২৮শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

ভাঙন হুমকিতে ভোলার শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১২:০১ পূর্বাহ্ণ, ১৬ মে ২০১৭

ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ভোলার উপকূলের মানুষ। ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ মেরামত না করা এবং অপক্ষোকৃত উঁচু বাঁধের অভাবে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হয় নদীর তীরের ৫লাখ মানুষকে। এরমধ্যে আবার চলতি বর্ষায় জেলার ২৩ কিলেমিটার বাধ দ্রুত সংস্কার না হলে শাহবাজপুর গ্যাস ক্ষেত্রেসহ অনেক গুরুপ্তপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মধ্যে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে ঝুকি ও শঙ্কা আরও বেড়ে গেছে। তবে জুন মাসের মধ্যেই গ্যাস রক্ষা কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সাংসদ।

উপকূলের বাসিন্দারা জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় ব্যপক প্রস্তুতির কারনে মহাসেনের ঝড়ে জানমালের  কম ক্ষতি হলেও ভোলায় অর্ধশত কিলোমিটার বাধের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরবর্তীতে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে বাধ সংস্কার এবং তীর সংরক্ষণ কাজ হয়। কিন্তু এখনও জেলার সাত উপজেলার অন্তত ২৩ কিলোমিটার বাধ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।  এতে আতঙ্কিত উপকূলের মানুষ। জলোচ্ছ্বাস আর প্লাবনের ভয় তাদের। ঝুঁকিতে থাকা বাধের মধ্যে ডিভিশন-১ এর আওতায় ৬ কিলোমিটার এবং ডিভিশন-২ এর আওতায় ১৭ কিলোমিটার বাধ রয়েছে। তবে পাউবো হিসাবে তজুমদ্দিনে ৭ কিলোমিটার, চরফ্যাশন ৭ এবং মনপুরা উপজেলা ২ কিলোমিটার এবং ভোলা সদরে ইলিশা-রাজাপুর ২.২৯ কিলোমিটার বাধ অধিক রয়েছে।

নদীর উপকূলের বাসিন্দা সমাজসেবক ডা. মহিউদ্দিন জানান, উপকূলের বেড়িবাধের অত্যান্ত নাজুক অবস্থা, নদীর পানির উচ্চতা কিছুটা বাড়লেই বিস্তির্ন এলাকা প্লাবিত হয়। এতে বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে জনজীবন। অনেক এলাকাতেই বাধ নেই, সেখানকার অবস্থা অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ। সাবেক ইউপি সদস্য সানাউল্যাহ সানু বলেন, মেঘনা পাড়ে যারা বসবাস করছে তারা অত্যান্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় পানির চাপে অনেক এলাকা বাধ ধ্বসে যায় আবার ভেঙে যায়।

এতে বাধ সংস্কার ও উঁচু করা হলেই অনেকে রক্ষা পাবেন। বোরহানউদ্দিন পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এ উপজেলার চারদিকে নদী। এখানে রয়েছে গ্যাস ক্ষেত্র ও ২টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অসংখ্য স্থাপনা। ভাঙন রোধের কাজ দ্রুত গতিতে করা না হলে অনেক কিছুই অদূর ভবিষ্যতে ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাজে আমাদের উপজেলা ও পৌরবাসীর দাবী ভাঙন রোধে বরাদ্দ এবং দ্রুত কাজ বাস্তবায়নে ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়। এদিকে শুধু ঝুঁকিপূর্ন বাধই নয়, গেল মৌসুমের মত এ মৌসুমেও তীব্র ভাঙনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে বর্ষার আগেই ভাঙন রোধের কাজ করা না হলে হুমকির মুখে পড়বে ভোলার একমাত্র গ্যাস কেন্দ্র শাহবাজপুর গ্যাস ক্ষেত্রটিও।

এতে বিলীন হতে পারে গুরুত্বপূর্ন অনেক স্থাপনা। এ বিষয়ে ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল বলেন, শাহবাজপুর রক্ষা প্রকল্প হচ্ছে ব্লক দিয়ে নদীর গতিরোধ করা। তাই এ প্রকল্পের আওতায় ইতমধ্যে ১ ও ২ ফেইজের কাজ সমাপ্ত হয়েছে, এখন তৃতীয় ফেইজের কাজ চরছে। আগামী  জুন মাসের  মধ্যেই পুরোপুরি ভাবেই শাহবাজপুর গ্যাস ক্ষেত্রকে রক্ষা করা হবে। তখন আর গ্যাস ক্ষেত্রটি ঝুঁকির মধ্যে থাকবে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাবে জেলায় মোট বাধ রয়েছে ৩৫২ কিলোমিটার।

এরমধ্যে ডিভিশন-১ রয়েছে ১১৭ কিলোমিটার এবং ডিভিশন-২ এর আওতায় রয়েছে ২৩৫ কিলোমিটার। এসব বাধের মধ্যে চলতি বর্ষায় ২৩ কিলোমিটার ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-১ এর প্রকৌশলী কাওসার হোসেন বলেন, আমরা ১৭ কিলোমিটার বাধ মেরামতের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি, তবে এখনও অনুমোদন আসেনি। ডিভিশন-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আখতার বলেন, ভোলা সদর, বোরহানউদ্দিন এবং দৌলতখানের কিছু কিছু পয়েন্টে কাজ চলছে।

বাধেল কিছু মানুষ ঝুকিতে রয়েছে তবে আমরা উঁচু বাধসহ দ্রুত ভাঙন রোধের জন্য প্রকল্প চাওয়া হয়েছে। এদিকে একের পর এক দুর্যোগের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ এবং বার বারই ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় দ্বীপ ভোলাকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।”

10 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন