২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

বরিশাল নাজেমস রেঁস্তোরার বিরিয়ানী খেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ১০!

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১১:১২ অপরাহ্ণ, ০২ অক্টোবর ২০১৭

বরিশাল শহরের অভিজাত রেঁস্তোরা নাজেমস’র ভেজাল পঁচা-বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই প্রতিষ্ঠানের বিরিয়ানী খেয়ে সম্প্রতি বেশ কয়েকজন অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ্য কেউ কেউ হাসপাতালেও ভর্তি হয়েছেন।

বরিশাল র‌্যাবের গণঅভিযানের ভেতরে এই ভেজাল পঁচা-বাসি খাবার বিক্রিতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন মানুষ। যদিও শহরের বগুড়া রোডস্থ এই প্রতিষ্ঠানটির খাবার ইতিমধ্যে অনেকেই বর্জন করেছেন।

কারণ এই মূহূর্তে নাজেমসের খাবার খেলে যে হাসপাতালে যেতে হবে আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে ও ভেজাল বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগে মালিক রেজাকে আইনেও আওতায়ও নিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে বরিশাল র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সুশীল সমাজ।

এমতাবস্থায় খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে- বরিশাল সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২ রোগী নামেজ’স রেঁস্তরার বিরিয়ানী খেয়ে অসুস্থ্য হয়েছেন। এছাড়া বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মো. নুর উদ্দিনও এই প্রতিষ্ঠানের খাবার খেয়ে অসুস্থ্য হয়েছেন।

তিনি বরিশালটাইমসকে জানিয়েছেন- ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে ছেলের জন্য নাজেম’স রেঁস্তোরা থেকে ১ প্যাকেট বিরিয়ানী কিনে নেন। বাসায় নিয়ে ছেলেকে খাওয়ানো শুরু করলে একটু খেয়ে তার ছেলে ভালো লাগছে না বলে বিরিয়ানী রেখে দেয়। পরবর্তীতে সেই বিরিয়ানী নুর উদ্দিন নিজেই খেয়ে ফেলেন। খাওয়ার সময়ই গন্ধ এবং স্বাদ অনেকটা পচা-বাসি লাগছিল।

ওই রাতই তিনি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন। রোববার সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হন।

একই ভাবে নাজেমস’র বিরিয়ানী থেকে শহরের বগুড়া রোড এলাকার বাসিন্দা তাজুল ইসলামও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

তাজুল ইসলাম বরিশালটাইমসকে জানিয়েছেন শুধু তিনি নন, তার পরিবারের তিনজনসহ আরও ৬ জন অসুস্থ হয়েছেন একই বিরিয়ানী খেয়ে।

তিনি বলেন- গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে মল্লিক রোডের সরদার শাহীনের বাসায় তার স্বপরিবারে আমন্ত্রণ ছিল। সেখানে তিনি, তার স্ত্রী জাহানারা বেগম, ২ ছেলে তাসিম ও সাদিমসহ ওই বাসায় আমন্ত্রিত ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান মনির এবং অতিথিরা সকলে নাজেমস’ বিরিয়ানী খেয়েছেন।

তাদের মধ্যে ১০ জন সেদিন রাতেই ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। যে কারণে এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

বরিশাল র‌্যাবের উপ-অধিনায়ক মেজর সোহেল রানা প্রিন্স বিষয়টি শুনেছেন জানিয়ে বরিশালটাইমসকে বলেন- আমাদের ভেজালবিরোধী অভিযান নিয়মিত চলছে।

এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে কোন ব্যবসায়ি আড়ালে থাকতে পারবে না।’’

104 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন