১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

রাজাকাপুত্রকে সালাম দেওয়ায় ওসি ক্লোজড

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১১:০৫ অপরাহ্ণ, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৬

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুল হককে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার তাকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

কি কারণে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও পিরোজপুরের পুলিশ সুপার বলেছেন প্রশাসনিক কারণে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ গ্রহণের পর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে ও জিয়ানগর উপজেলা পরিষদের চেয়ার‌্যান মাসুদ সাঈদী। এ সময় ইন্দুরকানী থানার ওসি মাসুদের পাশে ছিলেন।

সম্মাননা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সাঈদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলার বাদীও ছিলেন। প্যারেডে সালামগ্রহণে মঞ্চে মাসুদ সাঈদীর পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন ইন্দুরকানী থানার ওসি মো. মিজানুল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বাচ্চু এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান।

এরপর মাসুদ সাঈদী তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস সম্বলিত একটি ছবি পোস্ট দেন। তার এই পোস্ট ও স্ট্যাটাস নিয়ে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। এর জের ধরেই ইন্দুরকানী থানার ওসিকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কুচকাওয়াজে মাসুদ সাঈদীর সম্মাননা দেয়ার বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জমান মৃধা বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। আমরা প্রতিবারের ন্যায় উপজেলা চেয়ারম্যানকে পতাকা উত্তোলন করতে দেইনি। এবং মুক্তিযোদ্ধা গ্যালারিতে বসতেও দেইনি। মাসুদ সাঈদী হঠাৎ এসে অনুষ্ঠানে পায়রা উড়িয়েছেন। তিনি পরিকল্পিতভাবেই এসব অনুষ্ঠান করেছেন।’ তবে ওসি প্রত্যাহার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

ওসি প্রত্যাহারের ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘ওসি সাহেবকে কেন প্রত্যাহার করা হয়েছে সে ব্যাপারে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। বিষয়টি এসপি সাহেব ডিল করেন, তিনিই ভাল বলতে পারবেন।’

পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মো. ওয়ালিদ হোসেন জানান, প্রশাসনিক কারণে ইন্দুরকানী থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

19 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন