২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

বরিশাল ঢাকা নৌপথে ঈদযাত্রায় যুক্ত হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ!

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৩:৪১ অপরাহ্ণ, ২১ জুন ২০১৭

প্রতি ঈদেই বাড়তি যাত্রী চাহিদা পুঁজি করে নৌপথে নামানো হয় ফিটনেসবিহীন ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান। ব্যতিক্রম হচ্ছে না এবারও। আসন্ন ঈদুল ফিতরে বাড়তি আয়ের আশায় বরিশাল ঢাকা নৌপথে যুক্ত হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ। ফিটনেসবিহীন ও অতি পুরনো এসব নৌযানের কারণে থাকছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও।

সদরঘাট থেকে বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, মাদারীপুর ও ফরিদপুরসহ দেশের ৪১টি নৌপথে লঞ্চ ছেড়ে যায়। শুধু ঢাকা থেকে প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ প্রতি ঈদে নদীপথে বাড়ি যান। দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলার সঙ্গে ঢাকার সড়ক যোগাযোগ না থাকায় লঞ্চই এসব অঞ্চলে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। বর্তমানে এসব রুটে প্রায় ১৮০টি লঞ্চ চলাচল করে। তবে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আরও ৯টি নতুন লঞ্চ আসবে।

ঢাকার একটি সূত্র জানায়- ঈদ সামনে রেখে নদীবন্দর এবং রহমান সাহেবের ডক ও তেলঘাটসহ এর আশপাশের ডকইয়ার্ডে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। পুরনো ও ফিটনেসবিহীন লঞ্চের ভেঙে যাওয়া বিভিন্ন অংশ ওয়েল্ডিং মেশিন দিয়ে জোড়া দেয়া হচ্ছে। মেঝে কিংবা কার্নিশে লাগানো হচ্ছে লোহার পাত। বুড়িগঙ্গার পাড়ে কেরানীগঞ্জের তেলঘাট ও কেরোসিনপট্টি অংশের ইয়ার্ডে বেশ কয়েকটি লঞ্চের নিচের অংশও মেরামত করতে দেখা গেছে। রংও করা হচ্ছে পুরনো কোনো কোনো লঞ্চে।

কেরানীগঞ্জের রহমান সাহেবের ডকইয়ার্ডে ভাসমান অবস্থায় এমভি কীর্তনখোলা-১, সোনার তরী, বালিয়াসহ বেশ কয়েকটি লঞ্চ সংস্কারে কাজ চলছে। সেখানে বেশ কয়েকজন শ্রমিক শেষ মুহূর্তের রঙ ও ঝালাই কাজে ব্যস্ত।

ইমরান নামে এক রঙ মিস্ত্রি সাংবাদিকদের বলেন, ঈদ এলেই পুরনো লঞ্চের কাজ বেশি হয়। কাজের বেশ চাপ থাকে। তাই এ সময় মজুরিটাও একটু বেশি পাওয়া যায়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদ সামনে রেখে দুই মাস ধরে এসব লঞ্চ মেরামতের কাজ চলছে। যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে নৌযানের নিচের অংশ সংস্কারে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে এলাকার ২৭টি ডকইয়ার্ডে শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডকইয়ার্ডের মালিক সাংবাদিকদের বলেন, ঈদ এলেই এলাকার সব ডকইয়ার্ডে মেরামত ও রঙ করার চাপ বাড়ে। অনেকে কয়েক বছর ধরে পড়ে থাকা লঞ্চও নিয়ে আসেন। ফিটনেসবিহীন লঞ্চও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে টাকা দিলেই চলাচলের অনুমতি মিলে যায়। যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে হলে উচ্চপর্যায় থেকে ফিটনেসবিহীন লঞ্চ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ঈদের মৌসুমে যাত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই মূলত লঞ্চগুলো রঙ করা হয়। যেসব লঞ্চে রঙের কাজ ও মেরামত চলছে, সেগুলো ফিটনেসবিহীন নয়।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, গত বছর কোরবানির ঈদের আগে ও পরের ১২ দিনে সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনায় ২৬৫ জন প্রাণ হারান। আহত হন আরো ১ হাজার ১৩৬ জন। এর মধ্যে একই সময়ে আটটি নৌ-দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন। এর আগে ২০১৪ সালে ফিটনেসবিহীন ও অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের কারণে পদ্মায় ডুবে যায় পিনাক-৬ নামের একটি লঞ্চ। এতে নিহত হন ৪০ যাত্রী।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, এবারের পরিবেশ দুর্যোগপূর্ণ। তাই নৌপথে যাতে ফিটনেসবিহীন কোনো লঞ্চ চলাচল করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। দুর্ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন না করারও আহ্বান জানান তিনি।”

8 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন