১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

বিএনপি নেতা সরোয়ারকে নিয়ে হাইকমান্ডে তোলপাড়

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৩:২২ অপরাহ্ণ, ০৭ এপ্রিল ২০১৭

গঠনতন্ত্রে এক নেতার এক পদ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত বিএনপির হাইকমান্ড নিলেও কেন্দ্রীয় নেতা বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারকে কোনভাবেই মানানো যাচ্ছে না। এমনকি তিনি নিজে থেকেও একটি পদও ছাড়তে চাইছেন না। বরং দুটি পদই আকড়ে ধরে আগামী দিনগুলোতে অগ্রসর হতে চাইছেন। অথচ একটি পদ ছাড়তে তাকে বরাবরই চাপের ওপরে রাখছে হাইকমান্ড। কিন্তু প্রতিবারই বরিশালের এই নেতা কৌশল নিয়েছেন। সর্বশেষ গত ৫ এপ্রিল কেন্দ্রীয় নোটিশে সরোয়ারকে একটি পদ ছেড়ে বিষয়টি লিখিত আকারে নেত্রী খালেদা জিয়াকে জানাতে বলা হয়।

কিন্তু সরোয়ার যা করলেন তাতে শীর্ষ নেতারা হকচকিয়ে গেলেন। চিঠি ঠিকই দিয়েছেন, তবে পদ ছাড়ার কোন বিষয় স্পষ্ট করেননি। বরং দুটি পদে থাকতে চেয়ে ব্যাখ্যা দিলেন বরিশাল রাজনীতির সামগ্রিক বাস্তব চিত্রের। ফলে এই নেতাকে নিয়ে হাইকমান্ডে তোলপাড় অবস্থা শুরু হয়েছে। যে বিষয়টি দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া পর্যন্ত শেষাবধি গড়িয়েছে। যদিও ঢাকায় এ নিয়ে ঢের সমালোচনা চললেও বরিশালে তেমন একটা আভাস নেই।

কেন্দ্রীয় নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, গত ৫ এপ্রিল প্রেরিত নোটিশ পেয়ে গত বুধবার জবাব দিয়েছেন সরোয়ার। ওই চিঠিতে পদত্যাগ করে তাকে বিষয়টি শীর্ষ মহলকে অবহিত করার কথা থাকলেও তিনি তা করেননি। বরং বরিশাল বিএনপিকে উজ্জীবিত রাখতে তার বিকল্প নেই বলে তুলে ধরেছেন। তাছাড়া নেতাকর্মীরাও তাকে দুটি পদেই দেখতে চেয়েছেন বলে জানানো হয়।

যে বিষয়টি শুনে দলের মহাসচিব মীর্জ ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অনেক নেতাই তার ওপর নাখোশ হয়েছেন। যদিও সরোয়ার পদ ধরে রাখা এবং ছাড়া পুরো বিষয়টিই দলীয় নেত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেয়ার কথা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন। নিশ্চিত হওয়া গেছে চিঠির বিষয়টি নিয়ে মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলপ্রধান খালেদা জিয়ার সাথে আলোচনা করেছেন। কিন্তু নেত্রী এই বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত দেয়নি। তবে সারা দেশের পরিস্থিতি নিয়ে খুব শীঘ্রই দলীয় ফোরামে আলোচনা করবেন। সেখানেই নির্ধারণ হতে পারে সরোয়ারের ভাগ্যে কি আছে।

যদিও সরোয়ারকে একটি পদ ছাড়তে বরিশাল বিএনপির একটি অংশ কেন্দ্রে তদ্বির করছে বলে আভাস পাওয়া গেছে। এই নেতাকে মহানগর পদটি থেকে সরাতে পারলে তাদের মধ্যে একজন অধিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা অনুমেয়। যে কারণে তারা বেশি মাত্রায় আগ্রহী হয়ে বরিশালের রাজনীতির প্রেক্ষাপট সম্পর্কে প্রতিনিয়তই কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে অবহিত করছেন। যে কারণে ধারণা করা হচ্ছে- এবার সরোয়ারের কপাল পুড়তে পারে। যদিও সরোয়ার নিজেকে শক্তপোক্তভাবে ধরে রাখতে সম্প্রতি তার অনুসারি মহানগর নেতাকর্মীদের দিয়ে কৌশলে একটি সভা করিয়ে তাকেই মহানগরে রাখতে আওয়াজ তুলেছেন।

এমনকি সে বিষয়টি রেজুলেশন আকারে তৈরি করে কেন্দ্রেও পাঠিয়েছেন। কিন্তু সরোয়ারের এসব কেরামতি শেষাবধি টিকবে কিনা তা নিয়ে বরিশালে রাজনীতিক মহলে ঢের আলোচনা চলছে। একই অবস্থা কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরীরও। তিনিও সরোয়ারের ন্যায় কৌশল অবলম্বন করে দুটি পদই বহাল থাকতে চাইছেন। যে কারণে দীর্ঘদিন কেন্দ্রকে সিদ্ধান্ত জানানো নিয়ে টালবাহানা করে এবার কৌশলী পদক্ষেপ রাখছেন।”

42 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন