২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

বরিশালের আর্শিবাদ সিভিল সার্জন শফিউদ্দিন

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৭:২৯ অপরাহ্ণ, ০৩ অক্টোবর ২০১৬

বরিশাল: সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বরিশাল জেলার মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ত্রাণকর্তা হিসেবে কাজ করছেন সিভিল সার্জন এ এফ এম শফিউদ্দিন। ইতিমধ্যে জেলায় অবকাঠামো এবং প্রশাসনিক দিক থেকে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন তিনি বলে সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানিয়েছে। সূত্র মতে, বরিশাল জেলায় বিগত সময়ের যে কোন সিভিল সার্জনের তুলনায় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। ইতিমধ্যে সেবাহীন প্রতিষ্ঠান বরিশাল সদর হাসপাতালের চিত্র পাল্টে দিয়েছেন। সরকারের কোটি টাকার এই স্বাস্থ্য সেবার প্রতিষ্ঠানটি প্রায় বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু এ এফ এম শফিউদ্দিন যোগদানের পর স্ব-উদ্যোগে সদর হাসপাতালটির জীবন ফিরিয়ে দেন।

14509184_1059187750868707_129805194_n

আধুনিক সেবা নিশ্চয়তার জন্য ইতিমধ্যে সকল অত্যাধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, হাসপাতাল সংস্কার এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসক সংযুক্ত করেছেন। এমনকি সকাল সাড়ে সাতটায় শুরু করেন দিনের কার্যক্রম সদর হাসপাতাল থেকে। সদর হাসপাতালের দায়িত্বরতরা জানিয়েছে, বর্তমান সিভিল সার্জন নিজে দাড়িয়ে থেকে তত্ত্বাবধায়ন করে থাকেন যেন রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত না হন। সিভিল সার্জন এ এফ এম শফিউদ্দিনের এ ব্যপারে বক্তব্য অত্যান্ত সীমিত। তিনি বলেন, সরকানি হাসপাতালে সেবা নিতে এসে রোগীদেও অনেক বিড়ম্বনার স্বীকার হতে হয়। রোগীরা যেন বিড়ম্বনার শিকার না হয় তার জন্য চেষ্টা করছি। এটা আমার দ্বায়িত্ব। কারন সরকারের নির্দেশ রয়েছে মাঠ পর্যায়ে সাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার।

আমি সেটা নিশ্চিত করতেই কাজ করে যাচ্ছি। সদর হাসপাতালের বর্তমান সেবা প্রসঙ্গে কথা হয় পঞ্চাশোর্ধ হালিমা খাতুনের সাথে। তার বাসা ভাটিখানা জোরা পুকুর এলাকায়। হালিমা বলেন, কয়েক মাস আগেও সদর হাসপাতালে ডাক্তার পেতাম না। এখানে সেখানে ময়লা আর্বজনা, পানের পিক, ফেন্সিডিলের বোতল পরে থাকতো। ওষুধ পেতাম না। কিন্তু এখন যে কে কাজ করতেছে ! আসলেই ডাক্তার পাওয়া যায়। ওষুধ পাওয়া যায়। কাউনিয়া মনসা বাড়ি এলাকার মনির হোসেন বলেন, সেবা পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও এখানে বর্তমানে যে উন্নতি হয়েছে, রোগীদের যেভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট।

14593336_1059189624201853_2091253594_n

সেলিনা পারভীন নামক বিএম কলেজের ছাত্রী বলেন, সদর হাসপাতালের বর্তমান যে উন্নতি তার অবদান সিভিল সার্জনের। আগে যখন এটি সিভিল সার্জনের আওতায় ছির না বলে জানতাম তখন এখানে এসে দেখতাম প্রকাশ্যে মাদকাসক্তরা সেশা করছে। সেবার মানতো ছিল শূণ্য। কিন্তু এখন সবকিছুই প্রায় ঠিকঠাক। শেবাচিমের চেয়েও সহজে এখানে ভালো মানের সেবা পাওয়া যায়। এখন এমনিতেই বোভা যায় হাসপাতালটির অভিভাবক পেছন থেকে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, বরিশালের প্রত্যেক জেলায় যদি এমন একজন সিভিল সার্জন থাকতেন তাহলে দক্ষিনাঞ্চলের সাস্থ্য সেবার মান নিয়ে এত সমালোচনা হতো না। এ এফ এম শফিউদ্দিন কাজের মানুষ। সারাবেলা কাজ করতেই পছন্দ করেন তিনি। এটি তার অফিস স্টাফ সেলিম এর মূল্যায়ন।

তিনি বলেন, সকাল সাড়ে সাতটা থেকে রাত ৮/৯টা পর্যন্ত তিনি অফিস করে থাকেন। অফিস সূত্রে জানা গেছে, অফিসের কাজের পাশাপশি প্রায়দিনই অবৈধ ডায়াগনস্টিক, ক্লিনিক, ফিজিওথেরাপি, হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে থাকেন। এতে করে অবৈধ ব্যবসায়ীদের মধ্যে এ এফ এম শফিউদ্দিন আতঙ্কের নাম।

civil-surgon

৩ অক্টোবর কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের চরামদ্দি বাজারে উপস্থিত এ এফ এম শফিউদ্দিন। স্থানীয়দের কাছে জিজ্ঞেস করে জানলেন আশেপাশে কোথায় ডায়াগনস্টিক সেন্টার আছে কিনা? তার সেবার মান কেমন?

সন্ধান পেলেন কাছেই চরামদ্দি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দোতলায় ইসলামিয়া কমিউনিটি ক্লিনিক এন্ড ইসলামিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে একটি অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

পায়ে হেটে গিয়ে হাজির হলেন কমিউনিটি ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামক ঐ কসাইখানায়। কিন্তু পাওয়া গেল না কাউকে। শেষে সাইনবোর্ডেও নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে ওপাশ থেকে নজরুল ইসলাম নামক এক শিক্ষক জানান, তার সকল কাগজপত্র রয়েছে। এবং তার ক্লিনিকের অনুমোদন রয়েছে। সিভিল সার্জনের পরিচয় পেয়ে অনুনয় শুরু করেন সেই ক্লিনিকের মালিক। শেষে কোন কাগজ দেখাতে না পারায় ক্লিনিকরুপি কসাইখানাটি বন্ধ করে দেবার নির্দেশ দেন।

এর পরপরই সিভিল সার্জন যান চরামদ্দি ইউনিয়ন সাস্থ্য কেন্দ্রে। সেখানে পরিদর্শন করেন। সকল অব্যবস্থাপনার বিষয়ে কারন দর্শানোর নির্দেশ দেন। অন্যথায় দাফতরিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানান তিনি। একইসাথে ডা: সৈয়দ জামাল হোসেনের অনুপস্থিতি খতিয়ে দেখতে একজন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। ফিরতি পথে চোখের সামনে পরে তালুকদার হাট কমিউনিটি ক্লিনিক।

14593348_1059189200868562_520827473_n

সেখানে কাজ করছিল মুক্তা নামক সাস্থ্য সহকারী।

তার কর্মকান্ড যাচাই-বাছাই করে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন। শেষে পরিদর্শন বহিতে স্বাক্ষর করেন। একই সাথে ক্লিনিকটির চাহিদা টিউবয়েল স্থাপনের উদ্যোগ নেন বলে জানান। চরামদ্দি বাজারের বাবুল বলেন, এমন সিভিল সার্জন আগে কখনো দেখিনি। তিনি সাধারন মানুষের মত যেভাবে এক এক জায়গায় গিয়ে হাজির হন তাতে সাধারন মানুষেরই উপকার। এ ধরনের অভিযানে সাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হয়।

এ ব্যপারে সিভিল সার্জন এ এফ এম শফিউদ্দিন বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে খেটে খাওয়া মানুষ যাতে সর্বোচ্চ সেবা পায় সে জন্য সব ধরনের কাজ করতেই আমি প্রস্তুত। তিনি অবৈধ ডায়াগনস্টিক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে বলেন, প্রত্যেকটি অবৈধ ক্লিনিক বন্ধ করা হবে। তাতে যত বড় ক্ষমতাধর ব্যক্তির সে প্রতিষ্ঠানই হোক।

9 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন