১৩ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

বাবুগঞ্জে আ’লীগ নেতাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৫:২৭ অপরাহ্ণ, ২৪ নভেম্বর ২০১৭

গভীর রাতে বাবুগঞ্জের রহমতপুর বাজার ডাকাতি করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক হয়েছেন উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদ মল্লিক। এসময় তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে উত্তেজিত জনতা। একই সময়ে আব্দুল হাই নামে তার অপর এক সহযোগীকেও আটক করেছে পুলিশ। এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল থেকে বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ রাখেন রহমতপুর বাজারের ব্যবসায়ীরা।

রহমতপুর বাজার ব্যবসায়ী সৈয়দ হোসেন আহমেদ (হোসেন মাস্টার) জানান, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে রহমতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদ মল্লিকের নেতৃত্বে ২৫/৩০ সশস্ত্র জন লোক একটি দল বিভিন্ন আগ্নেয়ান্ত্র প্রদর্শন করে তার মালিকানাধীন একটি নতুন দোকানসহ জুয়েলারি ও একটি কসমেটিক্সের দোকানে হামলা চালিয়ে লুটপাট শুরু করে।

এসময় তিনি চিৎকার দিলে এক পর্যায়ে বাজারের লোকজন বেরিয়ে তাদের ঘিরে ফেলে। এসময় সহযোগীরা অস্ত্র উচিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও দলনেতা শহিদ মল্লিক জনতার ধাওয়া খেয়ে স্থানীয় আব্দুল হাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে সেখান থেকে তাকে হাতেনাতে আটকের পরে গণধোলাই দিয়ে বিমানবন্দর থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

রহমতপুর বাজার কমিটির সভাপতি দোলোয়ার হোসেন বরিশালটাইমসকে জানান, হামলাকারীদের অনেকেই মুখ বাধা ছিল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেছে। এদিকে রহমতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদ মল্লিক আটকের খবরে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে গতকাল শুক্রবার সকালে দলীয় নেতাকর্মীসহ বিমানবন্দর থানায় উপস্থিত হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার খালেদ হোসেন স্বপন।

এসময় তিনি থানার আটক শহিদ মল্লিককে ছেড়ে দিতে ওসির উপর চাপ সৃষ্টি করেন। শুক্রবার দুপুরের পরে তিনি দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে মুচলেকা দিয়ে আটক শহিদ মল্লিককে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।

তবে চাপ প্রয়োগ করা অস্বীকার করে বিমানবন্দর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বরিশালটাইমসকে জানান, গণপিটুনিতে মাথা ফেটে যাওয়াসহ শহিদ মল্লিক শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় রাতেই তাকে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসা করানো হয়েছে। দুপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেব থানায় এসে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে অভিযোগকারী ও রহমতপুর বাজার কমিটির নেতাদের উপস্থিতিতে মুচলেকা রেখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বাবুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার খালেদ হোসেন স্বপন দাবি করে বরিশালটাইমসকে বলেন, ডাকাতি করতে নয়, দোকানের জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে গিয়েছিল রহমতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদ মল্লিক।

তবে রাত ১২টার সময় সশস্ত্র অবস্থায় দলবল নিয়ে হামলাকে কেমন নিষ্পত্তি বলে- এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তোর দিতে পারেননি তিনি।’’

3 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন