৭ ঘণ্টা আগের আপডেট সকাল ৮:১৩ ; সোমবার ; আগস্ট ৮, ২০২২
EN Download App
Youtube google+ twitter facebook
×

ভালোবাসার এক ফেরিওয়ালা ডিআইজি শফিকুল ইসলাম

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট
১০:১৬ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০১৭

পুলিশ বিভাগের সাহসী ও মেধাবী হিসেবে সবমহলে প্রশংসিত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম-বিপিএম। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি আদর্শবান, শতভাগ পেশাদার ও ন্যায়পরায়ণ। তার কর্মদক্ষতার ছোয়া সমৃদ্ধ করেছে পুলিশ বাহিনীকেও। বরিশাল রেঞ্জে তার যোগদানের পর সাড়ে ৩ মাসেই পাল্টে যায় পুলিশের চিত্র।

পুলিশ শাসক নয়, শোষক নয়; পুলিশ জনগণের সেবক। এই মন্ত্রে উজ্জীবিত এখন পুরো বরিশাল রেঞ্জের পুলিশের সকল সদস্য। এ কারণে হ্রাস পেয়েছে পুলিশ কর্তৃক মানুষের হয়রানি। শক্তি বা বল প্রয়োগে নয় বরং ভালোবাসার বার্তা দিয়ে সমাজ থেকে অপরাধের অন্ধকার দূরে করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও ভালোবাসা আর সেবায় প্রত্যেকের হৃদয়ে উজ্জল আসন পেতেছেন ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম। ইতিমধ্যে তিনি সাধারণ মানুষের পাশাপাশি জয় করে নিয়েছেন অভিভাবক মহলেরও মন। এলাকার যুবসমাজ যখন মাদকের ছোবলে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে তখন মাদকের বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করে দিয়েছেন তিনি। তার দক্ষ তদারকিতে মাঠপর্যায়ে সদস্যদের মাঝেও পেশাদারিত্ব এসেছে। পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগ লাঘবে ডিআইজির বিচক্ষণতা অনেকাংশেই প্রশংসার দাবী রাখে।

জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশের মাধ্যমে বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি পদে দায়িত্ব পান মো. শফিকুল ইসলাম। এরআগে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বেশ সুনাম অর্জন কুড়িয়েছেন। শতভাগ সেবা নিশ্চিত করতে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিয়েছেন বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের নবাগত ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম। পদক্ষেপগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, অপরাধ কমানো ও পুলিশি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌছে দিতে বরিশাল রেঞ্জে জাপানি পুলিশের ‘কোবান’ পদ্ধতি অনুসরণ করে চালু করা হয়েছে ‘বিট পুলিশিং কার্যক্রম’। প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরশহরকে একাধিক ইউনিটে ভাগ করে প্রতিটি ইউনিটের জন্য একজন উপ-পরিদর্শকের (এসআই) নেতৃত্বে ৫ পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব প্রদান, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তথ্য/অভিযোগ বক্স স্থাপন এবং রেঞ্জ পুলিশের অ্যাপ চালু। পুলিশের নেয়া উদ্যোগে সাড়া দিয়ে ডিআইজির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন অনেকে। পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। বাল্য বিয়ে, ইভটিজিং আর মাদকের ভয়াবহতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভাগ জুড়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাধারণ জনগণ যাতে সহজে পুলিশের সেবা পেতে পারে সেজন্য এ পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিআইজি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইতিমধ্যে এলাকার চিহ্নিত অনেক মাদক ব্যাবসায়ী গা ঢাকা দিয়েছে। গ্রেফতার হয়েছেন সংশ্লিষ্টদের অধিকাংশই। একইসাথে বন্ধ হয়ে গেছে চিহ্নিত মাদকের স্পটগুলো। মাদকসেবী আর মাদক ব্যাবসায়ীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ অনেকেই হাফ ছেড়ে বেচেছেন। স্থানীয় সচেতন মহল মাদকের বিরুদ্ধে ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলামের এমন কঠোর অবস্থান ও জিরো টলারেন্সকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এছাড়াও সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত ও সচ্ছল ছয় সন্তানের মায়া-মমতা, ভালোবাসা ও আদরবঞ্চিত ভিক্ষুক মা মনোয়ারা বেগমের (৭০) প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন এই নিরহংকার মানুষটি। হাসপাতালে ওই ভিক্ষুক মাকে দেখতে গিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার জন্য ১৫ হাজার টাকা দেন এবং পুলিশের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসা ব্যয় বহন করার কথা জানান ডিআইজি।

মাদক বিরোধী কার্যক্রমের ব্যাপারে ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নানাবিধ উদ্যোগের মধ্যে মাদকমুক্ত বরিশাল গড়ার লক্ষ্যে পুলিশের মাদক বিরোধী কার্যক্রম আরো শক্তিশালী করা হয়েছে। আইনের ভেতর থেকে মাদকাসক্ত ও ব্যবসায়ীদের ভালো হওয়ার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। অপরাধীরা ভয় পাক কিন্তু জনগণ যেন পুলিশকে ভয় না পায়, তারা যেন সব কাজেই পুলিশকে বন্ধু হিসেবে মনে করে। বিট পুলিশিংয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের মূল অস্ত্র হল; সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য পাওয়া। সাধারণ জনগণ যাতে সহজে পুলিশের কাছে তথ্য পৌছাতে পারে সেজন্য পাড়া-মহল্লায় অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পুলিশিং একটি টিম ওয়ার্ক। সবাই মিলে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এক সঙ্গে কাজ করলে দেশের আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হবে, দেশ এগিয়ে যাবে।

স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ব্যাপারে ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ মাদকের মত মরণ নেশায় জড়িত। এসব মেধাবী শিক্ষার্থীদের ধ্বংসের পথ থেকে টেনে তুলতেই বরিশালের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে ছাত্রসমাজে অপরাধ প্রবণতা কমবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের দূরত্ব কমে যাবে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক অপরাধও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে। এ জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিজ নিজ পরিবারের এ্যাম্বাসেডরের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান ডিআইজি।

খবর বিজ্ঞপ্তি, টাইমস স্পেশাল, বরিশালের খবর

 

আপনার মতামত লিখুন :

 
এই বিভাগের অারও সংবাদ
ভারপ্রাপ্ত-সম্পাদকঃ শাকিব বিপ্লব
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮ | বরিশালটাইমস.কম
বরিশালটাইমস মিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।
ইসরাফিল ভিলা (তৃতীয় তলা), ফলপট্টি রোড, বরিশাল ৮২০০।
ফোন: +৮৮০২৪৭৮৮৩০৫৪৫, মোবাইল: ০১৮৭৬৮৩৪৭৫৪
ই-মেইল: [email protected], [email protected]
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮
টপ
  সদরঘাটে ২ লঞ্চের মাঝে চাপা পড়ে ট্রলারের যাত্রী নিহত  ঝালকাঠিতে ছাত্র ও যুবলীগের হামলায় রক্তাক্ত বিএনপি নেতা  জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: লঞ্চভাড়া ১০০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব  জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দিনমজুরের ঘরে আগুন  রেক্টিফাইড ও ডিনেচার্ড স্পিরিট বিক্রির দায়ে দুজনের অর্থদন্ড  বাউফলে চুরি হওয়া শিশু উদ্ধার, চোর গ্রেপ্তার  বরিশালে ২ পেট্রোলপাম্পকে দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা  বাউফলে নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা উধাও!  বিদ্যালয়ের মাঠ যেন ডোবা, কমছে শিক্ষার্থী উপস্থিতি  ঝালকাঠিতে হাত-পা বাঁধা ট্রলার চালককে খাল থেকে জ্যান্ত উদ্ধার