৪০ seconds আগের আপডেট রাত ৯:১০ ; সোমবার ; অক্টোবর ৩, ২০২২
EN Download App
Youtube google+ twitter facebook
×

বরিশাল আ’লীগে হতাশ হিরণপন্থীরা

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট
৭:১৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৬

কাউন্সিলের প্রায় ৪বছর পর অবশেষে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হল। গঠিত কমিটির সভাপতি সম্পাদক দুজনই পেশায় আইনজীবী। অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলালকে সভাপতি এবং অ্যাডভোকেট কে এম জাহাঙ্গীরকে সম্পাদক করে দীর্ঘদিন স্থবির বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের এই কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। গঠিত এই কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে নগরীতে আনন্দ মিছিল করেছেন নেতা কর্মিরা। গঠিত কমিটিতে হাসনাতপন্থীদের জয়জয়কার থাকলেও হতাশ হয়েছেন হিরণ পন্থীরা।
নতুন গঠিত কমিটির সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল এর আগেও শহর কমিটির আহ্বায়ক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন দলের অনেক দুঃসময়ে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের মাত্র দুদিন আগে বুধবার গভীর রাতে ঢাকায় ঘোষিত বরিশাল মহানগর কমিটিতে ব্যাপক চমক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলকেও কিছুটা হতচকিত করেছে।
২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠানের প্রায় ৪ বছর পরে গত ১১ জুন জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। একই দিন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠানের পরে দীর্ঘদিন শুধুমাত্র সভাপতি ও সম্পাদক দিয়ে বরিশালে শাসক দলের কিছু পোষাকী কর্মকান্ড চললেও এখানে দলটির রাজনৈতিক শূন্যতা ছিল পীড়াদায়ক।

 

২০১২-এর ওই সম্মেলনে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহকে জেলা কমিটির সভাপতি ও অ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুসকে সম্পাদক করার পাশাপাশি শওকত হোসেন হিরনকে মহানগর সভাপতি ও অ্যাডভোকেট আফজালুল করিমকে সম্পাদক করা হয়। ‘অতি অল্প সময়ের মধ্যে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার কথা ওই সম্মেলনে জানানো হলেও তাতে পার হয়ে গেছে প্রায় চার বছর। ২০১৪-এর ৯ এপ্রিল শওকত হোসেন হিরন ইন্তেল করলে সভাপতি পদের ভার এতদিন বহন করার সুযোগ পাননি কেউ। এমনকি হিরনের স্ত্রী জেবুন্নেসা আফরোজ এতদিন অনেকটা অঘোষিতভাবে মহানগর আওয়ামী লীগের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করলেও তিনি কবে কোথায় আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন তা বলতে পারছেন না দলের কোন নেতাকর্মী।
তবে সাম্প্রতিককালে কর্নেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামিম ও জেলা সভাপতি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর পুত্র সাদেক আবদুল্লাহ বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদক হচ্ছেন বলে যথেষ্ট আলোচনা শুরু হলেও সে বিষয়টি বাস্তব রূপ লাভ করেনি। এমনকি সদ্য ঘোষিত এ পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ২০১২-এর ২৭ ডিসেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচিত সম্পাদক আফজালুল করিমকে সিনিয়র সহ-সভাপতি করা হয়েছে। ফলে বরিশালে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে হিরন যুগের অনেকটাই অবসান ঘটল।

 

 

দক্ষিণাঞ্চলে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কান্ডারি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর হাত ধরে ১৯৯৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে শাসক দলে যোগ দিয়ে হিরন ধীরে ধীরে দলের নেতৃত্বে চলে আসেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পরে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ ও গোলাম আব্বাস চৌধুরী বরিশাল ত্যাগ করলেও শওকত হোসেন হিরন ক্রমে দলের নেতৃত্বে চলে আসেন। এক পর্যায়ে মহানগর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কও হন তিনি। ২০০৮ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে ৬৭৫ ভোটের ব্যবধানে মেয়র হয়ে হিরন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে শক্তভাবেই গ্রহণ করেন।
২০১২’র ডিসেম্বরে সম্মেলনের মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় মহানগর সভাপতি নির্বাচিত হলেও পরের বছর সিটি নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন প্রায় ১৮ হাজার ভোটে। কিন্তু এ পরাজয়ের জন্য হিরন সরাসরি জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহকেই দায়ী করেন প্রকাশ্য সভায়। বিষয়টি দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়েও সমালোচিত হয়।

 

সে থেকে হিরনের সাথে হাসনাতের দূরত্ব বাড়তে থাকে। আর এসব কারণে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ বরিশালকে এড়িয়েই চলতে শুরু করেন। বরিশাল মহানগরীতে তিনি কোন দলীয় কর্মান্ডে অংশগ্রহণ করছেন না দীর্ঘদিন। তবে তার জ্যেষ্ঠ পুত্র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ গত কয়েক বছরে ধীরে ধীরে এ মহানগরীতে নিজের অবস্থান যথেষ্ট শক্ত পোক্ত করেছেন। দলীয় ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণসহ অনেকের ভালমন্দের খোঁজ-খবর রাখছেন তিনি। এক পর্যায়ে তার নামই মহানগর সম্পাদক হিসেবে উঠে আসে। জেলা কমিটির পক্ষ থেকে মহানগর কমিটির যে একটি রূপরেখা কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠান হয়েছিল ইতোপূর্বে সেখানেও সাদেক আবদুল্লাহর নাম সম্পাদক হিসেবে ছিল। কিন্তু দলীয় শীর্ষ পর্যায়ে বিষয়টি অনুমোদন পায়নি।
জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর সভাপতি ছাড়াও তার স্ত্রী সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং একপুত্র ও শ্যালক নির্বাহী কমিটির সদস্য রয়েছেন। এদিকে ২০০৮-এর জাতীয় নির্বাচনে বরিশাল সদর আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামিম প্রতদ্বন্ধিতা করে হেরে গিয়ে দল ও রাজনীতিতে তেমন সক্রিয় ছিলেন না। কিন্তু সাম্প্রতিককালে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদের লবিং-এ তিনি শক্ত অবস্থানে থাকলেও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাবেক শহর সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলালকেই বেছে নিলেন। তবে জেলা সভাপতি আবুল হাসনাতের পুত্র সাদেক আবদুল্লাহকে প্রথম যুগ্ম সম্পাদক এবং সদর আসনের এমপি জেবুন্নেসা আফরোজকে নির্বাহী কমিটির প্রথম সদস্য করা হয়েছে।

 

বিগত কমিটির সাধারণ সম্পাদকঅ্যাডভোকেট আফজালুল করিমকে সিনিয়র সহ-সভাপতি করায় নতুন এ কমিটি যথেষ্ট সমৃদ্ধ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করছেন মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা থেকে বরিশালে পৌঁছে গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল দলীয় কার্যলয়ে সভা করে নগরীতে একটি মিছিলও করেছেন। এ সভা ও মিছিলে নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কে এম জাহাঙ্গীর ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহসহ মহানগর আওয়ামী লীগের অনেক নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

খবর বিজ্ঞপ্তি, বরিশালের খবর

 

আপনার মতামত লিখুন :

 
এই বিভাগের অারও সংবাদ
ভারপ্রাপ্ত-সম্পাদকঃ শাকিব বিপ্লব
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮ | বরিশালটাইমস.কম
বরিশালটাইমস মিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।
ইসরাফিল ভিলা (তৃতীয় তলা), ফলপট্টি রোড, বরিশাল ৮২০০।
ফোন: +৮৮০২৪৭৮৮৩০৫৪৫, মোবাইল: ০১৮৭৬৮৩৪৭৫৪
ই-মেইল: [email protected], [email protected]
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮
টপ
  বরগুনায় চোখ ওঠা রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি, ড্রপ সংকট-নেই অয়েনমেন্টও  নাচতে নাচতে ছেলের মৃত্যু, বাবাও মারা গেলেন শোকে!  এমপি-মন্ত্রী আমরা বানাইসি: পুলিশ-যুবলীগ নেতার ফোনালাপ ভাইরাল  মাপে তেল কম দেওয়ায় ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা  হিজলায় নির্বাহী কর্মকর্তা বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান  বাউফলে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে হামলায় গুরুতর আহত বিসিবির ফিজিওথেরাপিস্ট  লিটারে ১৪ টাকা কমল সয়াবিন তেলের দাম  বাউফলে মা ইলিশ রক্ষায় জনসচেতনতা মূলক সভা অনুষ্ঠিত  মাদরাসায় যাওয়ার পথে নিখোঁজ শিশু আশিক  বাউফলে বিদ্যালয় সিঁড়ির ঘর থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার