২৩শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

বাল্যবিয়ে হয় কিনা জানতে চাইলেন কিম

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৭:৩৬ অপরাহ্ণ, ১৮ অক্টোবর ২০১৬

‘আমার ভাগ্য, প্রেসিডেন্ট আমার বাড়িতে এসেছিলেন। এটা টাকা দিয়ে পাওয়া যায় না। আমি খুব খুশী।’ বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামে শিউলী বেগমের বাড়ি পরিদর্শনে যান। এরপর এভাবেই নিজের প্রতিক্রিয়া জানান শিউলী বেগম। ওই এলাকায় বাল্যবিয়ে হয় কিনা জিম ইয়ং কিম তাও জানতে চান বলে জানান তিনি।

তিন দিনের সফরে রবিবার বিকালে বাংলাদেশে আসেন জিম ইয়ং কিম। মঙ্গলবার তিনি বরিশাল সফর করেন। সকাল সাড়ে ৮টায় হেলিকপ্টারে বরিশাল বিমানবন্দরে নেমে সরাসরি বাবুগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামের ‘দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রাম সমিতি’ পরিদর্শনে যান তিনি। সেখানে সমিতির সদস্যরা তাকে স্বাগত জানান।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত উন্নয়ন কর্মসূচির উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন জিম ইয়ং কিম। উপকারভোগী সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। সমিতির কার্যালয়ে তিনি উপকারভোগী শিউলী বেগম, সোনিয়া বেগমের বক্তব্য শোনেন।

শিউলী বেগম জানান, তার স্বামীর নাম আনিস ফারাজী। তিনি কৃষি কাজ করেন। দুই ছেলে ও এক মেয়ে তাদের। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত উন্নয়ন কর্মসূচি থেকে সাহায্য পেয়েছেন তিনি। এখন তারা ভালোই আছেন।

জিম ইয়ং কিমের সঙ্গে কথা বলা প্রসঙ্গে শিউলী বেগম বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক প্রধান প্রথমেই এসে আমার খোঁজ নেন। বয়স কতো জানতে চান। কবে বিয়ে হয়েছে, ছেলে-মেয়ে কয় জন, এখানে বাল্য বিয়ে হয় কিনা জানতে চান।’

‘মেয়েকে ১৫ বছরে বিয়ে দেবেন কিনা’ জিম ইয়ং কিমের এমন প্রশ্নের জবাবে শিউলী বেগম তাকে  বলেন, ‘আমার এক ছেলে কারখানায় কাজ করে। আরেক ছেলে অস্টম শ্রেণিতে পড়ে। আরেক মেয়ে ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ে। আমি চাই আমার মেয়ে লেখাপড়া করুক। আমি কখনোই মেয়েকে ১৫ বছরে বিয়ে দেবো না।’

শিউলী আরও বলেন, ‘এসময় বিশ্ব ব্যাংক প্রধান জানতে চান কীভাবে আমি গরু পালন করি। আমি তাকে এ বিষয়ে বলেছি।’

দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামের গৃহবধূ শিউলী বেগম জানান, মাত্র ক’ বছর আগেও দু’বেলা দুমুঠো খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হতো তাদের। অথচ সেই দুর্দিন এখন ইতিহাস। সংসারে ফিরে এসেছে সুখ এবং স্বচ্ছলতা। ২০১২ সালে এসডিএফ থেকে বিশ্বব্যাংকের ‘নতুন জীবন’ প্রকল্পের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে সেই টাকার এবং  বিয়ের সময় পাওয়া কিছু গহনা বিক্রি করে মোট ২৭ হাজার টাকায় একটি গাভী কেনেন।

এরপরে সেই গাভীর দুধ বিক্রি করে পরিশোধ করেন ঋণের টাকা। পরের বছর ঋণ নেন ২০ হাজার টাকা। কেনেন আরও একটি গাভী। গোবর দিয়ে তৈরি করেন কম্পোস্ট সার। বছরজুড়ে শুধু কম্পোস্ট সার বিক্রি করেই এখন আয় হয় প্রায় ১২ হাজার টাকা।

সেই সঙ্গে বাজারে প্রতিদিন বিক্রি করেন গাভীর ৪ লিটার দুধ। এখন ৫টি গাভীর মালিক শিউলী। এছাড়া, আরও দুটি গাভী রয়েছে বর্গা দেওয়া।

সেই এনজিও’র সহায়তায় পর্যায়ক্রমে আরও ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে নিজের বাড়ির সামনের পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন তারা। বর্তমানে তার পুকুরে লক্ষাধিক টাকার মাছ রয়েছে বলে জানান শিউলী।

গাভী পালন ও মাছ চাষের পাশাপাশি বাড়ির আঙ্গিনায় বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করে এখন পুরোই স্বাবলম্বী তিনি। যা দিয়ে ঋণ পরিশোধের পাশপাশি সংসার ও ছেলে-মেয়ের লেখা পড়ার খরচ ভালোভাবেই চলে যাচ্ছে।

15 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন