২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

বরিশাল উপকূলীয় এলাকায় মহাবিপদ সংকেত

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৬:৩৯ অপরাহ্ণ, ২৯ মে ২০১৭

ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র প্রভাবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত এবং মোংলা ও পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৮ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সেই সাথে উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত (পুনঃ) ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

সোমবার (২৯ মে) রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সর্বশেষ বিশেষ বুলেটিন-১২তে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়- পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড়টি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ মঙ্গলবার (৩০ মে) সকালে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সোমবার রাতে সর্বশেষ বিশেষ বুলেটিনে আরও বলা হয়- ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ও তৎসংলগ্ন এলাকা থেকে কিছুটা উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।

এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

অপরদিকে মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৫ নম্বর (পুনঃ) ৫ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এছাড়াও উপকূলীয় বেশ কয়েকটি জেলাকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় রাখা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়টি সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৩০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্ব এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্ব দিকে অবস্থান করছিল।

এটি আরও ঘণীভূত ও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে মঙ্গলবার (৩০ মে) সকাল নাগাদ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

এর প্রভাবে সোমবার বিকেল থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে ।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬২ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৭ কিলোমিটার। যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

আবহাওয়া বার্তায় বলা হয়- ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’-এর প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

এতে আরও বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ অতিক্রমকালে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর জেলাসমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ৮৭ থেকে ১১৭ কিলোমিটার গতিতে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার সমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

দেশের অন্য একই দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার গতিতে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর (পুন:) ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

প্রতি ৩ ঘণ্টা পর পর আবহাওয়া অধিদপ্তর এই বিশেষ বুলেটিন প্রকাশ করে যাচ্ছে।”

11 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন