১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

শিক্ষকের গলায় জুতার মালা: সেই চেয়ারম্যান সহযোগীসহ কারাগারে

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৭:১২ অপরাহ্ণ, ০৫ জুন ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:: বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের মাদ্রাসাশিক্ষককে জুতার মালা পরিয়ে পৈশাচিক নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলা ডিবি পুলিশের একটি টিম তাকে বৃহস্পতিবার রাতে পার্শ্ববর্তী মুলাদী উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করে। একই সাথে স্থানীয় দড়িচর খাজুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তফা রাঢ়ীর ক্যাডার হিসেবে পরিচিত সাবেক মেম্বর সাত্তার সিকদারকেও গ্রেপ্তারে সফলতা এসেছে। শুক্রবার সকালে তাদের দুজনকে শিক্ষক নিপিড়নের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়ে মেহেন্দিগঞ্জ থানা পুলিশ। আলোচিত এই ঘটনায় চেয়ারম্যানসহ এনিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই অভিযোগে বুধবার সকালে চেয়ারম্যানের আরেক সহযোগী বজলু আকনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে চেয়ারম্যান মোস্তফা রাঢীসহ ৯ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি মামলা করেন লাঞ্ছিত শিক্ষক শহীদুল ইসলাম ওরফে আলাউদ্দিন হুজুর।

উল্লেখ্য, মেহেন্দিগঞ্জে দড়িচর খাজুরিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে শহীদুল ইসলাম আলাউদ্দিন নামের শিক্ষককে সালিশ বিচারের মুখোমুখি করেন চেয়ারম্যান মোস্তফা রাঢী। এতে দোষী সাব্যস্ত করে ৫০ হাজার টাকা জরিমনা করা হলে শিক্ষক তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তখন চেয়ারম্যান ও তার ক্যাডাররা শিক্ষকের গলায় জুতার মালা পরিয়ে ভিডিও ধারণ শাস্তি দেয়। এবং তা সকলের উপস্থিতিতে কার্যকর করে। সেই নির্যাতনের একটি ভিডিওচিত্র রাত নাগাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ পেলে শুরু হয় তোলপাড়। পৈচাশিকতার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি সমান্তরালভাবে জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি জানায় অসংখ্য ফেসবুক ব্যবহারকারী।

এনিয়ে বরিশাল প্রেক্ষাপটে উদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হলে শিক্ষক নির্যাতনে জড়িতদের পুলিশ রাতেই গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করে মেহেন্দিগঞ্জ পুলিশ। জড়িতদের গ্রেপ্তারে রাতে সেই অভিযান ব্যর্থ হলেও পরদিন বৃহস্পতিবার ভোরে চেয়ারম্যানের সহযোগী বজলু আকনকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু চেয়ারম্যানসহ সহযোগী পালিয়ে যাওয়ায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছিল না।

পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়- গ্রেপ্তার আতঙ্কে চেয়ারম্যান ও সাবেক মেম্বর সাত্তার সিকদার মুলাদী উপজেলার একটি বাসায় আত্মপোন করে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি টিম সেখানে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে হানা দেয়। একপর্যায়ে তাদের গ্রেপ্তারে সফলতা আসলে নিয়ে যাওয়া হয় মুলাদী থানায়। পরে সেখান থেকে রাতে তাদের মেহেন্দিগঞ্জে নিয়ে যায় পুলিশ।

পুলিশের অপর একটি সূত্র জানায়- শিক্ষককে পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতনের ভিডিওসহ সংবাদ প্রকাশ পেলে তাদের গ্রেপ্তারে নামার খবরে রাতেই চেয়ারম্যান ও সাবেক মেম্বর এলাকায় ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যায়। দুরে কোথায় পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশে বৃহস্পতিবার সকালে তারা নৌপথে পার্শ্ববর্তী উপজেলা মুলাদীতে চলে আসে। এবং সেখানে এক স্বজনের বাসায় আত্মগোপন করে।

বরিশাল জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ জানায়- গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় চেয়ারম্যান এক সহযোগীকে নিয়ে মুলাদীতে স্বজনের বাসায় নিজেকে আত্মগোপন করে আছেন। সন্ধ্যার দিকে সেখানে অভিযান চালিয়ে সহযোগী সাবেক মেম্বর সাত্তার সিকদারসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে মেহেন্দিগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বরিশালটাইমসকে জানান, চেয়ারম্যান ও সাবেক মেম্বরকে হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি শিক্ষককে বেইজ্জত করার অভিযোগ স্বীকার করেছেন। শিক্ষক আলাউদ্দিনের দায়ের করা মামলায় শুক্রবার তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হলে বিচারক কারাগারে পাঠিয়েছেন।’

10 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন