১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

বিএম কলেজের গাছ কেটে সাবার করলেন অধ্যক্ষ !

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ, ১২ নভেম্বর ২০১৬

বরিশালঃ সরকারি বিএম কলেজের শোভাবর্ধনকারী প্রায় ১২টির মত আকাশমনি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষ স.ম ইমানুল হাকিম এর বিরুদ্ধে।

বনবিভাগ কিংবা কোন টেন্ডার কার্যক্রম ছাড়াই শুক্রবার কলেজ বন্ধের দিনে জুম’আ’র নামাজের পর পরই শ্রমিকদের মাধ্যমে বড় আকারের ঐ গাছগুলো কাটেন তিনি।

বহু বছরের পূরানো ঐসব গাছ ক্যাম্পাসের পরিবেশের ভারসম্য নষ্ট করার পাশাপাশি ভবনের ক্ষতি করায় গাছ গুলো কেটে ফেলা হয়েছে বলে দাবী করেছেন অধ্যক্ষ স.ম ইমানুল হাকিম।

সরেজমিনে দেখাগেছে, বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে জিরোপয়েন্ট এলাকায় বহু বছরের পুরানো বড় আকৃতির ১০/১২টি আকাশমনি গাছ শ্রমিক দিয়ে কাটাচ্ছেন অধ্যক্ষ স.ম ইমানুল হাকিম। ক্যাম্পাসে গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, অধ্যক্ষ স্যার আমাদের কাটতে বলছে, আমরা টাকার বিনিময়ে গাছগুলো কেটেছি। তিনি গাছ কি করবেন তা আমাদের জানা নেই।

এদিকে গাছ কাটার সংবাদ পেয়ে গনমাধ্যম কর্মিরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। গনমাধ্যমকর্মীদের দেখে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পরেন ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক বেল্লাল হোসেন। বেল্লাল হোসেন যাওয়ার কিছুক্ষনের মধ্যেই ঘটনাস্থলে চলে আসেন কলেজ অধ্যক্ষ। সেখানে গাছ কাটার চিত্র ক্যামেরা বন্ধি করার চেষ্টা করলে ঘটনাস্থলে থাকা বিএম কলেজ অধ্যক্ষ স.ম ইমানুল হাকিম তাদের ছবি তুলতে বাঁধা দেন। বলেন, আমার ক্যাম্পাসের গাছ আমি কেটেছি। এটা নিউজ হওয়ার কিছু নয়।

এছাড়া তিনি ঘটনাস্থল থেকে ফটো সাংবাদিকদের চলে যেতে বলেন, এবং পত্রিকার সম্পাদকের সাথে কথা বলে নেবেন বলে জানান।

বিএম কলেজের বেশ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, অধ্যক্ষ স.ম ইমানুল হাকিম বন বিভাগ কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন প্রকার অনুমতি কিংবা ছাড়পত্র ছাড়াই শুক্রবার নিজ উদ্যোগে গাছ গুলো কেটে ফেলেন। শুক্রবার হওয়ায় কেউ ডাক নেওয়ারও থাকবে না। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েছেন তিনি। তার নিজের প্রয়োজনেই গাছ গুলো কেটেছেন বলে দাবী সূত্রগুলোর। 15045601_1260091024011269_2138459529_n

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিএম কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক স.ম ইমানুল হাকিম বলেন, এটা বড় কোন বিষয় নয়। তাছাড়া গাছ গুলো ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করছে। তাই এগুলো কেটে পরিবেশের ভারসম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি মাত্র।

বন সংরক্ষন অধিদপ্তর বরিশাল কোস্টাল অঞ্চলের এক কর্মকর্তা বলেছেন, সরকারী সম্পত্তির কোন গাছ কাটতে হলে বন বিভাগের অনুমতি সাপেক্ষে টেন্ডারের মাধ্যমে কাটতে হবে। এমনকি গাছের ডালও একটি নির্দিষ্ট আকারের পরে তা কাটতে হলে সে ক্ষেত্রেও বন বিভাগের ছাড়পত্র নিতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে সেটা আইন পরিপন্থি বলে বিবেচিত হবে।

সূত্রটি জানায়, বিএম কলেজের গাছ কাটার বিষয়ে তারা শুক্রবার পর্যন্ত কোন চিঠি পাননি এমনকি সেখানে গাছ কাটার জন্য কাউকে অনুমতিও দেয়া হয়নি। তাই বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে বলেও জানান বন বিভাগের ঐ কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, এর আগেও এই অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত কাজে কলেজের গাছ আত্মসাতের অভিযোগ ছিল। যা নিয়ে এর আগেও একাধিকবার সংবাদ পরিবেশন হয়েছে। অনেক শিক্ষক জানান, অধ্যক্ষ জামায়াত পন্থী হওয়া সত্বেও অদৃশ্য এক ক্ষমতার বলে এসব কর্মকান্ড কলেজে অব্যাহত রাখছে।

40 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন