২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

শেবাচিম হাসপাতালের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি বাক্সবন্দি

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০১:২৫ অপরাহ্ণ, ১৭ অক্টোবর ২০১৭

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে অত্যাধুনিক ল্যাসিক মেশিনটি। ১২ কোটি টাকার এই আধুনিক মেশিন থাকার পরও সেবা পাচ্ছে না দক্ষিণাঞ্চলের ১১ জেলার চক্ষু রোগীরা। শেবাচিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেশিনটি মেরামতের জন্য বার বার চিঠি দিয়েও কোন সমাধান করতে পারছে না। এমতাবস্থায় সেন্টাল মেডিকেল স্টোর ডিপার্টমেন্ট (সিএমএসডি) সূত্র জানিয়েছে- দেশের টেকনিশিয়ানরা এ মেশিন মেরামত সক্ষম নয়।

যে কারণে সিঙ্গাপুর থেকে চলতি মাসে টেকনিক্যাল পারসন নিয়ে এসে মেশিনটি মেরামত করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এমতাবস্থায় খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে- ২০১৪ সালে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে সিএমএসডি থেকে শেবাচিম হাসপাতালে মেশিনটি প্রেরণ করা হয়েছে। এ মেশিন থেকে ল্যাসিক করানোর ফলে রোগীকে আর চশমা ব্যবহারের প্রয়োজন হয় হয় না। কিন্তু গোড়ার দিকে দক্ষ জনবলের অভাবে এ মেশিনটি চালু করা যাচ্ছিল না। পরে ২০১৫ সালে বিদেশ থেকে কয়েকজন টেকনিক্যাল পারসন এনে মেশিনটি চালু করা হয়।

পাশাপাশি হাসপাতালের ল্যাসিক মেশিনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা দেন ওই টেকনিক্যাল পারসনরা। কিন্তু চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মেশিনটির যন্ত্রাংশে সমস্যা দেখা দেয়ায় বিকল হয়ে পরে। যে কারণে ঢাকা সেন্টাল মেডিকেল স্টোর ডিপার্টমেন্ট থেকে টেকনিশিয়ান এসে মেরামত করে দেয়।

কিন্তু পরবর্তীতে ২ মাসের মাথায় ফের মেশিনটি বিকল হয়ে পড়ে। এর পর দফায় দফায় চিঠি চালাচালি করেও মেশিনটি মেরামত করতে পারেনি শেবাচিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শেবাচিম হাসপাপতালের আইটি বিভাগের ইনচার্জ পরিতোষ কুমার জানান, পার্টে সমস্যা দেখা দেয়ায় প্রায় ৩ মাস ধরে ল্যাসিক মেশিনটি বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে টেকনিশিয়ান খবর দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে জানানো হয়েছে- সিঙ্গাপুর থেকে চলতি মাসে টেকনিক্যাল পারসন এসে মেশিনটি চালু করে দেওয়া হবে।

হাসপাতালের সাবেক পরিচালক চক্ষু বিভাগের প্রধান ডা. নিজাম উদ্দিন ফারুক বলছেন, হাসপাতালের সব মেশিনই পরিচালনায় জটিলতা রয়েছে। কখনো মেশিনের ত্র“টি দেখা দেয়। আবার কখনো মেডিসিন শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এসব মেরামতের জন্য কোন ফান্ড থাকে না।

যে কারণে কোন মেশিন বিকল হলে ঢাকার স্মরণাপন্ন হতে হয়। কিন্তু দেখা যায় যে ঠিকাদার এ মেশিন সরবরাহ করেছে সে কাজ করতে চায় না। কারণ তাদের সাথে যে চুক্তি ছিল তা শেষ। এখন মেশিন ফেলে দেন। এমনই সমস্যায় রয়েছে হাসপাতালের ল্যাসিক মেশিনটির।

অনুরুপ একই প্রসঙ্গে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. আব্দুল কাদির জানিয়েছেন- ডা. সিরাজুল ইসলাম পরিচালক থাকাকালীন এ গুরুত্বপূর্ণ মেশিনটি মেরামতে তাগিদ দিয়ে একাধিকবার চিঠি দিয়েছেন। যার প্রেক্ষিতে একবার মেরামতও করে দিয়েছিল।

কিন্তু ফের বিকল হয়েছে। ঠিকাদারকে মেরামতের জন্য বলা হয়েছে। এ মেশিন মেরামতের সময় এখনো রয়েছে বলে তিনি জানান।’’

 

 

18 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন