১৩ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

শেবাচিমে জঙ্গি?

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৬


৪ পাকিস্তানি ও ১৪ ফিলিস্তানিসহ
৩৫ ভিনদেশি শিক্ষার্থী আইনশৃঙ্খলা
বাহিনীর বিশেষ নজরদারিতে


বরিশাল: দেশে সম্প্রতি পরপর বেশ কয়েকটি জঙ্গি হামলার ঘটনায় বরিশালের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিশেষ দৃষ্টি ফেলছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। বিশেষ করে বেসরকারি বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এশিয়া মহাদেশের অন্যতম চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় শেবাচিম হাসপাতালকেও রেখেছে কঠোর নজরদারিতে। সেখানে অধ্যয়নরত অন্তত ৪ পাকিস্তানি ও ১৪ ফিলিস্তানি সম্পর্কে প্রতিনিয়ত খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে।

 

সেই সাথে ভিনদেশি আরও অন্তত ১৭ শিক্ষার্থীর ওপরেও এক ধরণের অঘোষিত রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। এমতাবস্থায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে, শেবাচিমে অধ্যয়নরত এই ৩৫ ভিনদেশির মধ্যে কারও সাথে আইএস বা জঙ্গি গোষ্ঠির সাথে যোগসূত্র রয়েছে কী না? যে কারণে বরিশালের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দিকে সর্বদা সতর্ক নজর দিচ্ছে।’

 

নিশ্চিত হওয়া গেছে, চলতি বছরের জুলাই মাসের প্রথম দিকে রাজধানীর গুলশান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার ঘটনার পর দেশব্যাপী তোলপাড় অবস্থা সৃষ্টি হয়। এরপরই দেশবিরোধী এই জঙ্গিগোষ্ঠি প্রতিরোধে দেশবাসির ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় এক ধরণের জিহাদ ঘোষণা করা হয়। এমতাবস্থায় গত মাসের ২৯ তারিখে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত ভিনদেশিদের তথ্য চায় সংশ্লিষ্টদের কাছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক অনুবিভাগের স্মারক-৪২৬ স্বাস্থ্য মন্ত্রাণালয়ের উপ-সচিব খান মো. নুরুল আমীন খান স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ নির্দেশনা আসে বলে শেবাচিম কলেজ অধ্যাপক ডা. ভাস্কর সাহা বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

 

যদিও তার দাবি, আইএস বা কোন জঙ্গিগোষ্ঠির সাথে কোন ছাত্র জড়িত থাকার প্রমান মেলেনি। কিন্তু ক্যাম্পাসে ৪ পাকিস্তানি এবং ১৪ ফিলিস্তানিসহ মোট ৩৫ জন আলাদা ছাত্রাবাসে থাকায় তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তাছাড়া বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিটি ইউনিট এই ৩৫ জনের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের চেষ্টা করছে।

 

শেবাচিম মেডিকেল কলেজের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে সাজিদ রহমান, গোলাম মোস্তফা এবং আলী রহমান নামের ৩ পাকিস্তানি শিক্ষার্থী ভর্তি হন। এরপরই ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয় একইদেশি আরেক শিক্ষার্থী ইকরা নাজিয়ার। মূলত এই ৪ শিক্ষার্থী এখন ক্যাম্পাসে আলাদা একটি ছাত্রাবাসে থাকছেন। তাছাড়া তাদের চলাচল এবং আচারণও একটু ভিন্ন বলে মনে করছে সহকর্মী শিক্ষার্থীরা। যে কারণে এই ৪ চার শিক্ষার্থী কলেজ প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নজরদারিতে রয়েছেন।

 

এ প্রসঙ্গে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র সহকারি কমিশনার (এসি) মো. ফরহাদ সরদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে উপ-পুলিশ কমিশনার (বিশেষ শাখা) জাহাঙ্গির মল্লিক এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সেই ৩৫ ছাত্রকে বিশেষ নজরদারিতে রাখার কথা। পাশাপাশি তাদের সাথে জঙ্গিগোষ্ঠির যোগসূত্র রয়েছে কী না সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

2 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন