২৫শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

বিসিসিতে আগুন জ্বালিয়ে কামাল থাইল্যান্ডে

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬


কৌশলে প্যানেল মেয়র-১ শহিদুল্যাহকে সাইড করে
ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব দিলেন বাদশাকে
ক্ষুব্ধ বিএনপিপন্থী কাউন্সিলররা অভিযোগ
নিয়ে সরোয়ারের দারস্থ


অবশেষে সেই শঙ্কাই সত্যি হলো। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ কেএম শহিদুল্যাহকে সাইড করে দিলেন মেয়র আহসান হাবিব কামাল। উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে আজ থাইল্যান্ড গমনকে কেন্দ্র করে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব আ’লীগপন্থী কাউন্সিলর মোশারেফ আলী খান বাদশাকে দেয়ায় পরিস্কার হয়ে গেল বিএনপিবিরোধী কামালের মনোভাব। এখন মেয়র কামালের এমন সিদ্ধান্তে হতবাক-বাকরুদ্ধ বিএনপিপন্থী কাউন্সিলররা।

বিশেষ করে দলীয় ঘরনার প্যানেল মেয়র-১ কেএম শহিদুল্যাহকে একটি খোড়া অজুহাতে বিসিসি থেকে কৌশলে বিতাড়িত করার পর এমনিতেই অনেকে ক্ষুব্ধ। তাছাড়া সাম্প্রতিকালে আ’লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেমে অনেকে মামলায় জড়িয়ে পরায় তাদের বিরুদ্ধেও মেয়র কামাল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। যে কারণে শহিদুল্যাহর বরখাস্ত আদেশ পরবর্তী সিটি কর্পোরেশনে কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরণের অসন্তোষ চলছে।

এমনি মুহূর্তে কামালের বিদেশ গমন এবং মেয়রের দায়িত্ব আ’লীগ নেতা মোশারেফ আলী খান বাদশাকে দেয়ার সিদ্ধান্ত অনেকেই সহজভাবে মেনে নিতে পারছে না। যদিও মেয়র কামাল এর বিপরীতে যুক্তি দাড় করিয়ে বলছেন প্যানেল মেয়র-১ কেএম শহিদুল্যাহ মন্ত্রণালয়ের আদেশে বরখাস্ত রয়েছেন। যে কারণে বিধি অনুযায়ী প্যানেল মেয়র-২ মোশারেফ আলী খান বাদশাকেই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

k-m-sohid

তবে প্যানেল মেয়র-১ কেএম শহিদুল্যাহর দাবি মন্ত্রণালয়ের বরখাস্ত আদেশ উচ্চআদালত তার রিটের প্রেক্ষিতে স্থগিত করেছে। তাই তাকে বিসিসিতে বহাল রাখার ক্ষেত্রে কোন বাঁধা নেই। কিন্তু মেয়র বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের দোহাই দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছেন। এমতাবস্থায় বিএনপির ঘরনার অপরাপর কাউন্সিলররাও বলছেন, মূলত মেয়র কামাল এটাই চেয়েছিলেন। আ’লীগপন্থী কাউন্সিলরদের সাথে সখ্যতা গড়ে তার চেয়ারটিকে ঠিক রাখতে।

অবশ্য এতে কামাল সফল হলেও বিসিসিতে আগুন জ্বলছে বলে একাধিক কাউন্সিলরের অভিমত। তাদের ভাষ্য হচ্ছে, কেএম শহিদুল্যাহর বিরুদ্ধে একটি মামলার চার্জ গঠনের অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে মেয়রকে উৎসাহিত করেন মোশারেফ আলী খান বাদশাসহ আ’লীগপন্থী কাউন্সিলররা। সেই সময় বিপদে আপদে কামালের পাশে অভয়ও দেন তারা। একইভাবে মামলায় জড়িত বিএনপিপন্থী কাউন্সিলর জিয়াউদ্দিন সিকদার ও সৈয়দ সাইদুল হাসান মামুনসহ অন্তত এক ডজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ পাঠান। এ বিষয়টি কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা এ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার পর্যন্ত গড়ায়।

 

কিন্তু সময় খারাপ যাওয়ায় আপাতত মুখ বুঝে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছেন এই নেতা। যদিও অনেক আগেই মেয়র আহসান হাবিব কামালের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল আ’লীগের যোগদানের। যে কারণে শেষাবধি কামাল বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির পদটিও হারান। গতকাল সন্ধ্যার পরপর বিসিসির গণসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উদ্দিন রুমেলের প্রেরিত একটি মেইল বার্তায় প্যানেল মেয়র বাদশাকে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব দেয়ার বিষয়টি মিডিয়াকে অবহিত করা হয়।

সেই বার্তায় বলা হয়েছে মেয়র কামাল উন্নত চিকিৎসার আজ ১৮ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। মেয়রের এই ৮ দিন অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করবেন বাদশা। কিন্তু বিষ্ময়কর বিষয় হচ্ছে, মেইলে প্রেরিত বার্তাটিতে মোশারেফ আলী খান বাদশা গুনকীর্তন করেছেন তাতে অনেকেই রীতিমত অবাক।

badsha

নাম না প্রকাশ করার শর্তে এক কাউন্সিলর জানান, সম্প্রতি দেশের একাধিক সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বরখাস্তের ঘটনায় কামাল আতঙ্কে ছিলেন। যে কারণে ক্ষমতাসীন একটি বিশেষ মহলের সাথে আঁতাত করে আ’লীগপন্থী কাউন্সিলরদের পাশে নিয়ে মসনদটি আকড়ে রেখেছেন।

 

মূলত ক্ষমতাসীন দলের কাউন্সিলরদের পাশে রাখতে গিয়েই কৌশলে বিসিসি থেকে বিতাড়িত করলেন শহিদুল্যাহকে। অবশ্য কামালের মিশন সফল হয়েছে। শহিদুল্যাহকে সরিয়ে আ’লীগ ঘরনার কাউন্সিলর বাদশাকেই মর্যাদার আসন দিলেন। কিন্তু কামালের বিএনপিবিরোধী এই মনোভাব ক্রমশই ব্যাপকতা পাওয়ায় অনেকেই ক্ষুব্ধ। এমতাবস্থায় প্যানেল মেয়র-১ কেএম শহিদুল্যাহর অভিব্যক্তি হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে বরখাস্ত আদেশ স্থগিত রাখতে উচ্চআদালতের নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু কামাল বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করছেন। এই বিষয়টি উচ্চ আদালতকে অবহিত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

6 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন