২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

বরিশালের মিরাজের মুগ্ধতায় বাংলাদেশের সাফল্য

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৬:০১ অপরাহ্ণ, ৩০ অক্টোবর ২০১৬

বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের অভিষেকেই চমকে দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়, বিশেষ করে টেস্টে। কিন্তু অভিষেকের পরের ম্যাচেও সেটির ধারাবাহিকতা ধরে রাখা অবশ্যই বিরল। বিরল এ ঘটনা কাল ঘটালেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ‘কী রেকর্ড করেছি আমি?’ সংবাদ সম্মেলনে ঢোকার সময় মিরাজের কৌতূহলী জিজ্ঞাসা। বেরোনোর সময় নিজের কীর্তিগুলো নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলেন আরেকবার। জানানো হলো, ক্যারিয়ারের প্রথম ২ টেস্টেই ৫ উইকেট পাওয়া প্রথম বাংলাদেশি বোলার তিনি।

 

ক্যারিয়ারের প্রথম ২ টেস্টে ইনিংসে ৫ উইকেট পেয়েছেন এমন বোলার আছেন ২৩ জন। তবে টেস্ট ইতিহাসে তিনিই প্রথম অফ স্পিনার, যিনি প্রথম ২ টেস্টেই পেলেন ৫ উইকেট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক অফ স্পিনার সনি রামাধিন প্রথম ২ টেস্টে ৫ উইকেট পেলেও সেটি আসে তাঁর দ্বিতীয় টেস্টে। অভিষেক টেস্টে ৫ উইকেটের দেখা পাননি তিনি।

 
এমন অর্জনে অবশ্য মিরাজের মধ্যে বাড়তি কোনো উচ্ছ্বাস নেই। ‘দুবার ৫ উইকেট পেয়ে ভালো লাগছে’—এটুকুই তাঁর প্রতিক্রিয়া। অভিষেক টেস্টেই বলেছিলেন ৫-৬ উইকেটের প্রত্যাশায় খেলেন না। কালও সেটিরই প্রতিধ্বনি তাঁর কথায়, ‘আমি কখনোই আশা করি না আমার ৫ উইকেট নেওয়া লাগবে। চেষ্টা করি সব সময় ধারাবাহিক খেলতে। আল্লাহর অশেষ রহমতে হয়ে গেছে।’

 
তামিম ইকবাল পরশু বলেছিলেন, সকালে দ্রুতই ইংল্যান্ডের ২ উইকেট তুলে নিতে পারলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে আসতে পারে তাঁদের হাতে। বাংলাদেশের বোলাররা প্রত্যাশার চেয়ে বেশিই করেছেন। লাঞ্চের আগেই তুলে নিয়েছেন ৫ উইকেট। এর মধ্যে তিনটিই মিরাজের। নতুন বলে ২০ বছর বয়সী এই অফ স্পিনারের বোলিং ক্রমেই মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে। নতুন বলে দারুণ করছেন। নতুন বলটা তাঁর পছন্দ, তবে পুরোনো বলও অপছন্দের নয়, ‘আমি দুটি বলেই বোলিং করতে পছন্দ করি। তবে বলটা যখন নতুন থাকে তখন কিছু কাজ করা যায়। কিন্তু পুরোনো হয়ে গেলে অনেক নরম হয়ে যায়। কাজ করা যায় কম। আসলে দুটিই ভালো লাগে। তবে নতুন বলে নিজেকে বেশি আত্মবিশ্বাসী মনে হয়।’

 
ইংল্যান্ডের টপ, মিডল ও লোয়ার মিডল অর্ডার যখন ব্যর্থ, তখন বাংলাদেশের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে যায় ক্রিস ওকস ও আদিল রশিদের নবম উইকেট জুটি। এই দেয়ালটাও ভাঙেন মিরাজ। ইংলিশ টেলএন্ডারদের এমন জুটি তাঁর চোখে অস্বাভাবিক নয়, ‘টেস্টে জুটি হবেই। আবার উইকেটও পড়বে। ওদের কিন্তু সেশনে ৩-৪টা করে উইকেট পড়ছিল। পরের দুই ঘণ্টায় আবার উইকেট পড়েনি। একটা সেশনে তারা জুটি গড়েছে। আসলে এটাই টেস্ট। আমাদের বোলাররা যেমন ভালো বোলিং করেছে, ওরাও তখন ভালো ব্যাটিং করেছে।’

 
দুই টেস্টে মিরাজ এখন পর্যন্ত নিয়েছেন ১৩ উইকেট। ঢাকা টেস্টে বাকি আছে ইংল্যান্ডের আরেকটি ইনিংস। উইকেটসংখ্যা নিশ্চয়ই আরও বাড়বে। সব বোলারের মতো মিরাজও ৫ উইকেটের স্মারক হিসেবে বলটা রেখে দিচ্ছেন নিজের সংগ্রহে। তাঁর সংগ্রহশালায় এই বলের সংখ্যা যত বাড়বে, বাংলাদেশের মুখে হাসি ফুটবে ততই।

19 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন