে প্রচুর ইলিশ। কিন্তু উপকূলের অন্যতম মৎস্য বন্দর কুয়াকাটা-আলীপুর ও মহিপুরে ইলিশের ব্যবসায় বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বরফ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বরফ সংকটে সমুদ্রে যেতে পারছে না জেলেরা। ঘাটে বসে অলস সময় পার করছে শতাধিক মাছ ধরা ট্রলার। তারপরও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বরফ সংগ্রহ করে কিছু ট্রলার সমুদ্রে গিয়ে মাছ শিকার করে ঘাটে ফিরলেও আহরিত ইলিশ সংরক্ষণ করতে পারছে না। ক্রেতারাও মাছ কিনতে অনিহা প্রকাশ করছে। ক্রয় করা মাছ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে পারছে না।

যার ফলে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বাজারজাত কেন্দ্র আলীপুর-মহিপুর ও কুয়াকাটায়। কেবলমাত্র ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বরফ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (০৫ আগস্ট) দুপুরে কুয়াকাটা, মহিপুর ও আলীপুর ইলিশের আড়ত ও সমুদ্রগামী মাছধরা ট্রলারের জেলে এবং বরফকল মালিকদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

সরেজমিনে মাছধরা ট্রলারের জেলে জাহাঙ্গীর মাঝি জানান, সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। কোনরকম জাল নিয়ে সাগরে যাওয়া মাত্র ট্রলার বোঝাই করে ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফেরা যায়। কেবল বরফ নিতে না পারায় সাগরে যাওয়া যাচ্ছে না। ঘাটে অসংখ্য মাছধরা ট্রলার বসে আছে। একই অভিযোগ ফারুক মাঝি, রহিম মাঝি, জয়নাল মাঝিসহ অগনিত জেলেদের।

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ইলিশ ব্যবসায়ী সুধারাম বাবু অভিযোগের সুরে বলেন, প্রতি বছর এখানে ইলিশ কিনতে আসি। মহিপুর আলীপুর থেকে ইলিশ ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন বাজারে ট্রাকযোগে নিয়ে বিক্রয় করি, এবার বরফ না থাকায় ইলিশের ভরা মৌসুমেও মূলধন বসে বসে খাচ্ছি। সুধারামা বাবু আরও বলেন, বিদ্যুৎ যায় কয়বার তা বলা যাবে না, বরং থাকে কতটুকুন সময় সেটি বলা যায়।

তাই বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নতি না হলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এবছরের মত ব্যবসা গুটিয়ে ফিরে যেতে হবে। সুধারাম বাবুর মত শতাধিক ইলিশের পাইকার রয়েছেন এখানে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ইলিশ মৌসুমে এখানে এসে ইলিশ ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন মোকামে চালান করে থাকেন।

এদিকে, গত দু’দিনে খুলনা, সাতক্ষীরা, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাকযোগে বরফ আনা হয়েছে। মহিপুর হাওলাদার ফিসের মালিক আব্দুল জলিল হাওলাদার বলেন, প্রতিদিন অন্তত ৫০টি ট্রাক আসে বরফ নিয়ে। মহিপুর আলীপুরের সামান্য কিছু উৎপাদিত বরফ নিয়ে যাওয়া মাছধরা ট্রলারগুলো থেকে যে ইলিশ পাওয়া যায় সেগুলো সংরক্ষণের জন্য এসব বরফ ব্যবহার করা হয়।

ওইসব মোকামে প্রতিক্যান বরফ ১৫০ থেকে ২ শ’ টাকায় ক্রয় করলেও ট্রাকযোগে এখানে পৌঁছাতে প্রায় ৫শ’ টাকা খরচ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অত্যন্ত খারাপ থাকায় ইলিশের ব্যবসা এবার থামকে গেছে বলেও মনে করেন জলিল হাওলাদার।

মহিপুরের ইলিশের আড়ৎ গাজী ফিস’র মালিক মজনু গাজী জানান, উপকূলের অন্তত দুই হাজার মাছধরা ট্রলার বরফের অভাবে সাগরে মাছ শিকারে যেতে পারেনি। বিদ্যুৎ আসে আবার কয়েক মিনিটের মধ্যে চলে যায়, এ অবস্থায় বরফকলগুলোতে বরফ উৎপাদন করতে পারছে না।

মজনু গাজী বলেন, বর্তমানে ৫শ’ থেকে ৭ শ’ গ্রামের ব্যাপক ইলিশ ধরা পড়ছে সাগরে। অন্তত ৩৫ হাজার টাকা মণের ইলিশ (শনিবার) ২১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে এমন না যে, অনেক বেশি মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরতে পারছে জেলেরা। কারণ বরফ না থাকায় ট্রলার নিয়ে সাগরে যেতে পারছে না।

একই ভাবে ফয়সাল ফিসের মালিক হাজী ফজলু গাজী জানান, গত এক মাসে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে কেবলমাত্র প্রয়োজনীয় বরফ না পাওয়ায় এক একটি মাছধরা ট্রলারে অন্তত ১০ লাখ টাকা লোকসানে পড়েছে। সে হিসেবে অন্তত ২শ’ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে কুয়াকাটা, মহিপুর ও আলীপুর এলাকার এবছর ইলিশ মৌসুমে। লাখ লাখ টাকা দাদন দিয়ে আড়ৎদারদের ব্যবসা পথে বসার উপক্রম হয়েছে বলেও দাবি হাজী ফজলু গাজীর।

আলীপুরের বরফকল আমেনা আইচ প্লান্টের মালিক আনোয়ার হোসেন খান বলেন, বিদ্যুতের লোডশেডিং নয়, ২৪ ঘন্টার দু’ ঘন্টাও ঠিকভাবে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। ঘনঘন বিদ্যুৎ আসা যাওয়ায় প্রতিটি বরফকলের লাখ লাখ টাকার যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। সেই সাথে বিদ্যুৎ বিলের বোঝা তো রয়েছেই।

সব মিলিয়ে বিদ্যুতের অভাবে বরফ উৎপাদন একেবারে বন্ধ রয়েছে বলা যায়। বছরের তিন মাস সাধারণত ইলিশ ধরা পড়ে। ইলিশ মৌসুমের অর্ধেক সময় ইতিমধ্যে অতিবাহিত হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য আনোয়ার হোসেন খানের। সূত্র জানায়, কুয়াকাটা, মহিপুর ও আলীপুর মিলিয়ে অন্তত ৩৫টি বলফকল রয়েছে।

মহিপুর মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবু নিমাই চন্দ্র দাস বলেন, আমার ধরণা, মহিপুর আলীপুর মৎস্য বাজারজাত কেন্দ্রটি ধ্বংস করে দিতে কোন মহল ষড়যন্ত্র করছে। প্রতিবছর ইলিশ মৌসুম এলেই বিদ্যুৎ নিয়ে নানা টালবাহানা শুরু হয়।

বিদ্যুতের ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মনোহর কুমার বিশ্বাস বলেন, ঘনঘন বিদ্যুৎ যাওয়ার বিষিয়টি ছিল জাতীয় গ্রিডের সমস্যা। এছাড়া দু’ একদিন আগেও আমরা চাহিদার ২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারিনি। আজকে (শনিবার) প্রায় ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেছে। বলা যায় আমরা বিপর্যয় কাটিয়ে উঠেছি।”

 

পটুয়াখালি

আপনার ত লিখুন :

 
ভারপ্রাপ্ত-সম্পাদকঃ শাকিব বিপ্লব
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮ | বরিশালটাইমস.কম
বরিশালটাইমস মিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।
ইসরাফিল ভিলা (তৃতীয় তলা), ফলপট্টি রোড, বরিশাল ৮২০০।
ফোন: +৮৮০২৪৭৮৮৩০৫৪৫, মোবাইল: ০১৮৭৬৮৩৪৭৫৪
ই-মেইল: barishaltimes@gmail.com, bslhasib@gmail.com
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮
টপ
  শবে বরাতের আগেই চড়ল মাংসের বাজার  বাড়ছে না চিনির দাম, সিদ্ধান্ত বাতিল  বরিশাল বোর্ডে ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রে অনুপস্থিত ৭০৩, বহিষ্কার ২০  বরিশালে পানি সেচের ট্যাংকিতে মিলল কৃষকের মরদেহ  মেধাবী শিক্ষার্থী সাব্বিরকে জেলা প্রশাসকের আর্থিক সহায়তা ও বই প্রদান  আমতলী পৌর নির্বাচন: একজনের প্রার্থিতা প্রত্যাহার  ‘বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার জন্য বিশ্বে মাথা উঁচু করার জাতিতে পরিণত হয়েছি’  অনিবন্ধিত সব স্বাস্থ্যকেন্দ্র দ্রুত বন্ধ করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী  দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন: ৭৪ শতাংশ প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন  ইরানে কুরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশি কিশোর