২২শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

শবে বরাতের আগেই চড়ল মাংসের বাজার

বরিশালটাইমস, ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:০০ অপরাহ্ণ, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

শবে বরাতের আগেই চড়ল মাংসের বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: শবে বরাতকে সামনে রেখে ফের বেপরোয়া হয়ে যাচ্ছেন মাংস ব্যবসায়ীরা। দুই দিনের ব্যবধানে গরুর মাংসে কেজিতে ৫০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগিতে ৩০ টাকা দাম বেড়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর হজক্যাম্পের মুক্তিযোদ্ধা কাঁচাবাজার, কারওয়ান বাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে। বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা দরে। যা দুই দিন আগে ছিল ৭০০ থেকে ৭২০ টাকা। এর আগে রাজধানীর বেশ কয়েক জায়গায় গরুর মাংস ৬৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

গরুর মাংসের পাশাপাশি বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দামও। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা দরে। দুদিন আগে বিক্রি হয়েছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা দরে। তবে স্থিতিশীল আছে সোনালি মুরগির দাম। প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩১০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া অপরিবর্তিত রয়েছে খাসির দাম। বাজারে প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা কেজি দরে। ভাই ভাই গোস্ত বিতানের মালিক রফিক বলেন, শবে বরাতের জন্য মাংসের চাহিদা বেড়েছে। বিক্রিও বেশ ভালো।

পাইকাররা গরুর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। বেশি দামে গরু কিনতে হচ্ছে বলে মাংসের দামও বেড়েছে। দাম বাড়লেও ক্রেতার অভাব হচ্ছে না। শবে বরাতের দিন দেখবেন মানুষ সিরিয়াল ধরে গরুর মাংস নেবে। তখন দাম আরও বাড়তে পারে।দাম বৃদ্ধির প্রায় একই অজুহাত দেখান মুরগির দোকানি নাইম। তিনি বলেন, ঈদ হোক বা রমজান, শবে বরাত হোক- যখনই চাহিদা বেশি থাকে তখনই পাইকারি দাম বেড়ে যায়। আমাদের তো নিজস্ব খামার নেই। আমরা পাইকারদের কাছ থেকে কিনে এনে খুচরায় বিক্রি করি। বেশি দামে কিনে কম দামে তো বিক্রি করতে পারি না।

ক্রেতা সোহেল রানা বলেন, যে যেভাবে পারছে দাম বাড়িয়ে রাখছে। আমরা সাধারণ মানুষ কী করব? ব্যবসায়ীদের কথা এই দামে নিতে পারলে নিন, না হলে যান। এখন খেয়ে তো বাঁচতে হবে। এ জন্য বাধ্য হয়ে কিনতে হচ্ছে। যেখানে চাহিদা দুই কেজি সেখানে এক কেজি কিনছি। মাংস খাওয়াও কমিয়ে দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, সরকার যদি সঠিকভাবে বাজার মনিটরিং করত তা হলে দাম নাগালের মধ্যেই থাকত। ভোক্তা অধিকার মাঝে মাঝে বাজারে অভিযান চালালেও সেটা কোনো কাজে দেয় না। কারণ তারা অভিযান শেষ করে গেলে আবার সেই আগের দামেই জিনিস বিক্রি করা হয়।

আমদানির ঘোষণার পর থেকে বাজারে কমতে শুরু করেছে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম। কয়েক দিন আগে যে পেঁয়াজ ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে বৃহস্পতিবার সেটা কমে ১১০ টাকায় নেমেছে। তবে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।

কেজিতে ২ টাকার মতো কমেছে চালের দাম। বাজারে প্রতি কেজি সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭৫ টাকায়, মাঝারি বা পাইজম জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় এবং মোটা বা স্বর্ণা চাল প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চালের দাম কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে আদা ও ময়দার দাম। বাজারে প্রতি কেজি প্যাকেট আটা বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায় এবং ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়।

সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার, কার্যকর হবে মার্চের এক তারিখ থেকে। সপ্তাহের ব্যবধানে সয়াবিন তেলের দাম স্থীতিশীল রয়েছে। খোলা সয়াবিন তেল লিটারে বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা, বোতল বিক্রি হচ্ছে ১৬৮ থেকে ১৭২ টাকায় এবং পামওয়েল সুপার বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায়।

বাজারে আলু, মসুর ডাল, ছোলার দামে তেমন একটা পরিবর্তন না হলেও বেড়েছে অ্যাংকর ডালের দাম। প্রতি কেজি অ্যাংকর বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়।

5 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন