১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

বোরহানউদ্দিন এখন শান্ত, কিন্তু মুসুল্লিদের মাঝে গ্রেপ্তার আতঙ্ক

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১২:৫৭ অপরাহ্ণ, ২০ নভেম্বর ২০১৯

বার্তা পরিবেশক, ভোলা:: দ্বীপ জেলা ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা সদরে ফেসবুকের একটি কথিত পোস্টকে কেন্দ্র করে জনতা-পুলিশ সংঘর্ষের পর এক মাস পার হয়ে গেছে। গত ২০ অক্টোবরের ওই সহিংসতায় ৪ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হন। মন্দিরসহ হিন্দুদের ১০ থেকে ১২টি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। যার ফেসবুক মেসেঞ্জার থেকে কথিত পোস্টটি ছড়ানো হয় সেই বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য শুভ কারাগারে আছেন। শুভর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাকের বিষয়ে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় শুভসহ তিনজন জেলহাজতে আছেন। এদিকে ২০ অক্টোবর সহিংসতার ঘটনায় অজ্ঞাত পাঁচ হাজার জনকে আসামি করে পুলিশ এবং প্রায় ৫০০ জনকে আসামি করে গৌর নিতাই আশ্রম মন্দিরের সভাপতি সত্য প্রসাদ দাস মামলা দায়ের করেন। এ কারণে এলাকায় গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক এ তথ্য সংবাদকর্মীদের নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বোরহানউদ্দিনে নিহত চার জনের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।

সহিংসতার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বোরহানউদ্দিন থানার ওসি (তদন্ত) আবদুল কাদের সংবাদকর্মীদের জানান, ঘটনার দিনের ভিডিও ফুটেজ দেখে এ পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরা হচ্ছেন- মো. আরিফ (২৪), মো. সজীব (২৩), আল-আমিন (২৫), আইউব আলী স্বপন (৩৫), মো. হাসনাইন (২২), আ. ছালাম হোসাইন (২২), মো. মাসুম বিল্লাহ (২২), মো. আবদুর রহমান (২৬) এবং সোলাইমান মামুন (৩১)। তাদের বেশিরভাগের বাড়ি বোরহানউদ্দিনে। তাদের সবাই এখন জেলহাজতে রয়েছেন।

পুলিশের ওপর হামলার মামলায় এদের মধ্যে মো. আরিফ, মো. সজীব, আল-আমিন এবং মাসুম বিল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এদিকে ভাওয়ালবাড়ি গৌর নিতাই আশ্রম মন্দিরের সভাপতি সত্য প্রসাদ দাসের দায়ের করা অজ্ঞাত ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা মামলায় কামরুল ইসলাম (২৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বোরহানউদ্দিন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম।

বোরহানউদ্দিনের ঘটনায় ভোলা জেলা প্রশাসক গঠিত তদন্ত কমিটি ও পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট প্রধানদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তদন্তের স্বার্থে এসব রিপোর্ট মিডিয়ার কাছে প্রকাশ করা হয়নি।

ভোলা পুলিশ সুপার সরকার মো. কায়সার সাংবাদিকদের জানান, ‘বোরহানউদ্দিনের ঘটনার পর পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে। ভোলার পরিবেশ এখন সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে।’

এদিকে বোরহানউদ্দিনের ঘটনার পর গঠিত ভোলা জেলা মুসলিম ঐক্য পরিষদের সভাপতি মাওলানা আবদুর রহমান খানের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গত রোববার (১৭ নভেম্বর) ভোলার জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম ছিদ্দিক ও পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সারের সঙ্গে দেখা করেন। অজ্ঞাত পাঁচ হাজার জনকে আসামি করে দায়ের করা মামলাকে হয়রানিমূলক দাবি করে দ্রুত তা প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তারদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিসহ ছয় দফা দাবির স্মারকলিপি তুলে দেন তারা। নেতারা জানান, পাঁচ হাজার জনকে আসামি করে মামলায় অনেক নিরপরাধ মানুষও গ্রেপ্তার আতঙ্কে ভুগছে।

এদিকে যে ফেসবুক আইডি থেকে কথিত পোস্টটি দেওয়া হয় তা নিয়ে পুলিশ সদর দফতর এখনও কাজ করছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সেক্রেটারি ইন্দ্রজিত দে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এখন আর তেমন আতঙ্কে নেই। তবে আমরা চাই, আমাদের বাড়িঘর ও মন্দিরে যারা হামলা করেছে, তাদের খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করা হোক। যারা এমন নৃশংসতা চালিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার বিচার হওয়া উচিত।’

13 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন