২৮শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অবস্থান ধর্মঘট

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৪:৫১ অপরাহ্ণ, ৩০ জুলাই ২০১৭

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ২২ দফা দাবি বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে। রোববার (৩০ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

তবে শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম অনুযায়ী ভাইস চ্যান্সেলর বেলা ২টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেননি। শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে ভিসির কাছ থেকে সরাসরি কোনো বক্তব্য না পাওয়ায় আন্দোলনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

তবে ২৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবিনামা কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন এবং দ্রুত মীমাংসার জন্য ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

যদিও এরপরই শিক্ষার্থীরা ভিসিকে ক্যাম্পাসে হাজির হয়ে দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বৃহস্পতিবার ভিসি বরাবর দরখাস্ত দেন।

এ বিষয়ে ভিসি ড. এস এম ইমামুল হক বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেওয়া হবে বলে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপরও কেন তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন তা বলতে পারছি না। আমাকে কথা বলার সুযোগ করে দিতে হবে। তা না হলে কি করে শিক্ষার্থীদের কথা শুনবো।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে অল্প পদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কোটার কথা উল্লেখ করা হয়নি। যা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগেই হয়েছে। এ কারণে মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়ে আবেদনকারীদের বাদ দেয়নি। মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়ে ৫৪ জন আবেদনকারীর মধ্যে ৩৫ জনের কার্ড ছাড়া হয়েছে। আর আবেদনকারী সবারই পরীক্ষার খাতা হাতে না দেখে, দেখা হবে মেশিনের সাহায্যে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা উচিৎ। এই আন্দোলনে ক্লাস আর পরীক্ষা বাদ হলো। সেগুলোর জন্য শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদেরই অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হবে।

এদিকে শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের আন্দোলনে সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই তাদের আন্দোলন চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা ফিরোজুল ইসলাম নয়ন বলেন, ভিসি স্যার বরিশালে এসেছেন বলে জানানো হয়েছে। রাত ৮টায় সিন্ডিকেট সদস্য ও শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানানো হয়েছে। এরপরই আন্দোলনের বিষয়ে শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত নেবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা না রাখায় গত ২৩ জুলাই থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের তৃতীয় দিন ২৫ জুলাই ২২ দফা দাবি পেশ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দাবি মানা না হলে ভিসির অপসারণের দাবিও জানানো হয়।”

29 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন