৪ মিনিট আগের আপডেট সকাল ১১:৫৫ ; রবিবার ; অক্টোবর ২, ২০২২
EN Download App
Youtube google+ twitter facebook
×

রাজনৈতিক চাপে বরিশাল পুলিশ দিশেহারা!

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট
১২:৫৬ অপরাহ্ণ, জুন ৭, ২০১৬

বরিশাল: বরিশাল পুলিশ প্রশাসনে ‘চেইন অব কমান্ড’ ভেঙ্গে পড়েছে বলে কথা উঠেছে। ক্ষমতাসীন দলের মধ্যেকার বিদ্যমান দুটি গ্রুপ  যে যার মত করে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের চাপের মুখে ফেলে চলতে বাধ্য করায় অনেক ক্ষেত্রে শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত উপেক্ষিত হয়ে যায়। বিশেষ করে মেট্রোপলিটন এলাকার থানা গুলোতে মামলা নিয়ে আ’লীগের দুটি গ্রুপ যেভাবে তদবির চালায় তাতে অনেক দাগি আসামিকেও শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার অজান্তে ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। আবার কখনও মামলা গ্রহন অথবা বিরত থাকা নিয়ে শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে উভয় পক্ষ চাপের মুখে ফেলে দিশেহারা করে ফেলে। এমতাবস্থায় বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকার কোতয়ালি মডেল থানাসহ অপরাপর আরও ৪ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ মাঠপর্যায়ের কর্তারা কোন পক্ষ অবলম্বন করলেই শুরু হয়ে যায় শাস্তি চেয়ে পুলিশ হেডকোয়াটারে নালিশ।

 

এমনকি মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরিশালে দায়িত্বভার নিয়ার পরই তাকেও চেপে ধরা হয়েছে দুকুল থেকে। তাছাড়া তার অনেক কমান্ড থানা কর্মকর্তারা বাস্তবায়ন করতে পারছে না সুপারিশের তীর্যক ক্ষমতাসীন দলের অবস্থানগত কারনে। ফলে মান সম্মান রক্ষায় তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে আর বরিশালে থাকতে রাজি নয় মেট্রো কমিশনার লুৎফর রহমান মন্ডল। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বদলী আদেশ এসেছে। প্রশাসনের মধ্যেকার একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।’
সূত্রের ভাষ্য- অনুযায়ী চলতি মাসে প্রথম ভাগে পুলিশ কমিশনার ঢাকা পুলিশ হেডকোয়াটারে তার বরিশাল ত্যাগের স্বদিচ্ছা জানিয়ে আবেদন করেন। কারণ হিসেবে রাজনৈতিক বিষয়টি এড়িয়ে ব্যক্তিগত কারণ সেখানে উল্লেখ করেন। গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর যোগদানের মাত্র ৯ মাসের মাথায় সৎ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া লুৎফর রহমান মন্ডল বরিশাল ছাড়ছেন। নিশ্চিত হওয়া গেছে তার ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২দিন পূর্বে পুলিশ হেডকোয়াটার থেকে তার বদলির অদেশ আসেছে। তাকে ঢাকা পুলিশ চক্ষু হাসাপাতালের পরিচালক হিসেবে দায়িত্বভার দেওয়া হয়েছে। ডিআইজি পদমর্যাদার এই পুলিশ কর্মকর্তা সম্ভাব্য আজ অথবা আগামীকাল বরিশাল ছাড়ছেন। তার স্থানে আসছেন রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি রুহুল আমিন। এর আগে মেট্রো পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে অভিযুক্ত হয়ে বরিশাল ছাড়লে তার স্থানে লুৎফর রহমান মন্ডলকে দায়িত্বভার দেওয়া হয়। সূত্র জানায়, সৎ এই পুলিশ কর্মকর্তা কর্মস্থলে যোগ দিয়েই মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রশাসনকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নেন।

 

কারন বিভিন্ন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এবং একই স্থানে মেয়াদ উত্তীর্ণ পরেও বহাল থাকার পাশাপাশি সহযোগী মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই থেকে পুলিশ সদস্য পর্যন্ত দুর্নীতিতে জড়িয়ে বিতর্ক তৈরি করে। কিন্তু মেট্রোপুলিশ কমিশনারের এই উদ্যোগ নিতে গিয়ে প্রথমে হোচট খান একজন মন্ত্রীর সুপারিশ আসায়। ওই সূত্রটির দাবি প্রয়াত আ’লীগ নেতা ও সদর আসনের সংসদ শওকত হোসেন হিরন তার ইচ্ছা অনুযায়ী বরিশাল মেট্রোপুলিশের বিভিন্ন পদে আস্থাভাজন লোকদের বসিয়ে গেছেন। তার মৃত্যুর পর মহানগর আ’লীগের নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধে কেন্দ্রীয় আ’লীগ নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর পুত্র সাদিক আব্দুল্লাহ বিরোধী প্রয়াত নেতা হিরনের স্ত্রী সদর আসনের বর্তমান সংসদ জেবুন্নেছা আফরোজকে সহায়তা দিচ্ছে এইমর্মে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। দলঘনিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, প্রভাবশালী একজন মন্ত্রী এক্ষেত্রে জেবুন্নেছাকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে থানা পুলিশ কর্মকর্তাদের রদ বদলে তিনি বিরোধী অবস্থান নেন। একদিকে প্রভাবশালী মন্ত্রী এবং আইনশৃংখলা বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি হওয়ায় পুলিশের শীর্ষ কর্তা লুৎফর রহমান মন্ডল তার অনেক পদক্ষেপ বাস্তবায়নে অন্তরায় হয়ে দারায়।

 

এমনকি একই থানায় দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে থাকা পুলিশি নিয়ম ভঙ্গ করেও দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ায় কোতয়ালী মডেল থানার সাবেক ওসি শাখওয়াত হোসেনকে নিয়ে বিতর্ক উঠলে তাকে বদলির উদ্যোগ নেন মেট্রো কমিশনার। ওই সূত্রটির দাবি এতে প্রভাবশালী মন্ত্রী ক্ষুদ্ব হন এবং সেই থেকে তার সাথে মত বিরোধ তৈরি হয়। অবশেষে শাখাওয়াত হোসেনকে ৩ বছরের অধিককাল পর তাকে বদলি করা হলেও বরিশাল ডিবি পুলিশের ওসি হিসেবে রাখতে ওই মন্ত্রী পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তাকে বাধ্য করেন। মন্ত্রী ও সদর আসনের ক্ষমতাসীন দলীয় সংসদের কথায় বা দিক নির্দেশনায় চলতে বাধ্য হয়ে পরেন। অপরদিকে হাসানাত অংশ অর্থাৎ নেতৃত্বের অগ্রভাগে থাকা সাদিক আব্দুল্লাহর অনুসারিরা মেট্রোপুলিশ কমিশনারের নিরপক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সার্বিক এই পরিস্থিতিতে মেট্রোপুলিশ কমিশনারের সততার কুঠিরে আঘাত হানে। তদুপরি তিনি আরো বেশ কয়েকটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অদল বদল করে দায়িত্ব দেন। এরপরই তিনি রাজনৈতিক তিক্ততা থেকে নিজেকে নিরপক্ষ রাখতে বরিশালের দায়িত্বে না থাকার সিদ্ধান্ত নেন। জানা গেছে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে তিনি বরিশাল ছাড়ার ইচ্ছা কথা জানিয়ে ঢাকা হেডকোয়াটারে একটি আবেদন রাখেন।

 

এরই মধ্যে পলিটেকনিক কলেজ ছাত্র নেতা রেজাউল করিম রেজা হত্যা মামলা নিয়ে ক্ষমতাসীন দল রাজনীতির ঘোরপেচে পরস্পর দুুটি গ্র“প অবস্থান নিয়ে শীর্ষ এই পুলিশ কর্মকর্তাকে তাদের নির্দেশনায় মামলার আসামীদের নাম তালিকা ভুক্তের তাগিদ দেন। এমনকি তিন দফা মামলার এজাহার অদল বদল করতে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে একটি পক্ষ চাপে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এক্ষেত্রে মেট্রোপুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাকে অনেকটা অসহায় করে ফেলে। পরিস্থিতি জটিল রুপ নেওয়ায় এবং মামলায় প্রকৃত আসামির নাম অর্ন্তভুক্ত এবং ধরা না ধরা নিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তাসহ থানা পুলিশ ঘোলক ধাধার মধ্যে পরে যায়। অপর একটি সূত্র জানায়, রেজা হত্যাকান্ড কিভাবে সংগঠিত হয়েছে এবং কারা এর সাথে জড়িত তা পুলিশের কাছে পরিস্কার হয়ে উঠলেও রাজনৈতিক কারনে পুলিশ প্রশাসন নিজেদের মত অগ্রসর হতে পারছে না। পুলিশ কোন ভুমিকা নিলেই স্বার্থভঙ্গ গ্র“পটি মেট্রোপুলিশ কমিশনারকে অপর গ্রুপের সমর্থক বা সহায়ক হিসেবে অভিযোগ তুলে তাকে বিতর্কিত করে। এতে এই পুলিশ কর্মকর্তা তার সততার জায়গা থেকে নিজের বিবেকের কাছে দংশিত হন এবং লজ্জাবোধ করেন।

 

এমন ঘটনাও ঘটেছে শীর্ষ এই পুলিশ কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ের পুলিশকে দিয়েছে কোন নির্দেশনা, বিপরীতে রাজনৈতিক নেতা বা মন্ত্রী তা থামিয়ে দিয়ে উল্টো পথে চলতে বাধ্য করায় তার মর্যাদা ক্ষুন্ন করে। নোংরা রাজনীতির এই খেলার মধ্যে না থেকে ইজ্জত নিয়ে চলে যাওয়াটাই শ্রেয় মনে করেন পুলিশ কমিশনার লুৎফর রহমান মন্ডল। যদিও যোগদান পরবর্তী পুলিশ কর্মকর্তা বরিশাল থাকতে চাননা, এবং যেকোন সময় যাচ্ছেন তার রব উচ্চারিত হচ্ছিল পুলিশ প্রশাসনে। অবশেষে ঘটলোই তাই। পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র নিশ্চিত করেছে গত দুইদিন পূর্বে তার বদলির আদেশ বরিশালে এসে পৌছেছে। সম্ভাব্য আজ অথবা কাল আনুষ্ঠানিকতা শেষে বরিশাল পাট চুকিয়ে তিনি নতুন কর্মস্থলের দিকে ধাবিত হবেন। লুৎফর রহমান মন্ডল এ তথ্য স্বিকার করে বলেছেন সরকারি চাকরি করতে উচ্চ মহলের ইচ্ছায় তাকে যেকোন স্থানে দায়িত্ব পালনে তিনি বাধ্য।

 

তবে বরিশাল প্রসঙ্গে যে তিক্ততা তথা পুলিশ প্রশাসনে ঘুরপাক খাচ্ছে তা নিয়ে কোন মন্তব্য করতে নারাজ। বরং বিষয়টি এড়িয়ে যান কৌশলী ভঙ্গিমায়, শুধু বললেন বরিশালের ইলিশ বড়ই সুস্বাধু। কিন্তু ক্রয় ক্ষমতা অনেকেরই নেই। এই মন্তব্যের সাথে তিনি কিছু একটা তুলনা করে বোঝাতে চেয়েছেন তার ভিতরকার ক্ষোভ ও বেদনার কথা। জানা গেছে, রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি রুহুল আমিন নতুন দায়িত্ব নিতে বরিশালের পথে রওয়ানা হয়েছেন। শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার চলে যাওয়ার খবরে অনেক মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা বরিশাল ছাড়তে মনস্থির করেছেন বলে বেশ কয়েকজনের মন্তব্য পাওয়া গেছে। এমনকি লোভনীয় পদে রয়েছেন এমন কর্মকর্তারাও বরিশাল ত্যাগে ঢাকা তদবিরে নানামুখি চেষ্টা শুরু করেছেন।

খবর বিজ্ঞপ্তি, বরিশালের খবর

 

আপনার মতামত লিখুন :

 
ভারপ্রাপ্ত-সম্পাদকঃ শাকিব বিপ্লব
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮ | বরিশালটাইমস.কম
বরিশালটাইমস মিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।
ইসরাফিল ভিলা (তৃতীয় তলা), ফলপট্টি রোড, বরিশাল ৮২০০।
ফোন: +৮৮০২৪৭৮৮৩০৫৪৫, মোবাইল: ০১৮৭৬৮৩৪৭৫৪
ই-মেইল: [email protected], [email protected]
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮
টপ
  ইন্দোনেশিয়ায় ফুটবল মাঠে সংঘর্ষ, পদদলিত হয়ে নিহত ১২৯  ঘূর্ণিঝড়ে পূজামণ্ডপ লন্ডভন্ড, আহত ৫  জাতীয় পরিচয়পত্রে স্ত্রীকে বোন বানানো আনিসুর গ্রেপ্তার  সেপ্টেম্বরে সারাদেশে চার হাজার ৩২টি দুর্ঘটনায় ঝরেছে ৫৭৯ প্রাণ  পটুয়াখালীতে তদবিরের কথা বলে বাসায় আটকে গণধর্ষণ  দুলাভাইকে বিয়ের দাবিতে ৩ দিন ধরে স্কুলছাত্রীর অনশন  বাউফলে র‌্যাবের হাতে দুই ইয়াবা ব্যবসায়ী গ্রেফতার  নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত বাংলাদেশি চিকিৎসক  জমি দখল করে বাড়িঘর ভাঙচুর: ঝালকাঠিতে জেলা জজের বিরুদ্ধে মানববন্ধন  আগামী নির্বাচন হাসিনার অধীনেই, অস্তিত্ব রক্ষার জন্য অংশ নেবে বিএনপিও : আমু