১৯শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

শেষ মুহূর্তে ইলিশঘাট সরগরম

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১১:৪৪ অপরাহ্ণ, ১০ অক্টোবর ২০১৬

১১ অক্টোবর রাত ১২টার পর থেকে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ হচ্ছে। তাই শেষ মুহূর্তে ভোলার সব ইলিশ ঘাটগুলো সরগরম হয়ে উঠেছে। সংগৃহীত মাছ কেউ বরফজাত করছেন, কেউ প্যাকেজিং করছেন, আবার কেউ বা যানবাহনে করে সেগুলো নিয়ে যাচ্ছেন লঞ্চঘাটে।

সোমবারই এসব মাছ ঢাকায় পাঠানো হবে। মঙ্গলবার ভোরে সদরঘাটে পৌঁছবে এসব ইলিশ। সেখান থেকে ঢাকার মৎস্য আড়তগুলোতে মঙ্গলবারই শেষ বিক্রি হবে ইলিশ মাছ।

তবে শেষ মুহূর্তে স্থানীয় পর্যায়ে বাসায় বাসায় ফ্রিজে ইলিশ মজুদের হিড়িক পড়েছে।

এবারই সবচেয়ে বেশি ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

ভোলার লালমোহনের বৃহত্তম মৎস্য ঘাট মেঘনার বাতিরখাল ও তেঁতুলিয়া নদীর নাজিরপুর ঘাটে সোমবার শত শত মণ ইলিশ ঢাকার উদ্দেশে লঞ্চযোগে পাঠানো হয়েছে। এদিন ঢাকামুখী ৪টি লঞ্চে ইলিশ পাঠানো হয়।

এছাড়া বাউফল উপজেলার কালাইয়া ঘাট দিয়েও বিপুল পরিমাণ ইলিশ ঢাকার লঞ্চে তুলতে দেখা গেছে।

মেঘনার বাতিরখাল ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ব্যস্তদিন পার করছে জেলেরা। নদী থেকে মাছ নিয়ে আড়তে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই আড়ৎদারদের কাছ থেকে পাইকাররা মাছ কিনে নিচ্ছেন। ঘাট থেকেই মাছে বরফজাত করার পর প্যাকেজিং করে লঞ্চে তুলে দিচ্ছেন ঢাকার পাইকারদের কাছে।

১২ অক্টোবর থেকে মাছ ধরতে পারবেন না তাই শেষ মুহূর্তে জেলেরা নদীতে নেমে বেশি পরিমাণ মাছ ধরার আশায় নদীতে নামেন বলে জানান জেলে সামছুদ্দিন মাঝি।

আড়ৎদার আলমগীর হোসেন বলেন, সোমবার বিকালে এই ঘাট থেকে প্রায় ১শ’ মন ইলিশ ঢাকা পাঠানো হয়েছে। মাছের দামও মোটামুটি ভালো রয়েছে বলে জানান তিনি।

বাতিরখার মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন জামাল (মেম্বার) জানান, পার্টির (ঢাকার ব্যবসায়ী) কাছে সোমবারই মাছ বিক্রি শেষ হবে। এরপর মঙ্গলবারও রাত ১২টা পর্যন্ত জেলেরা মাছ ধরবে। বন্ধের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত এসব মাছ স্থানীয়রা খাবার জন্য কিনবেন।

লালমোহন তেঁতুলিয়া নদীর নাজিরপুর ঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম জানান, মাছের দাম শেষ মুহূর্তে ভালোই যাচ্ছে। বড় ইলিশের হালি ২ হাজার থেকে ২২শ’ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

তিনি আরও জানান, নাজিরপুর ঘাট দিয়ে ৩টি লঞ্চে করে সোমবার প্রায় দেড়শ মন ইলিশ পাঠানো হয়েছে ঢাকায়। মঙ্গলবার আর মাছ পাঠানো যাবে না। ইলিশ ধরা বন্ধের এ সময়ে আমরা জেলেদের বলে দিয়েছি যাতে কেউ নদীতে না নামে।

উপজেলা সহকারী মৎস্য অফিসার আলী আহমেদ আখন্দ জানান, ১২ অক্টোবর থেকে যাতে কেউ নদীতে না নামে সে জন্য ঘাটে ঘাটে প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে। কোস্টগার্ড, পুলিশ নিয়মিত টহল দেবে। মাছ ধরা কোন নৌকা নদীতে পেলে জেল ও জরিমানা করা হবে।

এজন্য ঘাটে ঘাটে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বেও বিশেষ টিম টহল দিবেন বলে তিনি জানান।

11 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন