২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

বরিশালে পুকুর দখল করে পুলিশের স্টল নির্মাণ!

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৫:৪৭ অপরাহ্ণ, ২৩ অক্টোবর ২০১৬

বরিশাল নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের মল্লিক রোডের ঐতিহ্যবাহী একটি পুকুর দখল করে স্টল নির্মাণ করছে জেলা পুলিশ। পুকুরের দক্ষিণ পাশ ঘেঁষে সেখানে ১০ থেকে ১২টি স্টল নির্মিত হচ্ছে। এজন্য পুকুরের মধ্যে পিলারও স্থাপন করা হয়েছে। যদিও ওই পুকুরে যে কোনো নির্মাণ কাজের ওপর স্থিতি অবস্থা জারি করেছেন উচ্চ আদালত এমনটাই জানা গেছে।

 

শনিবার বরিশাল জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে পরিবেশ সম্মিলনে এ নিয়ে অভিযোগ করা হলে জেলা প্রশাসক ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামান যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। এদিকে রিট দায়েরকারী হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ গতকালই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুকুর দখলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বরিশাল নদী-খাল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিপলু বলেন, শনিবার পরিবেশ সম্মিলনে নগরীর মল্লিক রোডের পাশের পুকুর দখল করে জেলা পুলিশের স্টল নির্মাণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। ওই সম্মিলনে পুকুরটি নিয়ে রিট দায়েরকারী হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ উপস্থিত ছিলেন। সম্মিলনে পুকুর দখল বন্ধে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করলে জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে পুকুর দখল করায় রিট দায়েরকারী অ্যাডভোকেট মঞ্জিল মোর্শেদ শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখানে দেখা যায়, তিন স্তরের পিলার বসিয়ে ১০ থেকে ১২টি স্টল নির্মিত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, পুকুরটি নগরীর রিজার্ভ ট্যাঙ্ক হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ব্যবহার করে আসছে। ওই পুকুরটি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়েছে। আদালত ওই পুকুরে নির্মাণ কাজের ওপর স্থিতি অবস্থা জারি করেছেন। জেলা পুলিশ কাজ বন্ধ না করলে সাত দিনের মধ্যে আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানান তিনি।
নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সিটি করপোরেশনের সৌন্দর্যবর্ধন কমিটির সদস্য সচিব আক্তারুজ্জামান হিরু বলেন, পুকুরটি ভরে পুলিশ ক্লাবের পক্ষ থেকে স্টল তোলা হচ্ছে। গত দুই থেকে তিন দিন ধরে সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের পাশ ঘেঁষে সেখানে নির্মাণ কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, পুকুরটি পুলিশ ক্লাব এবং স্থানীয় সরদার বাড়ির সম্পত্তি।

 

বিরোধ থাকায় এটি নিয়ে মামলা চলছে। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, কারা স্টল করছে তা তার জানা নেই। বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান।
আদালতের স্থিতি অবস্থা প্রসঙ্গে সহকারী পুলিশ সুপার সাহাবুদ্দিন বলেন, সেটা তার জানা নেই। এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এস এম আক্তারুজ্জামানরে সঙ্গে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সভায় আছেন বলে লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেন।

28 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন