৪ ঘণ্টা আগের আপডেট সকাল ৫:১৭ ; শনিবার ; জুলাই ২, ২০২২
EN Download App
Youtube google+ twitter facebook
×

ভুতুড়ে বস্তু কনার অস্তিত্বের প্রমাণ মিলল ফের আরেকবার!

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট
৪:৩৪ অপরাহ্ণ, জুন ৩, ২০১৮

বস্তুজগতে কথিত ভুতুড়ে নিষ্ক্রিয় নিউট্রিনো কণার অস্তিত্বের পক্ষে এ যাবতকালের সবচেয়ে দৃঢ় প্রমাণ উতপাদন করতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা। অতি সুক্ষ্ম এই কণা সাধারণ যে কোনো বস্তুকে ভেদ করে যেতে পারে, বস্তুর মধ্য দিয়ে অনায়াসে চলাচল করতে পারে। কিন্তু বস্তুর ওপর কোনো ধরনের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ছাড়াই তা করতে পারে।

কয়েক দশক আগে সর্বপ্রথম এই ধরনের কণার অস্তিত্বের বিষয়ে ইঙ্গিত আসে বিজ্ঞানী মহল থেকে। কিন্তু বেশ কয়েক বছর গবেষণার পরও বিজ্ঞনীরা এর অস্তিত্বের স্বপক্ষে কোনো মূর্ত প্রমাণ হাজির করতে পারেননি।এমনকি এমনকি একই বিষয়ের ভিন্ন পদ্ধতির একাধিক গবেষণায় পরস্পর বিপরীত ফলাফল পাওয়া গেছে।

তবে এবার নতুন গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো নিষ্ক্রিয় নিউট্রিনো কণার অস্তিত্বের স্বপক্ষে দৃঢ় প্রমাণ পেলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবশ্য যদিও অন্যান্য গবেষণায় প্রমাণ হয়ে চলেছে নিষ্ক্রিয় নিউট্রিনো কণার কোনো অস্তিত্ব নেই।

তার মানে মহাবিশ্বে রহস্যময় এমন কিছু একটা ঘটে চলেছে যা্র ফলে মানবজাতির পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ক সবচেয়ে উন্নততর প্রযুক্তিতে করা গবেষণাগুলোর ফলাফলও পরস্পরের সঙ্গে বিপরীতমুখী ফল দিচ্ছে!

১৯৯০-র দশকের মাঝামাঝি সময়ে সর্বপ্রথম যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর লস অ্যালামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে Liquid Scintillator Neutrino Detector (LSND) পরীক্ষণে সর্বপ্রথম রহস্যময় পদার্থ কণা নিষ্ক্রিয় নিউট্রিনো কণার অস্তিত্ব ধরা পড়ে। যা সাধারণ যে কোনো বস্তুর মধ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ছাড়াই চলাচল করতে পারে। কিন্তু বিষয়টি পুনরায় আর গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। পরে আর কোনো গবেষণায়ই প্রকৃতিতে এর অস্তিত্ব ধরা পড়েনি।

এবার শিকাগোর কাছে অবস্থিত ফার্মি ন্যাশনাল অ্যাকসিলারেটর ল্যাবরেটরিতে (Fermilab) মিনি বুন (MiniBooNE) পদ্ধতির একটি গবেষণায় ফের নিষ্ক্রিয় নিউট্রিনো কণার অস্তিত্ব ধরা পড়ার কথা বলা হয়েছে। arXiv নামক ই-প্রিন্ট জার্নালে ওই গবেষণার ফলাফল নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

এই ভুতুড়ে কণাটি ছাড়া আর সব কণার অস্তিত্বই মানুষের উপলব্ধিতে ধরা দেয়। যেমন, কোয়ার্ক এবং ইলেকট্রন। এগুলো হলো পরমাণুর গাঠনিক উপাদান। আমাদের স্পর্শের যোগ্য সব বস্তুই তৈরি হয় পরমাণু দিয়ে। অন্যগুলো, যেমন- তিনটি পরিচিত নিউট্রিনো একটু আরো বেশি বিমূর্ত। এগুলো হলো উচ্চ শক্তির কণা যা মহাবিশ্বের মধ্যদিয়ে স্রোতের মতো বয়ে চলেছে। এবং অন্য কোনো বস্তুর সঙ্গে তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া করছে না। সূর্য থেকে প্রতি সেকেন্ডে থেকে শত-হাজার কোটি নিউট্রিনো বের হয়ে আপনার আঙ্গুলের ডগা ভেদ করে চলাচল করছে। কিন্তু আপনার দেহের কণাগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বা আদান-প্রদানই হচ্ছে না।

তবে ইলেকট্রন, মুওন এবং ট্যো (Electron, muon and tau) নামের এই তিনটি কণা দুর্বল বল এবং মধ্যাকর্ষণ শক্তির মধ্যস্থতায় বস্তুর সঙ্গে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া করে বটে। তাদের অ্যান্টিমেটার যমজদ্বয়ও বস্তুর সঙ্গে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া করে।

তার মানে বিশেষায়িত ডিটেক্টর দিয়ে এদের অস্তিত্ব ধরা পড়বে সহজেই, দেখা যাবে সূর্য থেকে নেমে আসছে তাদের স্রোত। শুধু সূর্য নয় মানবীয় কোনো উতস থেকেও এগুলো আসতে পারে। যেমন পারমাণবিক প্রতিক্রিয়া।

কিন্তু LSND গবেষণায়ই প্রথম দৃঢ় প্রমাণ পাওয়া গেল মানুষেরা যেসবের অস্তিত্ব ধরতে পারে সেগুলোই সব না। এর বাইরেও বস্তুগজতে রহস্যময় কিছুর অস্তিত্ব আছে। আর এবার এই MiniBooNE পরীক্ষায়ও ধরা পড়ল ভুতুড়ে সেই নিষ্ক্রিয় নিউট্রিনোর অস্তিত্ব।

তবে এই দুটি পরীক্ষণ পদ্ধতি ছাড়াও পৃথিবীতে নিউট্রিনো কণা পর্যবেক্ষণের জন্য আরো কিছু পদ্ধতি আছে। যেগুলো বিজ্ঞানের বর্তমান স্ট্যান্ডার্ড মডেলের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। যেমন সুইজারল্যান্ডে পরিচালিত মাটির নিচে Emulsion-Tracking Apparatus সহ Oscillation Project পরীক্ষণে নিষ্ক্রিয় নিউট্রিনো কণার অস্তিত্ব ধরা পড়েনি।

২০১৭ সালে অ্যান্টার্কাটিকার IceCube Neutrino Observatory-তে চালানো গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা ঘোষণা দেন নিষ্ক্রিয় নিউট্রিনো বলে কিছু নেই।

নিষ্ক্রিয় নিউট্রিনোর ধারণা এখনো বিজ্ঞানীরা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেননি। তবে বিষয়টি গ্রহণযোগ্য কোনো বিজ্ঞানও হতে পারেনি এখনো।

বিজ্ঞানীদের মতে, LSND and MiniBooNE পরীক্ষণের নিউট্রিনো কণাগুলে যেভাবে ধরা দেয় তা হয়তো তারা বিজ্ঞানীরা নিজেরাই এখনো পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেননি। কিন্তু পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, বিজ্ঞানীদের হয়তো সামনের দিনে ব্যাখ্যা দিতে হতে পারে কেন Fermilab and Los Alamos Lab এর ওই দুটি পরীক্ষণপদ্ধতি ছাড়া অন্য কোনো পদ্ধতিতে নিষ্ক্রিয় নিউট্রিনো কণার অস্তিত্ব ধরা পড়ছে না। আর যদি তাই হয় তাহলে তাদেরকে মহাবিশ্বসম্পর্কিত বিদ্যমান বোঝা-পড়ার পুরোটাই পুনরায় পর্যালোচনা করতে হবে। এবং বিদ্যমান স্ট্যান্ডার্ড মডেলের সঙ্গে হয়তো নতুন জ্ঞান যোগ করতে হবে।

টাইমস স্পেশাল

 

আপনার মতামত লিখুন :

 
এই বিভাগের অারও সংবাদ
ভারপ্রাপ্ত-সম্পাদকঃ শাকিব বিপ্লব
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮ | বরিশালটাইমস.কম
বরিশালটাইমস মিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।
ইসরাফিল ভিলা (তৃতীয় তলা), ফলপট্টি রোড, বরিশাল ৮২০০।
ফোন: +৮৮০২৪৭৮৮৩০৫৪৫, মোবাইল: ০১৮৭৬৮৩৪৭৫৪
ই-মেইল: [email protected], [email protected]
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮
টপ
  আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে শ্রমিক সংগঠনের নির্বাচন  বরিশালে বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যা: ভাইসহ ডায়াগনস্টিক মালিকের বিরুদ্ধে মামলা  পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া গেল ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা  পিরোজপুরের সবচেয়ে বড় গরু ‘লাল বাদশা’  আওয়ামী লীগ সরকার খুন-গুমের রাজনীতি করছে: চরমোনাই পির  গৌরনদীতে মাদক সম্রাট হীরা মাঝি গ্রেপ্তার  ব্যাংকে ঢুকে চোরের তাণ্ডব  বরিশাল/ সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন  পিরোজপুর/ বাসের ধাক্কায় ২ গরু ব্যবসায়ী নিহত  ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড পেলেন বরিশালের সন্তান ফায়েজ বেলাল