২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

বরিশাল শহরের কামারপাড়ায় ঈদের ব্যস্ততা, ক্রেতা সমাগম

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৮:২৯ অপরাহ্ণ, ৩০ আগস্ট ২০১৭

পবিত্র ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র একদিন। পশু কোরবানির এই ঈদে বরাবরই ছুরি, চাকু, দা, বঁটি ইত্যাদির চাহিদা বেড়ে গেছে। যে কারণে এই সময়ে পুরোটা বদলে গেছে বরিশালের কামারপাড়ার চিত্র। বুধবার শহরের হাটখোলা বাজারে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে। সেখানে কামারদের কাজের ব্যস্ততা যেমন বেড়েছে। বেড়েছে ক্রেতার সমাগমও। অনেকে আবার পুরনো জিনিস পিটিয়ে বা নতুন করে শান দিয়ে নিচ্ছেন।

এখানকার কামাররা জানালেন, কোরবানির ঈদ-ই মূলত তাদের প্রধান টার্গেট থাকে। কারণ সারা বছর তাদের তৈরি সামগ্রীর চাহিদা খুব বেশি না থাকলেও কোরবানি ঈদে তা অনেক বেড়ে যায়। তাই সে অনুযায়ী কাজ করতে হয় দীর্ঘ সময়। কোনো কোনো সময় ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা টানা পরিশ্রম করেও অর্ডারের সময়ানুযায়ী মাল দিতে হিমশিম খেতে হয়।

হাটখোলার বাজারের কামার রঞ্জন বরিশালটাইমসকে বলেন, কোরবানির ঈদে আমাদের জিনিসের চাহিদা বেড়ে যায়। আমরা আগে থেকেও তাই অনেক কিছু বেশি করে বানিয়ে রাখি। ঈদের আগে পাইকারি বিক্রির অর্ডার তো থাকেই। অনেকে আবার অর্ডার দেয়ার সময় না পেলে বানানো জিনিস কিনে নিয়ে যায়। তাই ব্যস্ততা থাকেই।

সরেজমিনে কামারপাড়ায় দেখা গেছে, পশু জবাই, মাংস-হাড় কাটার জন্য হরেক ধরনের, বিভিন্ন দামের লৌহজাত সামগ্রী বানাচ্ছেন তারা। কেউ ভারি হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছেন দগদগে লাল লোহার খণ্ড। কেউ শান দিচ্ছেন, কেউবা আইতনা দিয়ে কয়লার আগুনে বাতাস কিংবা সাহায্য করছেন সহকর্মীদের। সবারই হাত, মুখ, পা কালিতে ভরা। তীব্র গরমে শরীর ঘামছে দরদরিয়ে। কেউবা পাশেই বসিয়েছেন দোকান।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভালো চাপাতির দাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। প্রায় একই দামে পাওয়া যাচ্ছে জবাই করার ছুরি। আর মানের ভিত্তিতে ৪০ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে চামড়া ছাড়ানোর ছুরি। একই ভিত্তিতে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে মাংস কাটার ছুরি। এ ছাড়া সাইজের ওপর নির্ভর করে এক একটি বঁটির দাম ১০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে। শান দেয়ার রেতের দাম ৫০ টাকা। কুড়ালের দাম প্রায় ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত। তবে প্রতিটি জিনিস মিলিয়ে সেট হিসেবেও বিক্রি হচ্ছে। এর দাম চাওয়া হচ্ছে ১৫০০-২০০০ টাকা পর্যন্ত। আর কেজি হিসেবে প্রতি কেজি পাকা স্প্রিং ৬০০ টাকা, রেত ২৫০ টাকা এবং এঙ্গেল ১৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, গতবারের তুলনায় এবারের দাম বেশি নয়। বেচাবিক্রি কম হওয়ার কারণে এবার কম দামেই সব জিনিস বিক্রি করছেন তারা।

শহরের বেলতলা থেকে ছুরি-চাকু কিনতে আসা আলম মিয়া বলেন, সারা বছর তো প্রয়োজন পড়ে না তাই কেনাও হয় না। ঈদের আগে কিনতে এলেই তারা বেশি দাম রাখে। গতবার যে দামে কিনেছিলাম এবার তার চেয়ে বেশি দাম চাচ্ছেন। কিন্তু কিছুই তো করার নেই, কিনতেই হবে। চুরি-চাকু ছাড়া তো পশু জবাই বা কাটাকুটি করা যাবে না।

এদিকে গত বছরের তুলনায় দাম বেশি হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে বিক্রেতারা জানান, গত বছরের চেয়ে এবার কয়লার দাম বেড়েছে। শ্রমিকের মজুরি এখন বেশি দিতে হয়। তাই এই বাড়তি দাম না রাখলে লোকসান গুনতে হবে তাদের।”

35 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন