১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

রাজাপুরে মুক্তিযোদ্ধার খুনিদের দায় স্বীকার

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০১:৪৬ পূর্বাহ্ণ, ২৭ নভেম্বর ২০১৬

ঝালকাঠির রাজাপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম হত্যা মামলায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন যুবলীগ নেতা শাহ আলম ও আওয়ামী লীগের নেতা মোস্তাফিজুর রহমান। গত বৃহস্পতিবার দেওয়া এ জবানবন্দিতে তাঁরা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

শাহ আলম রাজাপুরের সাতুরিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি। মোস্তাফিজুর রহমান ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) স্থানীয় সদস্য। এ দুজনসহ চারজন ২২ নভেম্বর ঝালকাঠির জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

পুলিশ জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজাপুর থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ আত্মসমর্পণ করা চার আসামি ও আগে গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে ওই দিনই পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। বিচারক রুবাইয়া আমিন তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে মোস্তাফিজুর ও শাহ আলম মুক্তিযোদ্ধা সালাম হত্যার কথা স্বীকার করেন। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদের আদালতে তোলা হয়।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মামলার ১ নম্বর আসামি শাহ আলম বলেন, ‘ঘটনার দিন আমি বকুলতলা গ্রামে ওই শিক্ষককে তাঁর বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখি। এরপর আমি তাঁকে সামান্য কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় দিই। পরে ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুরকে ফোন করে ঘটনাস্থলে আসতে বলি। তিনি এসে ওই শিক্ষককে আমতলা বাজারে নিয়ে যেতে বলেন। আমি তাঁকে সেখানে নিয়ে যাই।’

২ নম্বর আসামি মোস্তাফিজুর জবানবন্দিতে বলেন, ‘আমতলা বাজারে ওই শিক্ষককে আনার পর ঘটনা শুনে উপস্থিত লোকজন উত্তেজিত হয়। তারা তাঁকে মারধর করতে উদ্যত হয়। উত্তেজনা প্রশমনে আমি ওই শিক্ষককে সামান্য মারধর করে বাড়ি পাঠিয়ে দিই।’

ভান্ডারিয়া উপজেলার উত্তর শিয়ালকাঠি গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম ১৪ নভেম্বর ভোর সাড়ে চারটার দিকে ভান্ডারিয়া শহরে নিজ বাড়িতে মারা যান। পরিবার ও ওই শিক্ষিকার দাবি, মিথ্যা অভিযোগে মুক্তিযোদ্ধা সালামকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করে রাজাপুর থানায় হত্যা মামলা হয়।

রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর উল গীয়াস গতকাল শনিবার বলেন, ‘মামলার প্রধান দুই আসামি ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। ফলে মামলার তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ। এখন আমরা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছি। এই প্রতিবেদন পাওয়ার পরই আমরা মামলাটির অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করব।’

22 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন