২৮শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

বাবুগঞ্জে নদীপাড়ের মাটিকাটা নিয়ে তুলকালাম, ৩ ট্রলারসহ আটক ১৫

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৭:৫৩ অপরাহ্ণ, ৩০ মে ২০১৭

বাবুগঞ্জে নদীপাড়ের মাটিকাটা নিয়ে মঙ্গলবার (৩০ মে) তুলকালাম হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করতে ৩ ট্রলারসহ ১৫ জন মাটিকাটা শ্রমিককে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। এসময় দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাকুদিয়া গ্রামের সুগন্ধা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকার নদীপাড়ের মাটি বেশ কিছুদিন ধরে কেটে নিচ্ছেন দোয়ারিকা গ্রামের ইটভাটা মালিকরা।

মধ্য রাকুদিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য মোঃ আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, কতিপয় জমি মালিক ইটভাটা মালিকের কাছ থেকে মাটি বিক্রি করে নামমাত্র কিছু টাকা নিলেও ইটভাটাগুলো মাটি কেনার অজুহাতে নির্বিচারে নদীপাড়ের মাটি কখনো দিনে প্রকাশ্যে আবার কখনো রাতে চুরি করে শ্রমিক দিয়ে কেটে নিয়ে যান। এতে নদী ভাঙন আরো তরান্বিত হওয়ায় স্থানীয় মধ্য রাকুদিয়ার ভুক্তভোগী কয়েকশ’ গ্রামবাসী সোমবার উপজেলায় গিয়ে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

এরপরেও গতকাল দোয়ারিকা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আনিসুর রহমানের ইটভাটার শ্রমিকরা ট্রলার নিয়ে নদীপাড়ের মাটি কাটতে আসলে তাতে বাঁধা দেন অবসরপ্রাপ্ত স্থানীয় সেনাসদস্য আলাউদ্দিন শরীফ ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি সাগর হোসেন খাদেম। এসময় মাটিকাটা শ্রমিকরা তাদের ট্রলারে উঠিয়ে দোয়ারিকায় নিয়ে যাবার চেষ্টা করে। এই খবর পেয়ে মধ্য রাকুদিয়া গ্রামের কয়েকশ’ গ্রামবাসী লাঠিসোটা নিয়ে মাটিকাটা শ্রমিকদের নদীতে ঘিরে ফেলে।

এসময় বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও ৩টি ট্রলারসহ ১৫ মাটিকাটা শ্রমিককে আটক করে গ্রামবাসী এবং ট্রলার থেকে আলাউদিন শরীফ ও সাগর হোসেন খাদেমকে উদ্ধার করে। এসময় ট্রলার চালক ও হেলাপারসহ কয়েকজন মাটিকাটা শ্রমিককে গণধোলাই দেয় উত্তেজিত জনতা। এদিকে ৩ ট্রলারসহ ১৫ শ্রমিক রাকুদিয়া গ্রামে আটক হওয়ার খবর পৌঁছলে ইটভাটা মালিক আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে দোয়ারিকা গ্রামবাসী একজোট হয়ে পাল্টা আক্রমনের মাধ্যমে তাদের ট্রলার ও শ্রমিকদের মুক্ত করার জন্য রাকুদিয়া অভিমুখে রওনা দিলে ভয়াবহ সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

এদিকে পাল্টা আক্রমনের খবর পেয়ে রাকুদিয়া গ্রামবাসীরাও লাঠিসোটাসহ দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মধ্য রাকুদিয়া সড়কে অবস্থান নেয়। এমন ভীতিকর পরিস্থিতির সংবাদ পেয়ে ইউএনও দীপক কুমার রায় মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং দুই পক্ষের মাঝখানে অবস্থান নেন। পরে তিনি আটককৃত ৩টি ট্রলার জব্দ ও ১৫ মাটিকাটা শ্রমিকদের ধরে উপজেলা চত্ত্বরে নিয়ে আসেন।

তিনি ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেনসহ উভয় পক্ষের নেতাদের নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসান। বিকেলে তিনি আটকদের শ্রমিকদের জেল এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার আল্টিমেটাম দিলে উভয় পক্ষ সমঝোতায় রাজি হয়। পরে নদীপাড়ের কোনো মাটি কেনা বা বেচা হবে না মর্মে উভয় পক্ষের কাছ থেকে মুচলেকা রেখে আটককৃত শ্রমিকদের ছেড়ে দেন ইউএনও দীপক কুমার রায়। এসময় কোনো শক্তি প্রয়োগ ছাড়াই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ থামাতে ইউএনওর উপস্থিত বুদ্ধি ও কৌশলী সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতাকে সাধুবাদ জানান সবাই।”

12 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন