৩২ মিনিট আগের আপডেট রাত ২:৭ ; মঙ্গলবার ; আগস্ট ৯, ২০২২
EN Download App
Youtube google+ twitter facebook
×

বরিশালের যুবক ঢাকা সদরঘাটে খুন, নীরব পুলিশ কেন পুলিশ?

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট
৭:৩১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৭

জলতরঙ্গ লঞ্চের শ্রমিক বাবুগঞ্জের বিশ্বনাথ মালী শান্তকে (২৬) রাজধানীর সদরঘাটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করেছে শ্রমিকরা। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে ওই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। তবে এ ব্যাপারে রহস্যজনক আচরণ করছে পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা। ঘটনার তিনদিন অতিবাহিত হলেও তাকে উদ্ধারকারী রাজধানীর সদরঘাটের নৌ-পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো মামলা কিংবা জিডি পর্যন্ত করা হয়নি। এমনকি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লঞ্চ অথবা ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে আটক পর্যন্ত করেনি তারা।

এদিকে শান্ত নিহত হওয়ার পরে জলতরঙ্গ লঞ্চ কর্তৃপক্ষও রহস্যজনক আচরণ করছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় লঞ্চের কর্মচারীরাই শান্তকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি করলেও এখন দায়ভার এড়ানোর জন্য তারা নিহত শান্তকে নিজেদের স্টাফ মানতে অস্বীকার করছে।

বৃহস্পতিবার রাতে ঢামেক হাসপাতালের মর্গ থেকে শান্তর মরদেহ গ্রহণ করেন তার মা অর্চনা মালী। শুক্রবার সকালে তার মরদেহ নানাবাড়িতে পৌঁছলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

নিহত হতভাগ্য বিশ্বনাথ মালি শান্ত (২৬) বাবুগঞ্জ উপজেলার সাতমাইল এলাকার শিবু মালির ছেলে। শান্তর বাবা বরিশাল জজকোর্টের কর্মচারী শিবু মালী দ্বিতীয় বিয়ে করে শান্ত ছোট থাকতেই তার মাকে ত্যাগ করেন। পাষন্ড বাবা শিবু মালি ছেড়ে যাওয়ার পরে আর একদিনের জন্যেও মা কিংবা ছেলের কোনো খবর নেননি। এরপরে ভিক্ষা করে ছেলেকে বড় করেন শান্তর মা অর্চনা মালী।

এদিকে সংসারে অভাবের তাড়নায় বিগত ২০০৮ সালে ঢাকায় গিয়ে সদরঘাটে কুলির কাজ নেয় শান্ত। এর কিছুদিন পরেই সে জলতরঙ্গ লঞ্চের শ্রমিক (খালাসী) হিসেবে চাকরি নেয়। গত ১২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে পাওনা টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে লঞ্চে ধারালো চাকু ও লম্বা ছোঁড়া দিয়ে উপর্যুপরি কোপানো হয় তাকে। পরে জলতরঙ্গ লঞ্চ কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করে সদরঘাটের নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সহয়তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তরের পরের দিন বুধবার মারা যায় সে। লঞ্চের সুপারভাইজার সুব্রত হালদার মুঠোফোনে জানান, পাওনা টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে শান্তকে এলোপাতারি কুপিয়ে জখম করে ঘাট শ্রমিকরা। তবে কে বা কারা তাকে এভাবে কুপিয়েছে এ ব্যাপারে তিনি মুখ খুলতে রাজি হননি। এছাড়াও তিনি রহস্যজনক কারণে শান্তকে তাদের জলতরঙ্গ লঞ্চের শ্রমিক বলেও মানতে অস্বীকার করেন।

একইভাবে মুমুর্ষু অবস্থায় শান্তকে উদ্ধারকারী সদরঘাটের নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির এস.আই রবিউল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে রহস্য। মৃত্যুর আগে শান্ত তাঁর জবানবন্দিতে ঘটনার সবকিছু তাকে জানিয়ে গেলেও তিনি অদ্যাবধি কোনো মামলা কিংবা জিডি পর্যন্ত করেননি।

শুক্রবার সকালে মুঠোফোনে বরিশালটাইমসের এ প্রতিবেদককে এসআই রবিউল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সকালে খবর পেয়ে তিনি শান্তকে উদ্ধার করে লঞ্চের স্টাফদের দিয়ে ঢাকা মেডিকেলে পাঠান এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তবে সেখানে শান্ত মারা গেলেও কেন তিনি কোনো মামলা করলেন না কিংবা জলতরঙ্গ লঞ্চ বা ঘাতকদের কাউকে কেন আটক করলেন না এমন প্রশ্নের তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে এসপি স্যার কল দিয়েছে বলে ফোনের লাইনটি কেটে দেন।

শান্ত ঢামেক হাসপাতালে মারা যাওয়ার পরে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা শাহবাগ থানার এস.আই অমল চন্দ্র মোবাইলে এ প্রতিবেদককে জানান, শান্তকে লম্বা এবং ধারালো চাকু বা ছোঁড়া জাতীয় অস্ত্র দিয়ে বুক এবং পেটে অনেকগুলো কোপ দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি কোপ তার বুক ও পেটের এক প্রান্ত থেকে ঢুকে অপর প্রান্ত থেকে বেরিয়ে গেছে। এতে ফুসফুস, হৃদপিন্ড আঘাতপ্রাপ্ত এবং পাকস্থলি ক্ষতবিক্ষত হওয়ায় কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তাতে শাহবাগ থানার কিছু করার নেই। কারণ, তাকে কোপানোর ঘটনাস্থল সদরঘাট বলে যা করার তারাই করবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- সদরঘাটের নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি কিংবা বন্দর বা কেরানীগঞ্জ থানার কেউই খুনের ব্যাপারে বিন্দুমাত্র পদক্ষেপ নেয়নি। সদরঘাটের স্থানীয় একটি সূত্র পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানিয়েছে, পুলিশের সাথে লঞ্চ কোম্পানি ও ঘাতকদের মোটা অংকের একটা রফাদফা হয়েছে। তাই এ ঘটনা এখন ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। একই অভিযোগ করেছেন নিহত শান্তর মা অর্চনা মালী।

তিনি জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা শাস্তর মৃতদেহ বৃহস্পতিবার রাতে তারা পৌঁছানো মাত্রই তড়িঘড়ি করে তাদের বুঝিয়ে দেয় পুলিশ। অ্যাম্বুলেন্স ভাড়াকরাসহ মৃতদেহ হস্তান্তরের সকল আনুষ্ঠানিকতা আগেই সম্পন্ন করে রাখা ছিল। শান্তর পরিবারের সদস্যদের পাওয়া মাত্র কয়েকটি কাগজে সই রেখে মৃতদেহসহ অতিদ্রুত তাদের বরিশাল পাঠিয়ে দেয় পুলিশ।

হত্যার তদন্তের ব্যাপারের নিষ্ক্রিয় পুলিশের মৃতদেহ হস্তান্তরকালে অতিউৎসাহী ভূমিকা এখন জন্ম দিয়েছে অসংখ্য প্রশ্নের।

বরিশালের বিমানবন্দর থানার ওসি (তদন্ত) এ.আর মুকুল হত্যাকান্ডের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে জানান, খুনের ঘটনাস্থল সদরঘাট হওয়ায় এ ব্যাপারে আমাদের সদিচ্ছা থাকলেও কিছু করার নেই। মামলা করলে সেখানে গিয়েই করতে হবে।”

বরিশালের খবর

 

আপনার মতামত লিখুন :

 
ভারপ্রাপ্ত-সম্পাদকঃ শাকিব বিপ্লব
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮ | বরিশালটাইমস.কম
বরিশালটাইমস মিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।
ইসরাফিল ভিলা (তৃতীয় তলা), ফলপট্টি রোড, বরিশাল ৮২০০।
ফোন: +৮৮০২৪৭৮৮৩০৫৪৫, মোবাইল: ০১৮৭৬৮৩৪৭৫৪
ই-মেইল: [email protected], [email protected]
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮
টপ
  সাগরে নিম্নচাপ: উপকূলে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা  রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এই দোয়া পড়বেন  বিএনপির ওপর কোনো অত্যাচার করা হয় নাই: তোফায়েল আহমেদ  রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া ২ লাখ টাকা ব্যবসায়ীকে বুঝিয়ে দিলেন দিনমজুর  সাংবাদিকের ওপর হামলা: পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত: গ্রেপ্তার ৩  কখনও ডিবি পুলিশ আবার কখনও সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি  পটুয়াখালী/ গভীর সাগরে ট্রলারডুবি: ২ জেলেসহ নিখোঁজ ৮ ট্রলার  সন্ধ্যানদীতে নিখোঁজ শ্রমিকের লাশ উদ্ধার  ঝালকাঠিতে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা: স্বামী আটক  ঝালকাঠির সুগন্ধা নদী থেকে গলিত লাশ উদ্ধার