২২শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

শালিস বৈঠকে আ’লীগ সভাপতির সামনেই হামলা, মেম্বারসহ আহত ৩

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ, ১৫ জুলাই ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:: জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বরিশালের উজিরপুরে শালিস বৈঠকে হামলা চালিয়ে ২ জনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে প্রতিপক্ষরা। এ সময় হামলা প্রতিরোধ করতে গিয়ে শালিসকারী এক ইউপি সদস্যও গুরুত্বর আহত হয়েছেন। আহতরা সকলে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বড়াকোঠা বি.কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি কক্ষে আয়োজিত ওই শালিস বৈঠকে খোদ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির সামনেই এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে উজিরপুর মডেল থানায় পৃথক পৃথক দুইটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বড়াকোঠা গ্রামের হারুন মোল্লা গং ও হেলাল উদ্দিন গংদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। সেই বিরোধ নিরসনে উভয় পক্ষকে সম্মতিতে ঘটনার দিন সকাল ৯টায় বড়াকোঠা বি.কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের লাইব্রেরীতে এক শালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ওই বৈঠকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস.এম জামাল হোসেন, বড়াকোঠা ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মোঃ আলম হাওলাদার, ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন মৃধা, স্থানীয় খতিয়ান কবির, আওয়ামী লীগ নেতা সান্টু হাওলাদারসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

শালিস চলাকালীন হঠাৎ বেলা ১১ টার দিকে হারুন মোল্লা গংরা দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষ হেলাল গংদের ওপর হামলা চালিয়ে আলামিন হাওলাদার (২৮) ও মাহিম বেপারী (২২) নামে দুই জনকে গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম হয়। এ সময় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন মৃধা সংঘর্ষ থামাতে গেলে তিনিও হারুন গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুত্বর আহত হন। পরে স্থানীয়দের সহযোগীতায় অন্যান্য শালিসকারীরা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এদিকে হামলার ঘটনায় শালিসকারী আহত ইউপি সদস্য ফারুক মৃধা ও মাহিম বেপারী বাদী হয়ে পৃথক পৃথকভাবে উজিরপুর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এতে হারুন মোল্লাসহ পাঁচ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস.এম জামাল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত ও অপ্রত্যাশিত। যারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা উচিত।

উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল আহসান বরিশালটাইমসকে জানান, এ ঘটনায় পৃথক দুটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রন্তুতি চলছে।

5 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন