১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

বরিশাল সিভিল সার্জন আসলে চাইছেন কী?

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৯:০০ অপরাহ্ণ, ০৯ জুন ২০২০

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক:: বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার ‘গুরুতর অভিযোগ’ উঠেছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা এ অভিযোগ তুলেছেন। তারা বলছেন, করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করার কথা থাকলেও তিনি করছেন না। এমনকি জেলায় করোনা বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো তথ্যও দিচ্ছেন না।

গতকাল সোমবার বরিশাল করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান অভিযোগ তোলেন, সিভিল সার্জন ডা. মো. মনোয়ার হোসেন জেলার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দিচ্ছেন না। অপরদিকে করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহে সিভিল সার্জন কোনো ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ না করায় শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের ওপর অতিরিক্ত চাপ বাড়ছে বলে দাবি তোলে চিকিৎসকরা।

এর আগে গত শনিবার শেবাচিম হাসপাতালের অর্থপেডিক সার্জন ও করোনা চিকিৎসা মনিটরিং কমিটির সদস্য ডা. সুদীপ হালদার এবং একাধিক গণমাধ্যমকর্মীও বরিশাল জেলা সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতামূলক আচরণের অভিযোগ তোলেন।

তারা বলছেন, করোনার নমুনা সংগ্রহে সিভিল সার্জনের কার্যালয় গড়িমসি করছে। শুধু তার কার্যালয় নয়, জনবল সংকটের দোহাই দিয়ে জেনারেল হাসপাতাল, সিটি করপোরেশন, পুলিশ হাসপাতালও নমুনা নিচ্ছে না। এতে চাপ পড়ছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘একটা মিটিংয়ে আছি, পরে কথা বলব।’ পরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এস এম অজিয়র রহমান বলেন, ‘জেলার সমস্ত তথ্য দেওয়ার কথা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে। কিন্তু সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন কোনো ধরনের সহযোগিতা করছেন না। আক্রান্ত হলে স্যাম্পলটা পর্যন্ত সংগ্রহ করছেন না।’

অজিয়র আরও বলেন, ‘কোনো তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছেন না। তাহলে উনার কাজটা কী? আবার কখনো তথ্য দিলে তা ভুলে-ভরা থাকে। সকালের তথ্য বিকেলে, বিকেলের তথ্য পরদিন সকালে দিচ্ছে। আমি যদি ওই ভুল তথ্য সরবরাহ করি, তাহলে তো আমাকে দায়দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। সেটা একটা সমস্যা।’

প্রতিদিন শেবাচিম হাসপাতাল, পুলিশ কিংবা রোগীর স্বজনদের কাছে ফোন দিয়ে তাদের তথ্য নিতে হচ্ছে জানিয়ে ডিসি বলেন, ‘এ কারণে গত শনিবার একদিন তথ্য দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সাধারণ নাগরিকদের সতর্ক রাখতে এবং গণমাধ্যমের কথা বিবেচনায় নিয়ে সোমবার থেকে আবার হালনাগাদ তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। শনিবার বিকেলে করোনা উপসর্গ নিয়ে এক রোগী মারা গেছেন। তার নমুনা সংগ্রহ করতে জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের হিসশিম খেতে হয়েছে। মৃত্যুর ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পর একরকম জোরাজুরি করে সিভিল সার্জন তার নমুনা সংগ্রহ করে। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি এ ঘটনায় বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েছিলেন।’

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘গত শনিবার বিকেলে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া এক রোগীর স্বজনরা তার নমুনা সংগ্রহ করার জন্য পুলিশের সহযোগিতা চায়। বিষয়টি জানার পর প্রথম সিটি করপোরেশনের ডাক্তারকে ফোন করা হয়। তাদের টেকনোলজিস্ট অসুস্থ থাকার কারণে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক সার্জনকে ফোন দেওয়া হলে তিনি জানান, তাদের পক্ষে বাইরে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। এরপর সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেনকে ফোন দেই। তিনিও বাইরে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দেন।’

ওসি আরও বলেন, ‘পরে বিষয়টি মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে জানানো হয়। পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক বিষয়টি বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালককে জানান। স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মানোয়ার হোসেনকে নমুনা সংগ্রহ করতে বলেন। এরপর তিনি ফোন দিয়ে বলেন, “আজকের এই রোগীর নমুনা আপনাদের অনুরোধে সংগ্রহ করে দিলাম। ভবিষ্যতে এই বিষয়ে যেন আমাকে অনুরোধ করা না হয়।” এতকিছুর পর যখন নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ততক্ষণে ৬ ঘণ্টা অতিবাহিত হয়েছে। যদি শহরে একজনের নমুনা সংগ্রহ করতে ৬ ঘণ্টা ব্যয় হয়, তাহলে গ্রামগঞ্জের মানুষের অবস্থা কি?’

ওসি বলেন, ‘আমাকে যদি একজন ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করতে ৬ ঘণ্টা ব্যয় করতে হয়, তাহলে অন্যদের সেবা দেবো কিভাবে? এই বিষয়ে আমি সংবাদ সম্মেলন করার চিন্তা করেছি। বিষয়টি মানুষের মাঝে জানানো দরকার। এর একটা বিহিত হওয়া জরুরি।’

শেবাচিম হাসপাতালের অর্থপেডিক বিভাগের সার্জন ও করোনা রোগীর সেবা সংক্রান্ত মনিটরিং সেলের সদস্য ডা. সুদীপ হালদার অভিযোগ করে বলেন, ‘সিভিল সার্জন অফিস থেকে করোনার নমুনা সংগ্রহ করার কথা। কিন্তু তারা তা বন্ধ করে দিয়েছে। জনবল সংকটের দোহাই দিয়ে সদর জেনারেল হাসপাতাল, সিটি করপোরেশনসহ সবাই নমুনা সংগ্রহ করা বন্ধ করে দিয়েছে। সব চাপ এখন এসে পড়ছে শেবাচিম হাসপাতালের ওপর। এখানে এসে অনেকে তথ্য গোপন করে ডাক্তার, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্ত করছে। যেভাবে ডাক্তার, নার্সরা আক্রান্ত হচ্ছে তাতে আগামীদিনে এই হাসপতালের সেবা থাকবে কি না সেটা নিয়ে আশঙ্কার করেন ডা. সুদীপ।’

22 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন