২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

বরিশালে পুলিশকে মারধর করে আসামি ছিনতাই!

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৬:৪৮ অপরাহ্ণ, ২৫ আগস্ট ২০১৬

বরিশালের হিজলা উপজেলার খুন্না বাজারে একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার হওয়ার পর পুলিশের কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বড় জালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন পন্ডিতের বিরুদ্ধে।

বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার খুন্না বাজার আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ছিনিয়ে নেয়া ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ইয়াসিন রাড়ি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী এবং ইউপি চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন পন্ডিতের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। পার্শ্ববর্তী কাজিরহাট থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়- জমি জবর দখলের অভিযোগে স্থানীয় এমপি পঙ্কজ নাথের বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার বরিশালের সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সাগর। এই মামলা দায়েরের প্রতিবাদে বুধবার সন্ধ্যায় একই আসনের হিজলা উপজেলার খুন্না বাজারে দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ।’

অপরদিকে সন্ধ্যার পর থানা পুলিশ খুন্না বাজার থেকে একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত দুই আসামি অনুকূল রায় ও কাজল রানীকে গ্রেফতার করে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নিজামের নেতৃত্বে পুলিশের আরেকটি দল খুন্না বাজারে আওয়ামী লীগের চলমান সমাবেশস্থলের পাশ থেকে একই মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ইয়াসিন রাড়িকে গ্রেফতার করে রওনা হয়।’

এ সময় সমাবেশে অংশ নেয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহাবুদ্দিন পন্ডিতসহ আরও বেশ কয়েকজন পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে এএসআই নিজামকে মারধর করে ইয়াসিনকে তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। ওই ঘটনার পর ক্ষোভে লজ্জায় এএসআই নিজাম থানায় গিয়ে চাকরি ছেড়ে দেয়ার জন্য ওসির কাছে আকুতি জানান বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।’

তবে এসব বিষয় অস্বীকার করে হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার দুইজন পুলিশ সদস্য খুন্না বাজার থেকে তিনজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার করেছিলেন। এ সময় একজন পুলিশের হাত থেকে ছুটে পালিয়ে যায়। এই ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য আওয়ামী লীগ নেতা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিনিয়ে নিয়েছে বলে গুজব ছড়ানোর দাবি করেন ওসি।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা শাহাবুদ্দিন পন্ডিত বলেন, তাকে আরও কয়েকজন সাংবাদিক ফোন দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি এ ধরনের কোনো ঘটনার খবরই জানেন না।’

28 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন