৪ ঘণ্টা আগের আপডেট রাত ২:১৯ ; বুধবার ; সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০
EN Download App
Youtube google+ twitter facebook
×

বরিশালের সন্তান মাসুদ কক্সবাজারে প্রদীপ জ্বালিয়ে কোটিপতি

ষ্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১১:৪৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২০

শাকিব বিপ্লব/ জহির খান:: পুলিশ-প্রশাসনে এবিএম মাসুদ হোসেন নামেই পরিচিত কক্সবাজারের এসপি। কিন্তু নিজ এলাকা বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের পড়শীদের কাছে তিনি মিন্টু নামে পরিচিত এবং একজন সৎ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে সমীয় আদায় করে চলতেন। কিন্তু অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের হত্যাকান্ডের পর এসপি মাসুদের সরল চেহারার আড়ালে অন্ধকার আরেকটি জগত রয়েছে তা বেড়িয়ে আসায় তার নিজ এলাকার মানুষই এখন বিস্মিত।

শিক্ষিত ঘরোনার সন্তান এবিএম মাসদ ওরফে মিন্টু এক সময় ঢাকার একটি প্লট কিনতে আর্থিক দৈন্যতায় বন্ধুদের সহায়তা চেয়েছিল। সেই এবিএম মাসুদ কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গত ২ বছরে হয়েছেন কোটিপতি। শোনা যায় শুধু ঢাকায় নয়, মালয়েশিয়াতেও স্ত্রীর নামে অট্টালিকা রয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন এসব তথ্য উঠে এসেছে যা গণমাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। সেক্ষেত্রে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে প্রকৃতঅর্থেই প্রদীপের ন্যায় জ্বালিয়ে নিজে অন্ধকারে থেকে এই বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছেন এবং নীতি নৈতিকতা জলাঞ্জলি দিয়েছেন।

গত দুদিন ধরে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের দক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে ঘুরে প্রায়াত স্কুল শিক্ষক আব্দুল কাদের হাওলাদারের পুত্র এবিএম মাসুদ সম্পর্কে যে ধারণা পাওয়া যায় তাতে এলাকায় তার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে একজন সৎ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে। বছরে দুই একবার ঈদ উৎসবে এলাকায় আসলে তার চলন-বলন এতটায় স্বাভাবিক ছিল যে, তিনি কক্সবাজারের দাপুটে এসপি এবং অল্প বয়সে স্বল্প সময়ে অগাত অর্থের মালিক হয়েছেন তা স্থানীয়রা বিশ্বাস আনতে পারছেন না। নিশ্চিত হওয়া গেছে, মাসুদের গোটা পরিবারই আওয়ামী লীগ সমর্থিত। তার বাবা গোবিন্দপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং দলের জন্য ছিলেন নিবেদিত। মেঘনা নদী ভাঙনের পর গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিভক্ত হয়ে এপারে দক্ষিণ উলানিয়ার রাজাপুরে নতুন বসতি গড়ে তোলা আব্দুল কাদের হাওলাদার ও অজুফা খাতুন দম্পতির পাঁচ পুত্র ও তিন কন্যা সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। মেঝো পুত্র টেক্সাটাইল ইঞ্জিনিয়ার, থাকেন ঢাকায়। অপর দুই ভাইয়ের একজন গোবিন্দপুর ইউনিয়নের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। আরেক ভাই একই উপজেলার পাতারহাটে শিক্ষকতা করেন। তার এক কন্যা সন্তানও শিক্ষিকা হিসেবে গ্রামে খুব সুনামের সহিত রয়েছেন।

কিন্তু তৃতীয় পুত্র এবিএম মাসুদ ওরফে মিন্টুর কিভাবে উত্থ্যান সে সম্পর্কে এলাকাবাসী সম্মুখ ধারনা নেই। মেহেন্দিগঞ্জের উত্তর শাহাবাজ জজ ইনস্টিটিউট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি উত্তীর্ণ হওয়ার পরই তিনি ঢাকায় ওঠেন। বিসিএস ক্যাডার ভাইয়ের বাসায় থেকে রাজধানীর লক্ষীবাজারস্থ সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে অনার্স-মাস্টার্স শেষ পর্যন্ত তিনি কোন রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না। তবে চাকুরি নেওয়ার সুবিদার্থে গত বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার আমলে ইসলামি ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের অন্যতম একজন সদস্য যিনি কিনা কেন্দ্রীয় জামায়াত নেতা হিসেবে পরিচিত তার বাসায় যাতায়াত শুরু করেন। একপর্যায়ে ইসলামী ব্যাংকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরি পান। সেখানে চাকুরি করার সুবাদে জামায়াত নেতাদের সাথে নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে এবং দলটির আদর্শিক ধারা নিজের ভিতর পোষণ করে চলতেন। সেই জোট সরকারের আমলে ২৪তম বিসিএসে শিক্ষানবিশ এএসপি হিসেবে তিনি পুলিশ প্রশাসনে যোগদান করেন। পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (টিআর) পদে দায়িত্ব পালনকালীন ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর মাসুদ পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পান।

পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবিএম মাসুদ তার শ্বশুড় বরিশাল আওয়ামী লীগের পরিচিত মুখ সদ্য প্রায়াত আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন কাবুলের মাধ্যমে ঢাকায় কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের অনেক নেতার সাথে সু-সম্পর্ক গড়ে তোলায় অতীতের জামায়াত কানেকশনের বিষয়টি নিয়ে কেউ আর ঘাটাঘাটি করেননি। এমনকি সরকারের উচ্চপর্যায়েও মাসুদের বিষয়ে নীরব ছিল। বরিশাল আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অর্থাৎ পিপি হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় তার শ্বশুড় গত বছরের ১৯ এপ্রিল ইন্তেকাল করেন। প্রায়াত আওয়ামী লীগ নেতা কাবুলের দুই কন্যা সন্তানের মধ্যে জেষ্ঠ্য জেনিফার মুনকে ইসলামী ব্যাংকে চাকুরি পাওয়ার পরই বিবাহ করেন এবিএম মাসুদ ওরফে মিন্টু। বরিশালের শ্বশুড়ালয়েও জামাতাকে মিন্টু হিসেবে নাম সম্মোধন করা হতো বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। শ্বশুড়ের মৃত্যুর পর এবিএম মাসুদের শক্তি কিছুটা খর্ব হয়। কিন্তু শ্বশুড় কাবুলের মৃত্যু পূর্বে একদিকে শ্বশুড়ালয়ের শক্তি অন্যদিকে ভাই একজন সচিবালয়ে থাকায় মিন্টুকে পুলিশ প্রশাসনে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে সহায়ক হয়।

অবশ্য সেই সাথে তার সততার গুনেই ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এবিএম মাসুদ হোসেন দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলা কক্সবাজার, যা পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে সোনার হরিণ পাওয়ার মতো জায়গা, সেখানকার পুলিশ সুপার হিসেবে তিনি যোগদান করেন। এর পূর্বে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে তিনি সৎ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সেই সৎ পুলিশ কর্মকর্তা অসৎ পথে পা বাড়ান প্রদীপের আলোতে। একাধিক গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে তাতে দেখা যায় শুধু টেকনাফ নয় গোটা কক্সবাজারের ৮টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এই এসপিকে ম্যানেজ করে অনৈতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে আর্থিক শক্তভিত তৈরির এক স্বর্ণযুগ তৈরি করেন গত দুই বছরে। সেক্ষেত্রে ইয়াবা ও অস্ত্র পাচার বন্ধের নামে শুরু হয় পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে অনৈকিতার এক ধরনের প্রতিযোগীতা।

টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ হয়ে ওঠেন তার আলাদিনের চেরাগের ন্যায়। এই প্রদীপের কল্যানেই এসপি মাসুদের মাসিক উপার্জন ছিল একজন শিল্পপতির চেয়েও কয়েকগুন বেশি। বেপরোয়া হয়ে ওঠে শুধু প্রদীপ নয়, উখিয়া ও রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও। এই তিন কর্মকর্তা ক্রসফায়ার আতঙ্ক সৃষ্টি করে কোটি কোটি টাকা আদায় করতেন বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করে। এক পর্যালোচনায় দেখা যায়, এসপি এবিএম মাসুদের আমলেই কক্সবাজারে প্রায় ৩ শতাধিক ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে প্রদীপ একাই ২৮৭টি বিচার বর্হিভূত হত্যাকান্ডের নায়ক হিসেবে রাষ্ট্রপতি পদকও লুফে নেন। এমন ঘটনাও ঘটেছে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ ক্রসফায়ারের নেশায় এতটাই উন্মাত ছিলেন যে, কাউকে গুলি করে হত্যা করতে না পারলে কুকুর মেরে নেশার ঘোর কাটান। আবার কাউকে ক্রসফায়ারে অপর থানার ওসিকে ম্যানেজ করতেন। তারই ধারাবাহিকতায় উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মর্জিনাকেও সঙ্গী করে বিভিন্ন ক্রসফায়ার নাটক সাজানোর অভিযোগ রয়েছে।

চোখ কপালে ওঠার মতো তথ্য পাওয়া গেছে যে, প্রদীপসহ অপরাপর থানা কর্মকর্তারা একেকটি ক্রসফায়ার দিয়ে নাটকের ডালা সাজাতেন তাতে এসপি মাসুদ যেমন সায় দিতেন, তেমনি কখনও নিজেও পরিকল্পনা এঁকে দিতেন। ক্রসফায়ার নিহতদের অধিকাংশই ছিল কোন না কোন মহলের প্রতিপক্ষ। আবার কেউ নীরহ গোছের ব্যক্তি। ক্রসফায়ার দেয়ার আগে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই নাটকীয় কাহিনী তৈরি করা হত। ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এসপি মাসুদের অতি উৎসাহী এবং এর পেছনে আর্থিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিহিত থাকার ঘটনা জেলার অন্যান্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অবগত হওয়ায় এই পুলিশ কর্মকর্তার দুর্বলতা জেনে তারাও মাদকসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। অনেক নীরহ ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে তুলেনিয়ে হত্যা, আবার কখনও মোটা অংকের লেনদেনে প্রাণ ভিক্ষা দেওয়ায় এসপি মাসুদের গ্রীণ সিগনাল থাকতো। এভাবে গোটা কক্সবাজার জেলাকে এমন ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেছিল যে পুলিশ হাত বাড়ালেই চলে আসতো টাকার বস্তা। নচেৎ কোন না কোন সড়কের পাশে পড়ে থাকতো কথিত ক্রসফায়ারে নিহত ব্যক্তির লাশ। এমন ঘটনাও ঘটেছে আর্থিক লেনদেনে বনিবনা না হওয়ায় ব্যক্তি বিশেষকে বাড়ি থেকে ধরে প্রাক্কালে তার স্বজনদের জানিয়ে আসতো আগে-ভাগেই কবর খুঁড়ে রাখার জন্য।

গত ২ বছরে কক্সবাজার জেলায় এ ধারা চালু করতে কৌশলি এসপি এবিএম মাসুদ ওরফে মিন্টু সরকারের মাদক অভিযানের সুযোগ নিয়ে সরকার ও রাষ্ট্রের কাছে নিজের দক্ষতা এবং স্বচ্ছতা প্রমাণে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী জেলা কক্সবাজারকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে পরিণত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আর এই সাফল্য দেখাতেই ওসি প্রদীপকে মোখ্যম কর্মকর্তা বা আস্থাভাজন হিসেবে ‘যা খুশি তাই করো’ এরূপ ক্ষমতা দিয়েছিলেন। সরকারি সংস্থার তদন্ত সূত্র বলছে, মহেশখালীর ৬৮ জন জলদস্যুর আত্মসমর্পণের ক্ষেত্রে বাধা দিয়েছিলের ওসি প্রদীপ। এ ঘটনায় প্রদীপকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ থাকলেও ১৫ দিনের মাথায় প্রদীপকে টেকনাফের ওসির দায়িত্ব দেন এসপি মাসুদ।

কথিত আছে-উড়ন্ত ইয়াবা ডন হিসেবে চিহ্নিত ১০২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে কোটি টাকার বিনিময়ে আত্মসমর্পণের নামে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। অন্যদিকে ক্রসফায়ারে দেয়া হয়েছে মাদক বহনকারী চুনোপুঁটিদের। এতে ইয়াবার রাজ্য কক্সবাজারে যেমন ছিল তেমনই আছে। কিন্তু এসপি মাসুদের এই কৌশল কিভাবে গোয়েন্দারা এতোদিন উপলব্ধি করতে পারলো না তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি প্রদীপের ন্যায় একজন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও এসপি মাসুদের পাহাড়সম অর্থবিত্ত ও অপরাধ জগত তৈরিতে কক্সবাজার মগের মুল্লুক পরিণত করার এতো সময়কাল কিভাবে পেলো সে প্রশ্নের উত্তর চাওয়া শুরু হয়েছে।

মূলত সিনহা মো. রাশেদ খান একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হওয়ায় তাকে হত্যার বিষয়টি ক্রসফায়ার নাটকে রূপ দিতে ব্যর্থতাই এসপি মাসুদের অর্থ উপার্জনে প্রদীপের আলো নিভে যায়। সেই সাথে বেরিয়ে আসছে প্রদীপের নিচে অন্ধকারে কক্সবাজারে মাদক প্রতিরোধের নামে বিভিন্ন ব্যক্তিকে হত্যার মিশন এবং কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যে কিভাবে ওসি প্রদীপ আলো ছড়িয়ে ছিলেন। আর সেই আলোর পাশে অন্ধকারে থেকে এসপি মাসুদ অনৈতিকভাবে ক্ষমতার ছড়ি ঘুড়িয়ে নিজের আর্থিক ভিত নিভৃতে শক্ত করে মালয়েশিয়া পর্যন্ত বাড়ি-গাড়ীর মালিক হয়েছেন। কিন্তু নিজ এলাকা মেহেন্দিগঞ্জের মানুষের কাছে নিজের সাচ্ছা সৎ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে জাহির করতে দক্ষিন উলানিয়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে চারচালা টিনের চালের ঘর তৈরি করে সেখানেই বেড়াতে এসে সাদাসিদেভাবে বাজার-ঘাটে বসতেন এবং বলতেন তিনি অন্যায়ের কাছে আপোষ করতেন পারেন না। এলাকায় তাদের তেমন ফসলী জমিজমা নেই। চাকুরির ওপর নির্ভরশীল গোটা পরিবারটির পরিচয় শিক্ষক পরিবার হিসেবেই। গোয়েন্দা নজর এড়াতেই তিনি এই কৌশল নিয়েছিলেন এমনটি এখন ভাবা হচ্ছে। কিন্তু মেহেন্দিগঞ্জের উলানিয়ার বাসিন্দারা বিশ্বাস করতে পারছেন না সেই এবিএম মাসুদ ওরফে মিন্টুর চেহারার আড়ালে আরেকটি ভয়ঙ্কর রূপ লুকিয়েছিল।

দক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লিটন এবং এসপি এবিএম মাসুদের সহপাঠি হাসান অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে বরিশালটাইমসকে বলেন, আসলে এখন যা শোনা যাচ্ছে, তা এখনও তারা বিশ্বাস করতে পারছেন না তার অতীত জীবন ও পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড বিবেচনায়। এমনকি গ্রামে থাকা ভাই-বোনরাও এসপি মাসুদ ওরফে মিন্টুর অপকর্মের লজ্জায় নুয়ে পড়েছেন, কথা বলতে চান না মিডিয়ার সাথে। মানুষজন এড়িয়ে চলছেন। অথচ মাসুদের ক্ষমতার রাজ্য সাবেক মেজর সিনহাকে হত্যার পেছনে তার হাত ছিল এবং তার আর্থিক উত্থ্যান কিভাবে ঘটেছে তা এখন প্রকারন্তরে বেড়িয়ে আসায় সবাই হতবাক।

উল্লেখ্য, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহাকে গত ৩১শে জুলাই টেকনাফের মেরিন ড্রাইভের চেকপোস্টে গুলি করে হত্যা করেন এসআই লিয়াকত। কারণ মাদক প্রতিরোধের নামে ক্রসফায়ারে রক্তাক্ত জনপদে রূপ দেওয়া কক্সবাজার নিয়ে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য ডকুমেন্টারি ফিল্ম তৈরি করতে গিয়েছিলেন সাবেক মেজর সিনহা মো. রাশেদ। আর তাতেই ফাঁস হয়ে যাচ্ছিল এসপি মাসুদ এবং ওসি প্রদীপের অপকর্মের আদ্যপান্ত। যা আঁচ করতে পেরেই ঘটনার দিন বিকেল থেকে রাত অবদি ওসি প্রদীপকে দিয়ে মিশন আঁকা হয়েছিল তরুণ এই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে ডাকাত হিসেবে ক্রসফায়ারের নাটকে রূপ দিতে। ঘটনার পরই লিয়াকত ও ওসি প্রদীপ এসপি মাসুদের সঙ্গে মোবাইলফোনে কথা বলেন। এনিয়ে ওসি প্রদীপও কথা বলেন পুলিশ সুপারের সঙ্গে। এই ত্রিজনের কথোপকথনের অডিও প্রকাশ্যে আসায় এসপি মাসুদ এখন আর এড়িয়ে যেতে পারছেন না। ফলে এই ঘটনা নিয়ে গোটা দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে তোলপাড়। কিন্তু মেহেন্দিগঞ্জে শুধু বিস্ময় এবং হতভম্ভ।

জাতীয় খবর

আপনার মতামত লিখুন :

 

ভারপ্রাপ্ত-সম্পাদকঃ শাকিব বিপ্লব
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮ | বরিশালটাইমস.কম
বরিশালটাইমস লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।
শাহ মার্কেট (তৃতীয় তলা),
৩৫ হেমায়েত উদ্দিন (গির্জা মহল্লা) সড়ক, বরিশাল ৮২০০।
ফোন: ০৪৩১-৬৪৮০৭, মোবাইল: ০১৮৭৬৮৩৪৭৫৪
ই-মেইল: [email protected], [email protected]
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮
টপ
  বরিশালের ৫ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী যারা...  রাজপুরে র‌্যাবে অভিযানে ধারালো অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার  টুঙ্গিপাড়া জাতির জনকের মাজার জিয়ারত করলেন বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতি  ঝালকাঠিতে শিক্ষক সমিতির জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন  পায়রা সেতু নামকরণ হবে ‘শেখ হাসিনা সেতু’  ভিপি নুরের বিরুদ্ধে করা দুটি মামলা বরিশালে প্রত্যাহার দাবি  ঝালকাঠিতে সাংবাদিকদের ঐক্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্মারকলিপি  পদ্মা সেতুকে ঘিরে বরিশালে বিনিয়োগের ডালা খুলছে  তজুমদ্দিনে বিয়ে বাড়িতে খাবারে নেশা মিশিয়ে স্বর্ণালংকার চুরি, ৬ জন হাসপাতালে  ভান্ডারিয়ায় মুন্ডহীন লাশ উদ্ধার