১৮ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

ভোলায় থানায় গুলিবিদ্ধ সেই এএসআইকে ঢাকায় রেফার

বরিশালটাইমস, ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮:৫৩ অপরাহ্ণ, ২৫ জুন ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা নৌ-থানার মধ্যে নিজের পিস্তল থেকে বের হওয়া গুলিতে আহত হওয়া পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. মোক্তার হোসেন মিঞাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে (সিপিএইচ) পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) দুপুরে বরিশাল শেরেবাংলা (শেবাচিম) হাসপাতাল থেকে তাকে ঢাকা রেফার করা হয়েছে। নৌ-পুলিশ বরিশাল অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. কাফিল উদ্দিন বরিশালটাইমসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, বরিশাল শেরেবাংলা হাসপাতালে মোক্তার হোসেনের সফল অস্ত্রোপচার হলেও তিনি শঙ্কামুক্ত নন। সেজন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তাকে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।তিনি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে চিকিৎসাধীন থাকবেন। তার সেবাযত্ন করার জন্য পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি তার আত্মীয়স্বজনরা আছেন। নৌ-থানার ওসি বিদ্যুৎ কুমার বড়ুয়া এবং দুই পুলিশ কনস্টেবল এ কয়েকদিন শেরেবাংলা হাসপাতালে তার সেবাযত্ন করেছিলেন। দুপুরের দিকে তারা ইলিশা নৌ-থানায় চলে গেছে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান আমি। অপর দু’জনের একজন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এবং আরেকজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিশনাল এসপি)।আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও, তাতে কিছুটা বিলম্ব হবে। কারণ, যিনি ভিক্টিম, তিনি এখনো অসুস্থ। সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব না। ভিক্টিমের বক্তব্য ব্যতীত তদন্ত প্রতিবেদন অসম্পূর্ণ থাকে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে কাফিল উদ্দিন আরও বলেন, যেহেতু আমি তদন্ত কমিটির প্রধান, সেহেতু আমি আজ (মঙ্গলবার) সকালে ঘটনাস্থল পূর্ব ইলিশা নৌ-থানায় গিয়েছি। দুপুর পর্যন্ত আমি থানায় ছিলাম। এখন পর্যন্ত যে বিষয়টি খোঁজে পেলাম, তাতে এটি মিস ফায়ার বলেই প্রতিমান হয়।

গণমাধ্যমের প্রতি অসন্তুষ্টি জানিয়ে তিনি বলেন, বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে মোক্তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগে থানার মধ্যে হইচই ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কোনো গণমাধ্যমে লেখা হয়েছে ওসির সঙ্গে মনোমালিন্যর জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেটি একেবারেই অসত্য এবং বিভ্রান্তিকর।

মিস ফায়ার একটি স্বাভাবিক বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকক্ষেত্রে অস্ত্রের সেফটি লক করা থাকে না। এটি একটি বড় ভুল। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীতে মাঝেমধ্যে এরকম মিস ফায়ারের ঘটনা ঘটে। এটির কারণে অনেকক্ষেত্রে যার অস্ত্র থেকে মিস ফায়ার হয়, তাকে জবাবদিহিতা দিতে হয়।

মোক্তার হোসেন মিঞার ঘটনাটি একটি মিস ফায়ার ব্যতীত অন্য কিছু না। একজন ওসির সঙ্গে যদি একজন এসআই অথবা এএসআইয়ের মনোমালিন্যও থাকে, সেক্ষেত্রে কি ওসি গুলি করতে পারে? ওসি কি এতটাই মানসিক ভারসাম্যহীন? এটি একেবারেই একটি ভ্রান্ত ধারণা।

সংশ্লিষ্ট থানার ওসি এ ঘটনায় গণমাধ্যমে কোনো বক্তব্য না দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, মোক্তার হোসেন গুলিবিদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওসিসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা তাকে নিয়ে ভোলা-বরিশাল হাসপাতালে দৌড়াদৌড়িতে ছিল। তখন কি গণমাধ্যমে কথা বলার মতো অবস্থা ওসির ছিল? এছাড়াও এসব সেনসিটিভ ঘটনার বিষয়ে গণমাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই বক্তব্য দিয়ে থাকেন।

উল্লেখ, গত রোববার (২৩ জুন) বিকেল ৪টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা নৌ-থানার মধ্যে নিজের নামে ইস্যু করা তারাশ পিস্তল থেকে গুলিবিদ্ধ হন ওই থানায় কর্মরত পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোক্তার হোসেন মিঞা। তিনি দুইবছর ধরে ওই থানায় কর্মরত।

তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই। ট্রিগারে অসাবধানতাবশত চাপ লেগে তার পিস্তল থেকে একটি গুলি বের হয়ে পেটের সামনে দিয়ে ঢুকে, পেছন দিয়ে বের হয়। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে ভোলা ও পরে বরিশাল শেরেবাংলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

গতকাল শেবাচিম হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার শেষ হয়। এরপরও তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যদিও গুঞ্জন ছিল ওসির সঙ্গে মোক্তার হোসেনের মনোমালিন্য ছিল। যাঁর কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

73 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন