১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

বরিশাল নৌ-পুলিশের বেহাল দশা

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১২:২২ অপরাহ্ণ, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

২০১৬ সালে ৪শ ২৭ মণ জাটকা উদ্ধার, ৩শ ৫৫ জনকে গ্রেফতার ও বিভিন্ন প্রকারের ১৭ লাখ ৬ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দসহ মাদকদ্রব্য, অবৈধ নৌযান উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ বরিশাল অঞ্চল। নদীমাতৃক এই অঞ্চলে প্রশাসনের অন্যান্য বিভাগগুলো যেমন শক্তিশালী তার সিঁকিভাগও শক্তিশালী নয় নৌ-পুলিশ। প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও বেশকিছু খাতে সফলতা অর্জন করতে পেরেছে বরিশাল অঞ্চল। কিন্তু জোরাতালি দিয়ে চলা নৌ-পুলিশ প্রকৃতপক্ষে অপরাধী দমনে সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি বলে জানা গেছে। এর পিছনে বিশেষ করে দুটি কারণ রয়েছে, প্রথমত নৌ পুলিশের বিধিবিধান এখনও সুনির্দিষ্ট হয়নি। দ্বিতীয়ত রয়েছে যানবাহন, লোকবল ও যন্ত্রপাতি সংকট।

নৌ-পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তব্যক্তিরা মনে করেন, অন্তত দক্ষিণাঞ্চলে নৌ পুলিশের উন্নয়নে জোরদার ভূমিকা রাখা উচিত। কারন দক্ষিণাঞ্চল যেহেতু নদীমাতৃক সেকারনে স্থলের মত নদী পথ নিরাপদ রাখতে নৌ পুলিশের বিকল্প নেই। জানা গেছে, নৌ পুলিশ বরিশাল অঞ্চল ৪টি জেলাকে ঘিরে গঠিত।

এর মধ্যে রয়েছে বরিশাল, ঝালকাঠী, পিরোজপুর, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলা। এই ৪টি জেলাকে নিয়ন্ত্রন করতে যে পরিমাণ পুলিশ সদস্যের দরকার তার একতৃতীয়াংশও সংযুক্ত নেই বরিশাল অঞ্চলে। নৌ পুলিশ সূত্র বলছে ইতিমধ্যে এই ৪টি জেলার মধ্যে ৩টিতে নৌ পুলিশ ফাড়ির কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় ৪টি নৌ পুলিশ ফাড়ি, পিরোজপুরে ২টি, পটুয়াখালীতে ২টি, বরগুনায় ২টি ফাড়ি রয়েছে। ঝালকাঠীতে কোন ধরনের ফাড়ি স্থাপন করা হয়নি। এই ১০টি ফাড়ির মধ্যে অধিকাংশ ফাড়ির কার্যক্রম চলে ভাড়াটে ভবনে। আর ঝালকাঠীতে ফাড়ি না থাকায় বরিশাল থেকে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করতে হয়।

এ ক্ষেত্রে ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগী মারা গেল প্রবাদ প্রবচনের বাস্তবায়ন হয়ে থাকে। উদাহরন স্বরুপ ঝালকাঠীতে নৌ পথে কোন অপরাধ সংগঠনের সংবাদ এলে বরিশাল থেকে নৌ পুলিশ গিয়ে তার ব্যবস্থা গ্রহন করতে হয়। অবস্থা বিশেষে দেখা যায়, অপরাধ সংগঠনের প্রায় কয়েক ঘন্টা পরে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে উপস্থিত হন।

এ ধরনের পরিস্থিতি অন্যান্য জেলার ক্ষেত্রেও ঘটে থাকে। নৌ পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল অঞ্চল পরিচালনায় পরিবহনের ক্ষেত্রে কেবলমাত্র ৪টি স্পীডবোট রয়েছে সম্বল। এছাড়া দুটি পুরাতন ট্রলার রয়েছে। অভিযানের ক্ষেত্রে এই পরিবহনগুলো এতটাই ব্যবহার অনুপযোগী কতদূর পর পর গিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। অপরাধীদের নৌযান ধাওয়া দিয়ে ধরার ক্ষমতা এই নৌযানের নেই।

যে কারনে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে ভাড়ায় চালিত পরিবহন ব্যবহার করতে হয়। ভাড়ায় চালিত পরিবহন ভাড়া করতে গিয়ে অনেক সময়ে অভিযানের তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। পাশাপাশি তাৎক্ষণিক অভিযান চালানোর সময়ে যানবাহন ভাড়া করতে গিয়ে পড়তে সময় ক্ষেপনের পাল্লায়।

যে কারনে বরিশালে অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় নৌপথে অপরাধ প্রবনতা কমছে না। অবৈধ স্পীডবোট দমন, জেলেদের সংঘর্ষ, মাদক পরিবহন, অবৈধ জাল নিরোধ, জাটকা অভিযানে তাই আশানুরুপ সফলতা আনতে পারছে না নৌ পুলিশ। এ ব্যাপারে নৌ পুলিশ বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আবদুল মোতালেব বলেন, আমাদের প্রতিবন্ধকতা অনেক, তারপরও নৌ পুলিশ বরিশাল অঞ্চল সর্বাত্মকভাবে চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে নদী পথে অপরাধ কমানোর জন্য।

64 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন