৬ ঘণ্টা আগের আপডেট রাত ৪:১৪ ; রবিবার ; মে ২২, ২০২২
EN Download App
Youtube google+ twitter facebook
×

বরিশালে চলন্ত লঞ্চ থেকে রেজার ঘাতক গ্রেপ্তার

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট
১২:৪০ পূর্বাহ্ণ, মে ৩০, ২০১৬

বরিশাল: বরিশাল পলিটেকনিক কলেজ ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত রেজাউল করিম রেজার মূলঘাতক মেহেদী আত্মগোপনে চাওয়ার চেস্টা চালিয়ে ব্যর্থ হলো। ঢাকার উদ্দেশ্যে বরিশাল থেকে ছেড়ে যাওয়ার প্রাক্কালে চলন্ত এমভি কালাম খান লঞ্চ থামিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। শনিবার সন্ধ্যা রাতে বরিশাল লঞ্চ টার্মিনাল থেকে মাইল খানেক দূরত্ব বেলতলা এলাকা সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর মাঝ থেকে তাকে আটক করা হয়।

 

প্রাণবিয়োগের সংঘাতের দুই দিন পর এই গ্রেপ্তারের ঘটনা অনেকটা বাংলা সিনেমার অংশ বিশেষ ঘটনার ন্যায়। মেহেদী রাজনৈতিক আশ্রয় এবং আশ্বস্থ হতে না পেরে ঢাকার উদ্দেশ্যে বরিশাল ছাড়তে উদ্যোগী হয়েছিলো বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় ১৪ আসামীর মধ্যে মেহেদী অন্যতম। তবে ঘটনার সাথে তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য বরিশাল পলিটেকনিক কলেজ এখন মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারীদের দখলে।

 

কিন্তু সদর আসনের সাংসদ জেবুন্নেছা আফরোজ অংশের অনুসারীদের দাপটও কম নয়। সাদিকের পক্ষে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক অন্যদিকে জেবুন্নেছার অনুকুলে মহানগর ছাত্রলীগ নেতা জসিম উদ্দিন সেখানে তাদের অনুসারীদের সার্বিক সহায়তা দিয়ে আগলে রাখছে। এ দুই নেতার পক্ষে বিপক্ষে সেখানে ফাহিম ও পলিটেকনিক কলেজ ছাত্রলীগ নেতা কালা জসিম গ্রুপের সৃষ্টি। কলেজের নিয়ন্ত্রণ এবং আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই দুই গ্রুপের মধ্যে মন কষাকষি থেকে বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। সূত্র জানায়, বিষয়টি সাদিক আব্দুল্লাহ ও জেবুন্নেছা অবগত এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের নানা সুপারিশেও তাদের মধ্যে ঐক্য ঘটাতে পারেনি।

 

এর ফলে এই দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে প্রায় নানা বিষয় নিয়ে সংঘাত-সংঘর্ষ কলেজকে উত্তপ্ত করে রাখে। এর মধ্যে আবার সাদিক আব্দুল্লাহর অনুসারীদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন ইস্যুতে। তারই জের ধরে সাদিক আবদুল্লাহ অনুসারে ফাইম-রেজা গ্রুপের মধ্যে উপদল সৃষ্টিতে গত ২৭ মে রাতের সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এবং এই সংঘাত ছিলো পূর্ব ঘটনাবলীর চেয়েও ভয়াবহ। এই দিনের এ সংঘাতের মূলে ছিলো বেশ কয়েক দিন পূর্বে ফাহিমকে কুপিয়ে রগ কর্তন।

 

ওই ঘটনায় সাদিক অনুসারীদের মধ্যকার উপদল সদর আসনের সাংসদ জেবুন্নেছা অনুসারীদের মধ্যে ঐক্যের জের ধরেই ঘটে। এর পরই সাদিক অনুসারীরা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। সামান্য একটি বিষয় নিয়ে ফাহিম-রেজা গ্র“পেরই এক অনুসারীকে উপদলের এক ক্যাডার জাহিদ হুমকি দেয়। কে এই জাহিদ? জানা গেছে, জাহিদ কলেজের ছাত্র হলেও আমির কুটির এলাকার হরিজন পল্লী সংলগ্ন তার আবাসস্থল। এমতাবস্থায় কলেজে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। নেপথ্য থেকে জেবুন্নেছা আফরোজের অনুসারীরা উত্তাপের আগুনে ঘি ঢেলে দিচ্ছিলো।

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সন্ধ্যা ৮টার পরপরই ফাহিম ও রেজা কলেজে প্রবেশ মাত্রই সেখানে উৎ পেতে থাকা কালা জসিম গ্র“প শুরু করে বেধড়ক রাম দা’র কোপ। প্রায় ২০-২৫ জনের এই দলের প্রত্যেকের হাতে দেশীয় অস্ত্রও দেখা যায়। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই ফাহিম ও রেজা হতভম্ভ হয়ে পড়ে এবং নিরাপদে যাওয়ার চেস্টা করে।

 

কিন্তু ওই হামলায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ বহিরাগত সন্ত্রাসীরা এমন ভাবে জাল বিছিয়ে রেখেছিলো যে, অন্তত ফাহিম ও রেজাউল করিম রেজা কোনভাবে বের হতে না পারে। ফলে দু’জনকে এমন ভাবে কোপানো হয় যে, তাদের জীবন সংকটপন্ন হয়ে ওঠে। তাদের সাথে আরও বেশ কয়েকজন কমবেশি গুরুতর আহত হয়।

 

কিন্তু প্রথমে শেবাচিমে নিয়ে যাওয়ার পর বেশি গুরুতর মনে করে ফাহিম ও রেজাকে ওই রাতেই ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেয় চিকিৎসকরা। প্রস্তুতি নেওয়ার পূর্বেই রাত ৯টার পরই রেজা মৃত্যু কোলে ঢলে পড়ে। অন্যদিকে ফাহিমকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রেজাউল করিম রেজা বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের অন্যতম নেতা। তার বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল এলাকার গরিপাশা গ্রামে। পিতা মৃত আব্দুল সাত্তারের পুত্র রেজাউল মেধাবী হিসেবে পরিচিত।

 

একাধিক সূত্রের দাবি, রেজার মৃত্যুতে বরিশাল আ’লীগ ও অংগ সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী আফসোস করেন। কারণ উঠতি বয়সের এই নেতার বেশ কিছু গুন দলীয় নেতাদের মন জয় করেছিলো। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, রেজার মৃত্যুর পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মামলা দায়েরের উদ্যোগ নিলেও পুলিশ তার গ্রহনে কালক্ষেপন করছিলো।

 

সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী প্রভাবশালী একটি মহল কোন ক্রমেই যেন মামলাটি এই মুহূর্তে গ্রহন করা না হয় তার জন্য জোর তদবিরে থানার দরজা অনেকটা বন্ধ হয়ে থাকে। জানা গেছে, জেবুন্নেছা আফরোজ নিজেই পুলিশকে মামলাটি গ্রহনে বিরত রাখে। সূত্রের দাবি, জেবুন্নেছা চেয়েছিলেন সাদিক গ্রুপের মধ্যকার অনুসারীদের এই ঘটনা থেকে রক্ষা করে নিজ অনুকুলে নিয়ে আসতে।  যদিও পুলিশের দায়িত্বশীল কোন কর্তাব্যক্তি এ অভিযোগ স্বীকার করতে নারাজ। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

অপরদিকে, সাদিক আবদুল্লাহ মামলাটি গ্রহনে চাপের মুখে ফেলে দেয় কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশকে। শ্যাম রাখি না কূল রাখি এমতাবস্থায় দুই পক্ষের দুই শীর্ষ নেতা মামলাটি নিয়ে পরস্পর বিরোধী অবস্থান নেওয়ায় হামলায় অংশ নেওয়া ঘাতকরা আর নিজেদের নিরাপদ ভাবতে পারছিলো না। সেই আশংকা থেকেই হামলায় অংশ নেওয়া অন্যতম একজন মেহেদী হাসান গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশ্যে এমভি কালাম খান লঞ্চ যোগে বরিশাল ছাড়ার উদ্যোগ নেয়।

 

দুই দিন আত্মগোপনে থাকার পর গতকাল লঞ্চে ওঠার পর পুলিশের কাছে খবর আসে মেহেদী কালাম খান লঞ্চে অবস্থান করছে। পুলিশ বরিশাল লঞ্চ টার্মিনালে পৌছানোর আগেই রাত ৯টায় লঞ্চটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেয়। এক পর্যায়ে একটি স্পীডবোর্ট যোগে কোতয়ালী মডেল থানার তিন এসআই যথাক্রমে মুরাদ আহম্মেদ, তাহের হোসেন ও দেলোয়ার হোসেন লঞ্চের পিছু নেয়।

 

বরিশাল লঞ্চ ঘাট থেকে মাইল খানেক দূরত্বের বেলতলা নামক স্থান লাগোয়া কীর্তনখোলা নদীর মাঝে লঞ্চটি গতি রোধ করতে সক্ষম হয়। এক পর্যায়ে তারা মেহেদীকে লঞ্চের কেবিনের সামনে বসে থাকা অবস্থায় আটক করে। বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার চলতি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা আতাউর রহমান জানান, তাদের কাছে খবর আসা মাত্রই লঞ্চে যোগাযোগ করে সেখানে কর্তব্যরত আনসারদের বিষয়টি অবগত করে মেহেদীকে নজরে রাখার নির্দেশ দেয়।

 

 

এক পর্যায়ে তাকে আটক করে নামিয়ে নিয়ে আসার পর লঞ্চটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, মেহেদীকে গ্রেপ্তারের অর্ধঘন্টার মাথায় সেই মামলাটি এজাহার হিসেবে পুলিশ গ্রহন করে। সেখানে ১৪ জন আসামীর মধ্যে অন্যতম দেখানো হয়। মামলার বাদী নিহতের ভাই রিয়াজ উদ্দিন।

 

সুতরাং এই ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রমানিত হয় মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহনে রাজনৈতিক চাপ থানার চারপাশেই ঘুরপাক খাচ্ছিলো।

 

উল্লেখ্য, গ্রেপ্তার মেহেদী মহানগর আ’লীগের অন্যতম নেতা ও সাবেক কমিশনার আলমগীর হোসেন আলোর আপন ভাগিনা। সম্প্রতি ঢাকায় র‌্যাবের হাতে আটক বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্রলীগ জুবায়েরের আপন বড় ভাই। বেশ কয়েকটি সূত্রের দাবি হামলার প্রাক্কালে মেহেদীকে দেখা যায়নি।

 

তাছাড়া মেহেদী যুবলীগ রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তবে হামলায় অংশ নেওয়া ক্যাডাররা অনেকেই মেহেদীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত বিধায় ফেঁসে গেছেন।

বরিশালের খবর

 

আপনার মতামত লিখুন :

 
এই বিভাগের অারও সংবাদ
ভারপ্রাপ্ত-সম্পাদকঃ শাকিব বিপ্লব
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮ | বরিশালটাইমস.কম
বরিশালটাইমস মিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।
ইসরাফিল ভিলা (তৃতীয় তলা), ফলপট্টি রোড, বরিশাল ৮২০০।
ফোন: +৮৮০২৪৭৮৮৩০৫৪৫, মোবাইল: ০১৮৭৬৮৩৪৭৫৪
ই-মেইল: [email protected], [email protected]
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮
টপ
  দৌলতখানে বিকল্প জীবিকার জন্য ১৫ জেলে পেল বকনা বাছুর  আওয়ামী লীগ উন্নয়নের সরকার: এমপি শাওন  ‘ভাদাইমা’ খ্যাত কৌতুক অভিনেতা আহসান আলী আর নেই  দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হাজি সেলিম কারাগারে  ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট নিয়ে বার্ষিক পরিকল্পনা ও নাগরিক মতামত  সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারক গ্রেপ্তার  বরিশালবাসীর স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন জুনের শেষ সপ্তাহে  মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবি: ৮ জেলেকে উদ্ধার করল কোস্টগার্ড  বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস  বরিশালে নৌকাডু‌বিতে নিখোঁজ জেলের লাশ উদ্ধার