২৪শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

বাকেরগঞ্জের কলসকাঠীতে আলমাস বাহিনীর ত্রাস, আহত ৭

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৭:৩৪ অপরাহ্ণ, ০৫ জুন ২০২০

বার্তা পরিবেশক, বাকেরগঞ্জ:: বরিশালের বাকেরগঞ্জের কলসকাঠী ইউনিয়নে আলমাস বাহিনীর সন্ত্রাসী হামলায় সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলা শিকার হয়েও সন্ত্রাসী আলমাসের আতঙ্কে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে ভুক্তভোগীরা। কলসকাঠী ইউনিয়নের দক্ষিণ ঢাপরকাঠী গ্রামের ৫নম্বর ওয়ার্ডে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় আশ্রাফ আলী মৃধা ৯ জনকে আসামী করে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করনে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন (রোববার) বিকেলে ঢাপরকাঠী বাজারে বসে একই গ্রামের আলমাস মোল্লা, রিয়াজ মোল্লা ও জাকির মোল্লার সাথে আশ্রাফ আলী মৃধা’র জমি-জমা নিয়া তর্ক-বির্তক হয়। তর্ক-বিতর্কের একপর্যায় সন্ত্রাসী আলমাস বাহিনী আশ্রাফ মৃধা (৬৫) ও তার ছেলে সাব্বির হোসেন মুসা মৃধাকে (১৬) এলোপাতাড়ি মারধর করে। বাজারের লোকজন ছুটে আসলে সন্ত্রাসীরা আশ্রাফ মৃধাকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে চলে যায়।

এ ঘটনার জেরে সন্ত্রাসী আলমাস বাহিনী গত ২ জুন (সোমবার) দুপুর ২ টায় শাহিন মৃধা (৩৫), শামীম মৃধা (৩০), সাইদুল মৃধা (২৮), দুলাল মৃধা (৪৫) ও রব মৃধা’র (৫৫) পথরোধ করে ধারালো দাও, লোহার সাবল ও লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এতে শাহীন মৃধা মাথায় কোপ ও সাব্বিরের মাথায় লাঠি দিয়ে পিটান দিয়ে মাথার তালুর হাড় ভেঙে যায়। তাদেরকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে সাব্বিরের অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করা হয়। সেখানের কর্তব্যরত ডাক্তারা সাব্বিরের অবস্থা আশঙ্কা মনে হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যায়। বর্তমানে সাব্বির মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

এলাকা সূত্রে জানা যায়, আলমাস স্থানীয় সংসদ সদস্যের বরত দিয়ে এলাকায় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী, মাদক ব্যবসা, জমি জবর দখলসহ বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছে। তারা আরও জানায়, প্রায় ২ বছর পূর্বে ব্যবসায়ী হেলাল খানের কাছে চাঁদা দাবি করে সন্ত্রাসী আলকাস। হেলাল চাঁদা না দেয়ায় তাকে বেধম মারধর করে আলকাস। উত্তর ঢাপরকাঠী গ্রামে সরল সহজ মানুষদের টিউবওয়েল দেয়ার কথা বলে প্রায় ২০ হাজার টাকা আত্মসাথ করে। বয়স্ক ভাতা দেয়ার কথা বলে নির্মলের বউসহ আরও ৩ জনের কাছ থেকে ৪ হাজার করে ১২ হাজার টাকা আত্মসাথ করে। হাবিব আকন নামের এক ড্রেজার ব্যবসায়ীকে চাঁদা না দেয়ার অপরাধে পিটিয়ে আহত করে। স্থানীয় নিকুঞ্জ মজুমদার ছেলে মধুকে দিয়ে গাঁজার ব্যবসা করায় আলমাস। পরে মধুকে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেফতার করে।

এছাড়াও সন্ত্রাসী আলমাস ঢাপরকাঠী বাজরের প্রায় দোকানদারদের কাছ থেকে বাকী খেয়ে টাকা দেয় না। টাকা চাইলে তাদেরকে বিভিন্ন হুমকি-ধামকিসহ মারধর করে। সন্ত্রাসী আলমাসের তান্ডবে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। আলমাসের ভয়ে এলাকাবাসী মূখ খুলতে চায় না। সন্ত্রাসী আলমাস বাহিনীকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার।’

16 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন