১৯শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

ভোলা হাসপাতালে কান্নার রোল

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১১:১৯ অপরাহ্ণ, ১৪ মে ২০১৭

ভোলায় দৌলতখান উপজেলায় পুকুরে গোসল করতে গিয়ে বিদ্যুতের ছেড়া তাদের সাথে জড়িয়ে একই পরিাবরের মা ও ছেলেসহ ৪জন মর্মান্তিকভাবে  মারা গেছেন। রোববার (১৪ মে) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার জয়নগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় নিহতরা হলেন- শাজাহানের স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৩৫), তার ছেলে রহমতউল্লাহ (১২), আবদুল মালেকের মেয়ে সুইটি (১৩) এবং একই বাড়ির ফয়েজ (১৮)। তাদের মধ্যে সুইটি স্থানীয় একটি মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।

এদিকে ঘটনার পর পরই পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতের স্বজনদের স্বান্তনা দিতে ছুটে যান যান শত শত মানুষ। পল্লী বিদ্যুতের ছেড়ের সাথে জড়িয়ে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটেছে বলে এলাকাবাসী জানান। তবে বাড়ির লোকজান জানিয়েছেন- কখন কিভাবে তারটি ছিরে পুকুরের সাথে মিশে গেছে তার কেউ টের পায়নি। একে অপরকে বাঁচাতে গিয়ে এমন দুর্ঘটনায় ঘটেছে বলে বাড়ির লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে।

নিহতদের মধ্যে ঘটনাস্থলেই একজন এবং বাকিদের হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যররত চিকিৎসক মৃত্যু ঘোষণা করা হয়। ভোলার সিভিল সার্জ ডা. রথীন্দ্রনাথ মজুমদার হাসপাতালে তিনজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। স্থানীয়রা জানায়, বিকালের দৌলতখানের উত্তর জয়নগর গ্রামের মুন্সি বেপারি বাড়ির ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সুইটি এবং একই বাড়ির তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র রহমতউল্লাহ পুকুরে গোসল করতে নামে।

এ সময় আগে থেকে ওই পুকুরের ওপর বিদ্যুতের একটি তার ছেড়া অবস্থায় ছিলো। যখন তারা গোসল করতে নামের ঠিক তখনি বিদ্যুতাড়িত হন তারা। তারা ডাকচিৎকার দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করেন। বিষয়টি তাৎক্ষণাত দেখতে পেয়ে রহমানের মা সুফিয়া ছেলে বাঁচাতে গিয়ে পুকুরে ঝাপ দেন। কিন্তু তিনিও বিদ্যুৎতাড়িত হন। তাদের তিনজনের করুণ অবস্থা এবং পানিতে তলিয়ে যেতে দেখতে প্রতিবেশী ফয়েজ এগিয়ে এলে সেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাড়ির লোকজন কাঠি দিয়ে তার সরিয়ে ফেলে। পরে আহতদের উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নেয়ার পর দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। তবে ঘটনাস্থলে একজন নিহত হয়। দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনায়েত হোসেন বলেন, নিহতদের পরিবার থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিাবারের ২জনসহ ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় যেন শোকে স্তব্ধ জয়নগর গ্রাম। সেখানে নিহত দেখতে ছুটে যান স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকাবাসী।

নিহতদের স্বজনদের কান্নায় পুলো এলাকা ভারী হয়ে উঠে। ছেলে হারিয়ে মা, সন্তান হারিয়ে বাবা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তাদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠে পুরো এলাকার পরিবেশ। বেপারী বাড়িতে বার বার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন নিহতের স্বজনরা। তাদের স্বান্তনা দেয়ার চেষ্টা করছেন কেউ কেউ। স্মরণকালের এ মর্মান্তিক ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ।”

16 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন