১৬ মিনিট আগের আপডেট বিকাল ২:৩৫ ; সোমবার ; মে ১৬, ২০২২
EN Download App
Youtube google+ twitter facebook
×

বরিশালে আকস্মিক চালের দাম বৃদ্ধি

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট
১১:৪৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০১৬

বরিশাল: বাজারে প্রতিদিনই বেড়ে চলছে মোটা বুলেট স্বর্ণা চালের দাম। ধানের পর সরকার এবার চাল কিনতে শুরু করায় চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নেই বলে হঠাত করে এই দর বৃদ্ধি।

বরিশালের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন ওঠা বুলেট স্বর্ণা চালে কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে সাড়ে ২৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পুরানো স্বর্ণা বুলেটে কেজিতে ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩১ টাকা দরে। একইভাবে চিকন-২৮ চালের দাম কেজিতে ২ টাকা বাড়লেও মিনিকেট চালের বেলায় অনেকটা অপরিবর্তিত রয়েছে। স্থানীয় মোটা চলের বাজারও কেজিতে ২ টাকা করে বেড়েছে।

দর বৃদ্ধির প্রভাব অব্যাহত থাকবে বলে জানান মেসার্স আলভি ইন্টারন্যাশনাল আড়তের মালিক শেখ মাসুদ রানা। কৃষকদের উপযুক্ত মূল্য পাইয়ে দেওয়ার জন্য ধানের পর চাল ক্রয়ে সরকারের এই পরিকল্পনা বলে জানালেন আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন।

জেলা মার্কেটিং অফিসার জানান, চালের বাজার দর বৃদ্ধি সাময়িক। বন্যার প্রভাব কাটলে ঠিক হয়ে আসবে।

ঈদ উপলক্ষে সরকার দুস্থঃদের মধ্যে চাল বিতরণ করায় পুরো জুলাই মাস জুড়েই বরিশালে চালের বাজার বাড়েনি। চালের প্রধান মোকাম নগরীর ফরিয়াপট্টির আড়ৎদাররা জানান, এবার জুলাই মাসে তাদের ব্যবসায় মন্দাভাব ছিল। তবে আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ফের চালের বাজার চাঙ্গা হতে থাকে। মিল মালিকরা চাল সরবরাহ করতে পারছেন না বলে একদিনের ব্যবধানে পুরাতন স্বর্ণা বুলেট চালে কেজিতে ১ টাকা বেড়েছে। এই হিসেবে পুরাতন স্বর্ণা বুলেট বিক্রি হচ্ছে ৩১ টাকা কেজি দরে। নতুন (হাইব্রিড) স্বর্ণা বুলেটের দর চলছে সাড়ে ২৮ টাকা কেজিতে। চিকন-২৮ চালের দাম ৩৫ টাকা করে। কেবল মিনিকেট চালের বেলায় দশমিক ৫০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে প্রকার ভেদে সাড়ে ৪২ থেকে ৪৩ টাকা কেজি দরে। আর স্থানীয় ইরি বা কাজলা মোটা চাল কেজিতে ২ টাকা বেড়ে বুধবার (১০ আগস্ট) বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে প্রতি কেজি ২৮ থেকে ২৯ টাকা দরে।

মা বানিজ্য ভাণ্ডারের কমল সাহা জানান, বরিশালে ৫৫ ভাগ ক্রেতা বুলেট, ২৫ ভাগ ক্রেতা আঠাস চাল, ১৫ ভাগ মিনিকেট আর ৫ ভাগ ক্রেতা স্থানীয় মোটা চাল কিনে থাকেন। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ মোটা স্বর্ণা বুলেট চাল ক্রয় করেন। সারাদিন কাজ শেষে সন্ধ্যার পর রান্না করলে পরদিন সকালে ভাত খেয়ে পানি দিয়ে রাখলে দুপুরেও খাবার উপযোগী থাকে। এজন্য অগ্রহায়ণ মাসে বাজারে আসা গুটি ইরি চাল মিল মালিকরা মওজুদ করে রেখে পুরাতন হলে বৈশাখ মাস থেকে বাজারে ছাড়তে শুরু করেন। পুরাতন এই স্বর্ণা চালের ভাত তিন বেলা খাওয়ার উপযোগী থাকায় এই চালের চাহিদা সবচেয়ে বেশী থাকে।

আর এই সুযোগে স্বর্ণা চালের দাম বাড়িয়ে নিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে নাটোরের থ্রিষ্টার রাইস এজেন্সির ম্যানেজার আবদুস ছালাম বলেন, আড়ৎদারদের চাহিদার পাশাপাশি সরকারী খাদ্য গুদামের প্রয়োজনীয় চাল তৈরী করছেন তাই সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। আর ধানের বাজার ৮’শ ৮০ থেকে ৯’শ টাকা মণ চলায় চালের দর কিছুটা বেড়েছে। এছাড়া বর্ষা মৌসুম চলমান। তাই প্রয়োজনীয় ধান ও শ্রমিক পেতে অসুবিধা হচ্ছে। এই সুযোগে কেউবা বাজার দর বাড়িয়ে নিচ্ছেন।

চালের আড়ৎদার শেখ মাসুদ রানা বলেন, প্রতিদিন তাদের ফরিয়াপট্টিতে ১০ গাড়ি চালের প্রয়োজনের বিপরীতে ২ গাড়ি মাল পাচ্ছেন। মিল মালিকদের কাছে অনেক ব্যবসায়ী বুলেট স্বর্ণা চালের জন্য অগ্রিম টাকা দিয়েছেন। তারপরও নির্দিষ্ট সময়ে চাল সরবরাহ করছেন না। এজন্য যে চাল পান তা ভাগ করে নেন, কেউবা পাইকার টিকিয়ে রাখার জন্য বাড়তি দামে কিনে থাকেন।

দাম বাড়ার কথা ভেবে ব্যবসায়ীরা চাল আগাম মওজুদ করে রেখেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ধানের পর সরকার চাল কিনবেন আর এসময়ে সংকট তৈরী হবে, এটা ব্যবসায়ীরা বুঝতে পারেননি। এখানকার আড়তে ৮ থেকে ১০ দিনের চাল মওজুদ থাকে বলে ব্যবসায়ীদের দাম বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগও থাকে না।

দাম বাড়ার ব্যাপারে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন বলেন, চালের বাজার দর বেড়েছে কিনা এটা তার জানা নেই। তাদের লক্ষ্য হলো কৃষক যাতে তাদের উৎপাদিত ধানের মূল্য পান। এজন্য ৫ মে থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত ২৩ টাকা কেজি দরে ধান ক্রয় করেছেন। আর আগস্টের শুরু থেকে পুরো মাস জুড়ে ৩২ টাকা কেজি দরে বিভাগের ৬ জেলা থেকে ১২ হাজার ৭’শ মে.টন চাল কিনছেন। উল্লেখিত সময়ের মধ্যে চাল কিনতে না পারলে সময় বাড়ানো হতে পারে।

রাত পেরুলেই চালের দর পাইকারী বাজারে ১ থেকে দেড় টাকা করে বাড়ছে। এই সুযোগে খুচরা দোকানীরা ইচ্ছা মাফিক দর নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন নগরীর বেলতলার ক্রেতা মো. মামুন মিয়া। যে স্বর্ণা বুলেট আড়তে বিক্রি হয় ৩১ টাকায়, তা তাদের এলাকায় ৩৪ টাকা করে চাচ্ছেন দোকানীরা। বাড়তি দামের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেই যাতায়াত খরচের দোহাই তোলেন।

ক্রেতাদের এই অভিযোগের বিষয়ে জেলা মার্কেটিং অফিসার লিয়াকত হোসেন বলেন, বন্যা ও বৃষ্টির অজুহাত তুলে মোকামে আরো আগেই চালের দাম বৃদ্ধি করেছেন ব্যবসায়ীরা। বরিশালে এর প্রভাব সবে শুরু হয়েছে।

দাম অস্বাভাবিক হারে নিচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে এখন থেকে পাইকারী বাজার ঘুরে দেখবেন বলেও জানান তিনি । লিয়াকত হোসেন আরো জানান, বন্যার প্রভাব কেটে গেলে চালের বাজার স্থিতিশীল হয়ে আসবে।

খবর বিজ্ঞপ্তি, বরিশালের খবর

 

আপনার মতামত লিখুন :

 
ভারপ্রাপ্ত-সম্পাদকঃ শাকিব বিপ্লব
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮ | বরিশালটাইমস.কম
বরিশালটাইমস মিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।
ইসরাফিল ভিলা (তৃতীয় তলা), ফলপট্টি রোড, বরিশাল ৮২০০।
ফোন: +৮৮০২৪৭৮৮৩০৫৪৫, মোবাইল: ০১৮৭৬৮৩৪৭৫৪
ই-মেইল: [email protected], [email protected]
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮
টপ
  যানজট নিরসনে ইউএনওর অভিযান, জরিমানা  কুকুরের মাংস দিয়ে বিরিয়ানি বিক্রি: ব্যবসায়ী আটক  নাজিরপুরে পি কে হালদারের পৈতৃক ভিটায় শুধু ভাঙা ঘর!  সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক অসুস্থ: হাসপাতালে ভর্তি  ৬৫ বছর বয়সে কলেজছাত্রীকে বিয়ে করলেন সাবেক এমপি বাবু  ঝালকাঠিতে পিকআপের সাথে সংঘর্ষে শিক্ষানবিশ আইনজীবী নিহত  সাবেক ভিপি নুরের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলার আবেদন  হাজার কোটি টাকা পাচারকারী পি কে হালদার তিনদিনের রিমান্ডে  অসুস্থ বিএনপি নেতা মঈন খান আইসিইউতে  পিরোজপুরে ‘ধর্ষণের শিকার’ গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার