১১ মিনিট আগের আপডেট বিকাল ১২:৫১ ; মঙ্গলবার ; নভেম্বর ২৪, ২০২০
EN Download App
Youtube google+ twitter facebook
×

শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে আমৃত্যু বজ্রকণ্ঠ ছিলেন মেজর এম এ জলিল

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট
৭:৪৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০২০

আহমেদ জালাল>> নিরবেই কেটে গেলে মুক্তিযুদ্ধের নবম সেক্টর কমান্ডার ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) নেতা মেজর (অব.) এম  এ জলিলের ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ১৯৮৯ সালের ১৯ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। সাফল্যগাঁথা দেশপ্রেমিক এই বীর মুক্তিযোদ্ধার কর্মময় জীবন। দেশের জন্য তার কি যে আত্মত্যাগ ছিলো! জাতির একজন আলোর দিশারীর ন্যায় মহান নেতা মেজর এম এ জলিল। তাঁর কর্মময় জীবনের আদর্শকে ধারণ,লালন এবং পরিচর্যা যেনো এক গভীর অন্ধকারে হাবুডুবু খাছে। দেশপ্রেমিকদের আদর্শকে চাপা রেখে কোন সভ্য সমাজ গড়া   অসম্ভব। মেজর জলিল বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে নতুন ধারার বরপুত্র।

এক অসাধারণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের পক্ষে টানা সংগ্রামী এই লড়াকু সৈনিক বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য এক বিরল এক্সপেরিমেন্টও। এক বর্ণিল-স্বপ্নিল প্রলম্বিত চুল-শ্মশ্রƒমণ্ডিত নায়কের কথা, যিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজবন্দী। আধিপত্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদবিরোধী আন্দোলনের আপসহীন অগ্রসৈনিক। শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে আমৃত্যু বজ্রকণ্ঠ ও সংগ্রামী জননেতা। জাতীয় রাজনীতিতে বর্ণাঢ্য জীবন-বৈচিত্র্যের ব্যতিক্রমী পুরুষ। জাতীয় শত্রু-তাঁবেদার শোষক-জালিমের আতঙ্ক, মজলুমের বন্ধু। স্বজন-প্রিয়জনের প্রিয়মুখ। সহজ-সরল নিরহঙ্কার অথচ অসাধারণ ব্যক্তিত্বের মহিমায় মহিমান্বিত এক ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি।

১৯৪২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেওয়া এ রাজনীতিক ও সামরিক কর্মকর্তা বরিশাল জেলার উজিরপুরে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পুরো নাম মোহাম্মদ আব্দুল জলিল। তবে তিনি মেজর এম এ জলিল নামেই পরিচিত। তার পিতা জোনাব আলী চৌধুরী ও মা রাবেয়া খাতুন। উজিরপুর ডব্লিউবি ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন থেকে ১৯৫৯ সালে তিনি মেট্রিক পাশ করেন। ১৯৬১ সালে পাকিস্তানের মারি ইয়ং ক্যাডেট ইনস্টিটিউশন থেকে আইএ পাস করেন এবং এর পাশাপাশি গ্রহণ করেন সামরিক শিক্ষা। ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান একাডেমি থেকে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করেন। পরে মুলতানে কর্মরত থাকাকালে তিনি ইতিহাসে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬২ সালে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীতে ট্রেনি অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। সামরিক বাহিনীতে চাকুরিরত অবস্থায় তিনি বি.এ পাশ করেন। ১৯৬৫ সালে তিনি কমিশনপ্রাপ্ত হন এবং ১২নং ট্যাঙ্ক ক্যাভালরি রেজিমেন্ট অফিসার হিসেবে তৎকালীন পাক-ভারত যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালে তিনি মেজর পদে উন্নীত হন। তিনি ১৯৭১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ছুটি নিয়ে বরিশালে আসেন এবং মার্চে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠনের সময়ে তিনি কাজ করেছিলেন। তিনি ছিলেন এ দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। ১৯৭৩ সালে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১৯৮৪ সালে তিনি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

পরবর্তীকালে তিনি জাসদ ত্যাগ করে জাতীয় মুক্তি আন্দোলন নামে একটি দল গঠন করেন। লেখালেখিও করতেন তিনি। তার প্রকাশিত গ্রন্থ  সীমাহীন সময় (১৯৭৬), দৃষ্টিভঙ্গি ও জীবনদর্শন, সূর্যোদয় (১৯৮২), অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা (১৯৮৯), Bangladesh Nationalist Movement for Unity: A Historical Necessity, A search for identity. ১৯৮৯ সালের ১৯ নভেম্বর রাত ১০টা ৩০ মিনিটে তিনি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মৃত্যুবরণ করেন। পরে ২২ নভেম্বর তার মৃতদেহ ঢাকায় আনা হয় এবং সামরিক মর্যাদায় দাফন করা

লেখক : নিবাহী সম্পাদক ও বার্তা প্রধান,
৭১ এর মুখপত্র ‘দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ’।

বরিশালের খবর, বিশেষ খবর

আপনার মতামত লিখুন :

 

এই বিভাগের অারও সংবাদ
ভারপ্রাপ্ত-সম্পাদকঃ শাকিব বিপ্লব
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮ | বরিশালটাইমস.কম
বরিশালটাইমস লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।
শাহ মার্কেট (তৃতীয় তলা),
৩৫ হেমায়েত উদ্দিন (গির্জা মহল্লা) সড়ক, বরিশাল ৮২০০।
ফোন: ০৪৩১-৬৪৮০৭, মোবাইল: ০১৮৭৬৮৩৪৭৫৪
ই-মেইল: [email protected], [email protected]
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮
টপ
  মেয়েকে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করতে বন্দি করলো মা, ক্ষোভে আত্মহত্যা  ভোলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু'পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০  বিয়ের প্রলোভন পাত্রীকে রাতভর ধর্ষণ করলো ঘটক ও বর  পঙ্গুত্বের কারণে ভিক্ষুক বেশে হামিদের ইয়াবা পাচার  ভয়াবহ আগুনে জ্বলছে মহাখালীর সাততলা বস্তি!  নতুন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন ফরিদুল হক খান  নেশার করার টাকা না পেয়ে যুবকের আত্মহত্যা!  মহানবী’র (সা.) পবিত্র জন্মভূমিতে এই প্রথম পা পড়লো কোনো ইহুদিবাদী প্রধানমন্ত্রীর  স্ত্রীর সহযোগিতায় শিশুকে ধর্ষণ করল স্বামী  ভোলায় বিয়ের প্রলোভনে নারী কর্মীকে ধর্ষণ করলেন বীমা কোম্পানির ইনচার্জ