২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

মাতৃত্বকালীন ছুটি চাওয়ায় গৌরনদীর জেসমিন চাকরিচ্যুত!

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০২:২৮ অপরাহ্ণ, ৩১ অক্টোবর ২০১৭

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) আওতাধীন দরিদ্র নারীদের জন্য পল্লী কর্মসংস্থান সহায়তা প্রকল্পের (ইরেসপো) মাঠ সংগঠক জেসমিন সুলতানাকে গর্ভবতীকালীন ছুটি চাওয়ায় চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ৯ অক্টোবর জেসমিন কর্মস্থলে গেলে তাকে চাকরিচ্যুতির চিঠি হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর গ্রামের সবুজ হোসেনের স্ত্রী।

জেসমিন সুলতানা বরিশালটাইমসকে জানিয়েছেন, তিনি ২০১৩ সালের ৩ এপ্রিল ইরেসপো প্রকল্পের মাঠ সংগঠক পদে যোগদান করেন। এরপর ২০১৫ সালে তার বিয়ে হয়। চলতি বছরে অন্তঃসত্ত্বা হলে নভেম্বরে তার সন্তান প্রসবের কথা জানিয়েছেন চিকিৎসক।

শারীরিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ও চিকিৎসকের পরামর্শে ২০ আগস্ট উপজেলা ভারপ্রাপ্ত পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিনের কাছে মাতৃত্বকালীন ছুটির বিষয়ে আবেদন করেন সুলতানা।

এতে মঈন উদ্দিন অপারগতা প্রকাশ করে উল্টো তাকে চাকরি ছেড়ে দিতে বলেন। এরপর তাকে চাকরিচ্যুত করার জন্য সুপারিশ করে গত ২১ আগস্ট বরিশালে উপ-পরিচালক বরাবর চিঠিও দেন তিনি।

উপ-পরিচালক ওই চিঠি প্রকল্প পরিচালকের কাছে পাঠান। এরপর গত ৯ অক্টোবর জেসমিন সুলতানা অসুস্থ অবস্থায় নিজ কর্মস্থলে গেলে তাকে চাকরিচ্যুতির চিঠি ধরিয়ে দেওয়া হয়।

পরিচালক রাসেদুল আলমের ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, কাজে অদক্ষ ও দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং গাফিলতির কারণে নিয়োগপত্রের শর্ত অনুযায়ী এক মাসের বেতন প্রদান করে জেসমিন সুলতানাকে নিয়োগ থেকে অপসারণ করা হলো।

তবে অন্তঃসত্ত্বা জেসমিন বরিশালটাইমসকে আরও জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। মূলত মাতৃত্বকালীন ছুটি চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

গর্ভবতীকালীন কর্মজীবী নারীদের ছুটির বিধিতে বলা হয়েছে, অন্তঃসত্ত্বা নারী যখন ছুটির আবেদন করবেন, তখন পিএলআর-১৯৫৯ অনুযায়ী তিনি ৬ মাস এই সুবিধা পাবেন। এই বিধি সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি কর্মজীবী সকল নারীদের জন্য প্রযোজ্য।

জানতে চাইলে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন বরিশালটাইমসকে বলেন, ‘জেসমিনকে চাকরিচ্যুত করা হোক, এটা আমিও চাইনি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে আমার কিছুই করার নেই।’

এ ব্যাপারে বিআরডিবি’র বরিশাল কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবদুল কাইয়ুম বরিশালটাইমসকে বলেন, ‘প্রকল্প পরিচালক স্থানীয় কর্মকর্তার সুপারিশের ভিত্তিতেই জেসমিন সুলতানাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।’

তিনি স্বীকার করেন, ‘এভাবে বিনা নোটিশে তাকে চাকরিচ্যুত করা ঠিক হয়নি। যদি তিনি কর্মক্ষেত্রে গাফিলতি করেও থাকেন, তাকে একবার হলেও সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।’

এ ব্যাপারে ইরেসপোর প্রকল্প পরিচালক রাশেদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।’’

13 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন