২৫শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

বরিশালের সেই মুক্তিযোদ্ধার ভূসম্পত্তি রক্ষার্থে ঢাকায় সাংবাদিক সম্মেলন, আসছে আরও কর্মসূচি

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৯:২২ অপরাহ্ণ, ০১ এপ্রিল ২০২৪

বরিশালের সেই মুক্তিযোদ্ধার ভূসম্পত্তি রক্ষার্থে ঢাকায় সাংবাদিক সম্মেলন, আসছে আরও কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:: বরিশালের দক্ষিণ রুপাতলী এলাকার আলোচিত মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আব্দুল মন্নান খান বাদশার বাড়িসহ ভূসম্পত্তি রক্ষা এবং চিহ্নিত ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রণের জোর সুপারিশ রেখেছে রাজধানী ঢাকার একটি সাংবাদিক সংগঠন। জার্নালিস্ট ইউনিট সোসাইটি নামক এই সংগঠনটি রাজধানীর মিরপুর মুক্ত বাংলা কমপ্লেক্সে সোমবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক নেতারা বরিশালের মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে হয়রানি বন্ধ করাসহ জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন। ইতিপূর্বে এই দাবির স্বপক্ষ নিয়ে ইতিপূর্বে সংবাদ সম্মেলন করে আরও দুটি আলোচিত সংগঠন মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটি এবং রাইট টক বাংলাদেশ। এর সপ্তাহখানেকের মাথায় সোমবার একই দাবিতে রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলন করল সাংবাদিকদের একটি সংগঠন। শোনা যাচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি এবং ভূমি রক্ষার্থে রাজধানীর আরও কয়েকটি সংগঠন বেশকিছু আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে।

সোমবার মিরপুর মুক্ত কমপ্লেক্সে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে জার্নালিস্ট ইউনিট সোসাইটি সভাপতি ও শহীদ সন্তান শেখ নজরুল ইসলাম। এই সাংবাদিক নেতা লিখিত বক্তব্যে বলেন, বরিশালের প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মন্নান খান বাদশার বাসাবাড়ি দখল করা এবং এর অভ্যন্তর দিয়ে সড়কপথ নিতে স্থানীয় একটি ভূমিদস্যু চক্র ষড়যন্ত্র করে আসছে। শেখ ছালাম এবং শামীমসহ কতিপয় ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধার বাসার পেছনের অংশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিল। এবং তারা বাদশা মিয়া জীবত থাকাকালীন বাসার ভেতর থেকে হাঁটাচলা শুরু করে, যা এখনও চলমান আছে। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পরে এই চক্রটি সেই বাসার ভেতর থেকে একটি স্থায়ী রাস্তাকরণে ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে, যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে খোদ মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ফাতেমা বেমগসহ পুত্র আব্দুল্লাহ আল নাঈম রয়েলকে মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে হয়রানি করছে। শুধু এতে খ্যান্ত হয়নি, চলছে আরও বহুমুখী অপতৎপরতা। যার প্রতিবাদস্বরুপ রাজধানী দুটি আলোচিত সংগঠন মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটি এবং রাইট টক বাংলাদেশ জানিয়েছে। এবং ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণের ক্ষেত্রে বরিশালের পুলিশ প্রশাসনসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে। কিন্তু তারপরেও হয়রানি অব্যাহত থাকায় এবার সংবাদ সম্মেলন করে জার্নালিস্ট ইউনিটি সোসাইটি। এতে মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জাফর ইকবাল নান্টু এবং রাইট টক বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আল আমিন এম তাওহীদসহ নেতারা উপস্থিত থেকে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।

বরিশালের স্বাধীনতা সংগ্রামীর পরিবারকে হয়রানির ওপর রাখার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন সাংবাদিক নেতারা। এবং তারা হুঁশিয়ারি উচ্চরণ করে বলেছেন, প্রাথমিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে, এতে যদি ভূমিদস্যু চক্র না দমে তাহলে বরিশাল এবং ঢাকাসহ গোটা দেশে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের নিয়ে আন্দোলনে অগ্রসর বাধ্য হতে হবে।

সূত্রে জানা গেছে, অনুরুপ দাবিতে এর আগে দুটি সংগঠন মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটি এবং রাইট টক বাংলাদেশ সংবাদ সম্মেলন করলে তা পত্র-পত্রিকায় মোটা দাগে প্রকাশ-প্রচার হলে বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি নিবন্ধন হয়। এর পরে বরিশাল এবং ঢাকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিষয়টি সম্পর্কে বিষদ জানতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। এমনকি এই ইস্যুতে বীর সন্তানের পরিবারকে সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানসহ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

এই তথ্য মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রয়েল নিশ্চিত করে জানান, এত সব প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্যেও ভূমিদস্যুরা দমছে না। বরং তারা এখন বাসা গুড়িয়ে দেওয়াসহ তাদের জীবননাশের হুমকি-ধামকি দেয়, দিচ্ছে। এ থেকে নিস্তার পেতে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী-সন্তান বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের শরণাপণ্ন হয়েও কোনো সুফল পাননি বলে অভিযোগ করেন রয়েল।

বাদশা মিয়ার স্ত্রী ফাতেমা বেগম জানান, তার স্বামী জীবিত থাকার সময় পেছনের অংশের গুটি কয়েক পরিবারকে হাঁটাচলা করতে সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর একটি চক্র একত্রিত হয়ে এখন স্থায়ী সড়ক করতে চাইছে, যা বাস্তবায়ন করা গেলে তাদের ভূমির মূল্য কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। মূলত এই ধান্দায় তারা যে কোনো মূল্যে চাইছেন জাতির বীর সন্তানের নামকরণে নির্মিত স্মৃতি ফলক ভেঙে ফেলাসহ সড়ক পথ তৈরি করতে। তাদের এই অনৈতিক প্রস্তাবে সম্মত না হওয়ায় এখন নানাভাবে হয়রানি করছে, কখনও মামলা দিয়ে আবার কখনও বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করে। এমনকি এ ইস্যুতে চক্রটির মূলহোতা আলোচিত ব্যাংক ডাকাতি ও পুলিশ পেটানো মামলার আসামি শামীম সামিল থেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বিরুদ্ধাচারণ করাসহ একমাত্র পুত্র রয়েলকে কালোবাজারি আখ্যা করেছেন। রয়েলকে কোনো কালোবাজারি বলা হলো এই প্রশ্ন জানতে ওই ডাকাত শামীমের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি নিজেও কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

জানা গেছে, আলোচিত মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি ইস্যুতে বরিশাল প্রশাসনও নড়েচড়ে বসেছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ বিষয়টির আদ্যপান্ত ইতিমধ্যে নিশ্চিত হলেও ভূমিদস্যু চক্রটি তাদের জমির মূল্যবৃদ্ধির নেশায় বুদ হয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে হয়রানি করছে, যেখানে রাষ্ট্রের আইনও উপেক্ষিত থাকছে!

প্রতিবাদ জানানো তিনটি সংগঠনের নেতৃত্বপর্যায়ের নেতাদের সাথে আলাপচারিতায় জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে হয়রানির ইস্যুতে তাদের পিছু হঠার কোনো সুযোগ নেই। বরং আগামীতে তারা আরও বৃহৎ কর্মসূচি ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। এবং এই পরিবারটিকে কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, সেই ভাবনায় তারা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এবং মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের অপেক্ষায় আছেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেই সাক্ষাতের পরেই ভূমিদস্যু চক্রের ওপর আইনি খড়গ আসতে পারে।’

213 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন