২২শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

বাউফলে অনুমোদন ছাড়াই ক্লিনিক চালানো সেই ভুয়া ডাক্তার কারাগারে

বরিশালটাইমস, ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬:২৮ অপরাহ্ণ, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বাউফলে অনুমোদন ছাড়াই ক্লিনিক চালানো সেই ভুয়া ডাক্তার কারাগারে

মোঃ জসীম উদ্দিন, বাউফল : অনুমোদন না নিয়েই খুলে বসেছেন ক্লিনিক। সেই ক্লিনিকে নিজেই চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ রোগীদের সাথে প্রতারণা করে আসছিলেন। এমন এক ভুয়া চিকিৎসককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অনুমোদনহীন ক্লিনিকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাউফল উপজেলার কালিশুরী বন্দরে পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় ফেয়ার মেডিকেল সার্ভিসেস ল্যাব নামে একটি ক্লিনিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক কুমার কুন্ড এ অভিযান পরিচালনা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম মো. মহিউদ্দিন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতারক মো. মহিউদ্দিন প্রায় ৪ বছর আগে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো অনুমোদন না নিয়েই কালিশুরী বন্দরের পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় ফেয়ার মেডিকেল সার্ভিসেস ল্যাব নামে এক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে বসেন। চিকিৎসা বিষয়ে কোনো লেখাপড়া না করেও তিনিই ওই ক্লিনিকে চিকিৎসক হিসেবে রোগী দেখতেন।

ব্যবস্থাপত্রে তার পরিচয় ডিপ্লোমা ইন মেডিসিন এন্ড সার্জারি। চর্ম ও যৌন রোগ, মা ও শিশু, হাড় জোড়া, বাত জ্বর, গ্যাস্ট্রিক আলসারসহ বিভিন্ন রোগে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ বলে উল্লেখ করেন। পড়াশুনা না করেই সাধারণ রোগীদের সাথে প্রতারণা করে আসছিলেন তিনি। শুধু চিকিৎসক পরিচয়ে প্রতারণাই শেষ না, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) না হয়েও তিনিই সকল পরীক্ষা–নিরীক্ষা করতেন।

এমন প্রতারণার সংবাদ পেয়ে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক কুমার কুন্ড উপজেলার কালিশুরী বন্দরে ফেয়ার মেডিকেল সার্ভিসেস ল্যাবে অভিযান চালায়। এসময় ওই ক্লিনিকের মালিক ও ভুয়া চিকিৎসক মো. মহিউদ্দিন কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে প্রেরণ এবং অবৈধ ওই ক্লিনিক তালাবদ্ধ করে দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক প্রতীক কুমার কুন্ড। একই দিনে কালিশুরী বন্দরে নিউ লাইফ কেয়ার নামে আরেকটি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। নিউ লাইফ কেয়ারের প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক কুমার কুন্ড বলেন, চিকিৎসক পরিচয় দেওয়া মহিউদ্দিন নামে ওই ব্যক্তি চিকিৎসা বিষয়ে কোনো লেখাপড়া করেনি। তিনি কোনো বৈধ চিকিৎসা সনদপত্র দেখাতে পারেননি। তিনি পল্লী চিকিৎসকও না। তারপরেও নিজেকে চিকিৎসক দাবি করে রোগীদের সাথে প্রতারণা করে আসছিলেন।

বৈধ সনদ ও অনুমোদন না থাকায় মেডিকেল ও ডেন্টাল আইনে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এবং তার মালিকাধীন তথাকথিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন না থাকায় সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, নিউ লাইফ কেয়ার নামে আরও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

17 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন